কলকাতা, ১০ অক্টোবর ২০২৬: বাঙালির দুর্গাপুজোর আবহে মহালয়া এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনাকে ঘিরে এই দিনে বহু পরিবারে পূর্বপুরুষদের স্মরণ, তর্পণ এবং চণ্ডীপাঠ শোনার রীতি পালন করা হয়। মহিষাসুরমর্দিনীর পরিচিত সুরে ভোরের শুরু বহু বাঙালির কাছে পুজোর আগমনী বার্তা নিয়ে আসে।

মহালয়ার তাৎপর্য কী?
প্রচলিত হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়া পিতৃপক্ষের শেষ দিন এবং দেবীপক্ষের সূচনার সঙ্গে যুক্ত। এই দিনে অনেকে নদী বা জলাশয়ের ঘাটে তর্পণ করে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করেন। ভোরে চণ্ডীপাঠ ও মহিষাসুরমর্দিনী শোনার রীতিও বাংলার সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কোন কোন রীতি পালন করেন অনেকে?
- পরিবারের রীতি অনুযায়ী পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ ও প্রার্থনা।
- ভোরে চণ্ডীপাঠ বা মহিষাসুরমর্দিনী শোনা।
- ঘরে প্রার্থনা, সংযম ও শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা।
- সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্র ও অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
কিছু পরিবারে মহালয়ার দিনে নিরামিষ আহার বা নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চলার রীতি রয়েছে। তবে এসব নিয়ম পরিবার, অঞ্চল ও ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। নির্দিষ্ট খাবার খেলে অমঙ্গল বা অসুস্থতা হবেই—এমন দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই প্রচলিত বিশ্বাসকে তথ্যভিত্তিক স্বাস্থ্য-পরামর্শের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
ভিডিওটি দেখুন
মহালয়া নিয়ে ভিডিওটি দেখতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন:
মহালয়া বাঙালির কাছে শুধু একটি তিথি নয়; এটি স্মৃতি, ভক্তি, সংস্কৃতি এবং মা দুর্গার আগমনের প্রতীক্ষার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক আবেগের নাম।
ছবি: প্রতীকী।