সিসিটিভির শেষ সাক্ষী

0

সিসিটিভর শেষ সাক্ষী

বাজারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে “জনসেবা ফার্মেসি”—এলাকার সবচেয়ে পরিচিত ও বিশ্বস্ত ঔষধের দোকান। বাইরে থেকে দেখলেই বোঝা যায়, দোকানটির প্রতি কতটা যত্ন নেওয়া হয়।

কাঁচের ঝকঝকে শোকেসে ওষুধগুলো সুন্দরভাবে সাজানো, ভেতরে আধুনিক আলো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর প্রতিটি তাকে ওষুধের সুশৃঙ্খল বিন্যাস।

যে কেউ প্রথমবার দোকানে ঢুকলে বুঝতে পারে, এখানে শুধু ওষুধ বিক্রি হয় না, মানুষের প্রতি আন্তরিক সেবাও দেওয়া হয়।

দোকানের একপাশে দাঁড়িয়ে আছে বহু বছরের পুরোনো একটি বিশাল বটগাছ। তার ছায়া যেন সারাদিন পথচারীদের আশ্রয় দিয়ে রাখে। গাছের নিচে মালিক হারুন মিয়া নিজের উদ্যোগে কয়েকটি মজবুত বেঞ্চ বসিয়েছেন।

রোগীর স্বজন, বয়স্ক মানুষ কিংবা দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা সেখানে বসে বিশ্রাম নেন। বিকেলের দিকে বেঞ্চগুলো প্রায়ই ভরে যায় মানুষের আড্ডা, চা আর গল্পে।

হারুন মিয়া শুধু একজন ব্যবসায়ী নন, একজন মানবিক মানুষ হিসেবেও সবার কাছে পরিচিত। কোনো দরিদ্র রোগী টাকা কম নিয়ে এলে তিনি প্রায়ই নিজের লাভের কথা না ভেবে ওষুধ দিয়ে দিতেন। এ কারণেই আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষও অন্য কোথাও না গিয়ে এই ফার্মেসিতেই আসতেন।

ফলে “জনসেবা ফার্মেসি”-র ব্যবসা দিন দিন আরও রমরমা হয়ে উঠছিল। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকানে লেগেই থাকত ক্রেতাদের ভিড়। কিন্তু সেই জমজমাট, বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে ওঠা দোকানটিকেই এক রাতে ঘিরে ফেলল এমন এক রহস্য, যা পুরো বাজারকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।

সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার। পরদিন সাপ্তাহিক হাট বসবে বলে রাত পর্যন্ত দোকানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। রাত সাড়ে দশটার দিকে শেষ ক্রেতাকে ওষুধ দিয়ে ক্যাশের হিসাব মিলাতে বসেন হারুন মিয়া। তার সঙ্গে ছিল দুই কর্মচারী—দশ বছরের বিশ্বস্ত সোহেল এবং নতুন যোগ দেওয়া রবি।

সব হিসাব শেষ করে হারুন মিয়া বললেন,— “সব ওষুধ ঠিকমতো গুছিয়ে রাখো। কাল সকালে অনেক ভিড় হবে।”

সোহেল তাকের ওষুধগুলো গুছিয়ে রাখল। রবি স্টোররুমের তালা পরীক্ষা করে এসে বলল,— “স্যার, সব ঠিক আছে।”

হারুন মিয়া দোকানের প্রতিটি দরজা-জানালা, ক্যাশ কাউন্টার আর সিসিটিভি ক্যামেরা শেষবারের মতো দেখে নিলেন। তারপর তিনজন একসঙ্গে শাটার নামিয়ে বাড়ির পথে রওনা হলেন।

পরদিন সকাল আটটার কিছু আগে হারুন মিয়া দোকানে পৌঁছালেন। দূর থেকেই তার চোখে পড়ল, দোকানের শাটার ঠিক আগের রাতের মতোই তালাবদ্ধ। তিনি তালা খুলে ভেতরে ঢুকতেই বুকটা কেঁপে উঠল।

কাউন্টারের পেছনের লোহার আলমারির দরজা আধখোলা। ভেতরে রাখা দামী ক্যানসারের ইনজেকশন, বিরল ইনসুলিন, কয়েকটি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ এবং ক্যাশবক্সে থাকা চার লাখ টাকার এক টাকাও নেই।

হারুন মিয়ার হাত থেকে চাবির গোছা মেঝেতে পড়ে গেল।

— “এ… এটা কী করে সম্ভব!”

তার চিৎকার শুনে আশপাশের দোকানিরা দৌড়ে এল। মুহূর্তেই পুরো বাজারে খবর ছড়িয়ে পড়ল।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, দোকানের কোনো তালা ভাঙা নয়, জানালার গ্রিলও অক্ষত। যেন চোর দরজা দিয়েই ঢুকেছে, আবার দরজা দিয়েই বেরিয়ে গেছে—কিন্তু কোনো চিহ্ন না রেখে।

খবর পেয়ে থানার উপপরিদর্শক আরিফ ঘটনাস্থলে এলেন। তিনি দোকানের চারপাশে ধীরে ধীরে হাঁটলেন। তারপর একবার বটগাছের নিচে রাখা বেঞ্চগুলোর দিকে তাকিয়ে আবার দোকানের ভেতরে প্রবেশ করলেন।

কয়েক মিনিট নীরবে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে তিনি বললেন,

— “এটা সাধারণ চুরি নয়। যে কাজটা করেছে, সে এই দোকানের প্রতিটি কোণা সম্পর্কে জানত। বাইরে থেকে আসা কোনো চোর এত নিখুঁতভাবে কাজ করতে পারবে না।”

তার কথা শুনে উপস্থিত সবাই একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। দোকানের ভেতরে যেন হঠাৎ আরও ভারী হয়ে উঠল নীরবতা।

আরিফ সোজা সিসিটিভি মনিটরের সামনে গিয়ে বসলেন।

— “চলুন দেখি, ক্যামেরা আমাদের কী গল্প শোনায়।”

আরিফ সিসিটিভির ফুটেজ চালু করলেন। প্রথম কয়েক ঘণ্টা সবকিছুই স্বাভাবিক।

রাত ১২টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত দোকানের ভেতরে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা গেল না। ঠিক ১২টা ১৫ মিনিটে হঠাৎ পুরো পর্দা কালো হয়ে গেল।

পাঁচ মিনিট পর আবার ভিডিও ফিরে এল। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ।

আরিফ ভ্রু কুঁচকে বললেন, — “ক্যামেরা নিজে থেকে বন্ধ হয় না। কেউ ইচ্ছা করেই এটি অকার্যকর করেছে।”

তিনি প্রথমে দুই কর্মচারীকে আলাদা আলাদা জিজ্ঞাসাবাদ করলেন।

রবি ভীত গলায় বলল, — “স্যার, আমি নতুন মানুষ। দোকানের ভেতরের সবকিছু এখনো ঠিকমতো চিনি না।”

কিন্তু সোহেল ছিল একেবারে স্বাভাবিক।

— “আমি দশ বছর ধরে এখানে কাজ করছি।

হারুন স্যার আমার পরিবারের মতো। আমি এমন কাজ কোনো দিন করতে পারি না।”

আরিফ কোনো উত্তর দিলেন না।

এরপর তিনি পুরো দোকান ঘুরে দেখলেন। হঠাৎ তার চোখ পড়ল স্টোররুমের দরজায়। ধুলোর ওপর জুতোর হালকা একটি ছাপ। আশ্চর্যের বিষয়, ছাপটি ভেতরের দিকে গেছে, কিন্তু ফিরে আসার কোনো ছাপ নেই।

তিনি নিচু হয়ে ছাপটি ভালো করে দেখলেন।
তারপর দোকানের পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে বটগাছের নিচে গেলেন।

সেখানে প্রতিদিন বসে থাকা বৃদ্ধ আব্দুল করিমকে জিজ্ঞেস করলেন,

— “চাচা, গত রাতে কিছু দেখেছিলেন?”

বৃদ্ধ কিছুক্ষণ ভেবে বললেন,

— “রাত বারোটার দিকে একটা সাদা মাইক্রোবাস পাঁচ মিনিটের মতো এখানে দাঁড়িয়েছিল। আমি ভেবেছিলাম জরুরি রোগী এসেছে।

তারপর গাড়িটা চলে যায়।”

আরিফের চোখে যেন নতুন আলোর ঝলক দেখা দিল।

তিনি আবার দোকানে ফিরে এসে সোহেলের জুতার দিকে তাকালেন। জুতার তলায় যে নকশা, সেটি ঠিক সেই ছাপের সঙ্গে মিলে যায়।
কিন্তু তিনি সঙ্গে সঙ্গে কাউকে কিছু বললেন না।

বরং শান্তভাবে বললেন,

— “তদন্ত এখনই শেষ নয়। আসল অপরাধী নিজেই খুব শিগগির নিজের ভুল করে ফেলবে।”

ঘরে উপস্থিত সবাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল। শুধু সোহেলের কপালে ছোট ছোট ঘামের ফোঁটা জমতে শুরু করেছে।

পরদিন সকালে আরিফ আবার জনসেবা ফার্মেসিতে এলেন। সোহেলকে গ্রেপ্তার করার সব প্রস্তুতিই ছিল। জুতার ছাপ, সিসিটিভি বন্ধ হওয়ার সময় তার উপস্থিতি—সবকিছুই যেন তার বিরুদ্ধে যাচ্ছিল।

ঠিক তখনই আরিফের ফোনে ফরেনসিক বিভাগের রিপোর্ট এল।

রিপোর্টে লেখা—স্টোররুমের দরজায় যে আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে, তা সোহেলের নয়।
আরিফ থমকে গেলেন।

তিনি আবার সিসিটিভির হার্ডডিস্ক বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠালেন। অনেক চেষ্টা করে মুছে যাওয়া কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও উদ্ধার করা গেল।

ভিডিওতে দেখা গেল, ক্যামেরা বন্ধ করার আগে একজন লোক ক্যামেরার দিকে হাত বাড়িয়ে একটি কালো স্প্রে ছিটিয়ে দেয়।

মুখ দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু তার হাতে ছিল সাদা রঙের চিকিৎসকদের ব্যবহৃত ল্যাটেক্স গ্লাভস।

আরিফ হঠাৎ মনে করলেন, এমন গ্লাভস দোকানের কর্মচারীরা ব্যবহার করে না। এগুলো সাধারণত মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ বা ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের লোকেরা ব্যবহার করে।

তদন্তে জানা গেল, ঘটনার আগের দিন একটি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি নতুন ইনজেকশনের হিসাব নেওয়ার অজুহাতে স্টোররুমে বেশ কিছুক্ষণ একা ছিল।

তার বাসায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হলো চুরি হওয়া বিরল ইনজেকশনগুলোর একটি অংশ।
সবাই ভাবল, রহস্য শেষ।

কিন্তু আরিফ চুপচাপ হারুন মিয়ার অফিস কক্ষে ঢুকলেন। টেবিলের ওপর একটি প্রেসক্রিপশন প্যাড পড়ে ছিল। নিচের পাতায় কলমের চাপের দাগ রয়ে গেছে।

একটি পেন্সিল ঘষতেই লেখা ভেসে উঠল—
“আজ রাত ১২:১৫।

ক্যামেরা ৫ মিনিট বন্ধ থাকবে। পিছনের দরজা খোলা থাকবে।”

নিচে কোনো নাম নেই।

আরিফ ধীরে ধীরে হারুন মিয়ার দিকে তাকালেন।

হারুন মিয়া ফ্যাকাসে হয়ে গেলেন।

“আমি… আমি শুধু দোকানের হিসাব জানতে চেয়েছিলাম। চুরি হবে জানতাম না…”

ঠিক তখনই মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ সব স্বীকার করল।

সে বলল, “দোকানের ভেতরের তথ্য আমি হারুন সাহেবের কাছ থেকেই পেয়েছিলাম।

তিনি ভেবেছিলেন শুধু স্টকের হিসাব মিলবে।

কিন্তু আমি সুযোগ নিয়ে চুরি করি।”

আরিফ শান্ত গলায় বললেন,

“অপরাধ সব সময় চুরি দিয়ে শুরু হয় না। কখনও কখনও শুরু হয় একটি ভুল বিশ্বাস থেকে।”

পুলিশ মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভকে গ্রেপ্তার করল। হারুন মিয়ার বিরুদ্ধে অবহেলা ও অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে মামলা হলো।

ফার্মেসি আবার চালু হলো, কিন্তু বটগাছের নিচে বসা মানুষগুলো আজও বলে—

“তালা ভাঙেনি, কিন্তু ভেঙে গিয়েছিল বিশ্বাস।

আর বিশ্বাস ভাঙার শব্দ সবচেয়ে ভয়ংকর।”

পুলিশের গাড়ি ধীরে ধীরে বাজার ছেড়ে চলে গেল। চারদিকে আবার নীরবতা নেমে এলো।

জনসেবা ফার্মেসি-র সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল বটগাছটি যেন আগের চেয়ে আরও গম্ভীর হয়ে উঠেছে। তার পাতাগুলো হালকা বাতাসে দুলছে, কিন্তু সেই শব্দেও যেন এক অদ্ভুত বিষণ্নতা।

হারুন মিয়া দোকানের ভেতরে একা বসে রইলেন।

এত বছরের সুনাম, মানুষের বিশ্বাস—এক রাতেই সবকিছু যেন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

হঠাৎ তার মনে হলো, শেষবারের মতো সিসিটিভির ফুটেজটা আরেকবার দেখা উচিত।

তিনি কম্পিউটার চালু করলেন।

ভিডিও ধীরে ধীরে চলতে লাগল।

রাত ১২টা ১৪ মিনিট…

সবকিছু স্বাভাবিক।

হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল দোকানের বাইরের ক্যামেরায়।

বটগাছের নিচের বেঞ্চে একজন বৃদ্ধ বসে আছেন। সাদা পাঞ্জাবি, সাদা দাড়ি, হাতে একটি পুরোনো লাঠি।

তিনি একদৃষ্টিতে ফার্মেসির দিকে তাকিয়ে আছেন।

হারুন মিয়া বিস্মিত হয়ে ফিসফিস করলেন,

— “এই লোকটা কে?”

তিনি ভিডিও থামিয়ে জুম করলেন।

বৃদ্ধ ধীরে ধীরে মুখ তুলে সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকালেন।

তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক রহস্যময় হাসি।

ঠিক সেই মুহূর্তে ভিডিওটি ঝাপসা হয়ে গেল।
কয়েক সেকেন্ড পর আবার পরিষ্কার হলো।
কিন্তু বেঞ্চটি তখন সম্পূর্ণ খালি।

হারুন মিয়ার বুকের ভেতর কেমন যেন কেঁপে উঠল।

পরদিন সকালে তিনি বাজারের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ আব্দুল গফুরের কাছে গিয়ে বৃদ্ধের বর্ণনা দিলেন।

সব শুনে বৃদ্ধের মুখের রঙ বদলে গেল।

তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,

— “তুমি যাকে দেখেছ, তাকে আমরা কেউ দেখতে চাই না।”

— “মানে?”

বৃদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

— “প্রায় ত্রিশ বছর আগে এই বটগাছের নিচেই একজন ওষুধ ব্যবসায়ী ডাকাতদের হাতে খুন হয়েছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি শুধু একটাই কথা বলেছিলেন—’মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করো, কিন্তু মানুষের বিশ্বাস নিয়ে নয়।

‘ তারপর থেকে বাজারে যখনই কোনো বড় বিশ্বাসঘাতকতা বা অন্যায় ঘটে, অনেকেই বলে ওই বৃদ্ধকে নাকি এই বেঞ্চে বসে থাকতে দেখা যায়।”

হারুন মিয়া কোনো কথা বলতে পারলেন না।

তিনি দৌড়ে দোকানে ফিরে এসে আবার সেই ফুটেজ চালালেন।

কিন্তু এবার সেখানে কিছুই নেই।

বটগাছ আছে…

বেঞ্চ আছে…

কিন্তু কোনো বৃদ্ধ নেই।

যেন তিনি কখনো ছিলেনই না।

হারুন মিয়া ধীরে ধীরে মনিটর বন্ধ করে দোকানের বাইরে এসে বটগাছটার দিকে তাকালেন।

ঠিক তখনই বাতাসে শুকনো পাতাগুলো একসঙ্গে ঝরে পড়ল।

আর কোথা থেকে যেন ভেসে এলো একটি ভারী, শান্ত কণ্ঠ—

“চুরি হওয়া টাকা ফিরে পাওয়া যায়… চুরি হওয়া ওষুধও ফিরে পাওয়া যায়… কিন্তু একবার মানুষের বিশ্বাস হারিয়ে গেলে, তার কোনো ওষুধ পৃথিবীর কোনো ফার্মেসিতে বিক্রি হয় না।”

হারুন মিয়া চারদিকে তাকালেন।

কেউ নেই।

শুধু বটগাছের নিচের খালি বেঞ্চটি নীরবে দাঁড়িয়ে আছে।

আর সেই নীরবতাই যেন বলে দিচ্ছে—
সব রহস্যের সমাধান হয়, কিন্তু কিছু সত্য মানুষের বিবেকের ভেতর আজীবন অমীমাংসিত হয়ে থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here