কবিতা – বাগমুন্ডীর মেয়ে

0

বাগমুন্ডীর মেয়ে
সুদীপ ভড়

আজ অংক পরীক্ষার খাতা বের হুইচে
খাতায় লম্বর দ্যাখে চোখ চড়কগাছ
ইতু কিছু লিখে শুন্য বটে
অংক ব‌ইঠো দমে পড়েছি, লিখেছিও দমে বটে,
কিন্তুক শুন্য কেনে সেটা বুইঝতে পারলুম লাই।
জানবার লাইগা গেলুম মাস্টরের কাইছে।
বুইলাম অত কিছু লিখে মোটে শুন্য।
মাস্টর ব‌ইল ভালো কঁরে খাতাটা দ্যাখ বটে,
চারঠো যোগ পড়েছে, চারঠো বিয়োগ পড়েছে।
একটাও ঠিক হয় লাই, সব‌ই হিসাবে ভুল।

মুই বাগমুন্ডীর মেয়ে।
বাপ নাম রেখেছিল দূগ্গা।
লোকে বলে কাঠকুড়ানি।
ছোটো বোন হ‌ওয়ার পর বাপটা গেছে মরে।
সংসারে চারঠো লোক।
মা, মুই আর দুই বোন।
বড়ো বোন সবে ইস্কুলে ভর্তি হুয়েছে।
মা আর আগের মত খাইটতে পারে না।
চারজনের পেটের ভাত জোগাতে, চার বাড়ি কাজ করি।
ঘর মোছা, বাসন মাজা থেইকা সব….. সব কাজ করি।
তারপর জঙ্গল থেইকা কাঠ কুড়িয়ে এনে
ভাত ও শাক সেদ্ধ করতে হয়।
খাইটতে খাইটতে হাতের রেখাগুলো আর স্পষ্ট লাই।
দ্যাখ মাস্টর দ্যাখ।
তাই যোগ-বিয়োগ ভুল হুইচে।
মাস্টর মুদের জীবনে শুধুই দুঃখ
আর আনন্দ সব বিয়োগ হুইচে।
পেট যখন খিদেয় কাঁদে তখন লেখাপড়া…

বাপ যখন বেঁচে ছিল শুধু বলতো বড় বিটির এবার বিহা দিয়ে দিই।
হামাকে বিদায় করলেই বাঁচে।
মা কিন্তুক তা লয়।
মা বলতক অত ছুটুতে বিহা কিসের।
আর পাঁচটা বেটি ছিলা যে রকম যাচ্ছে ইস্কুলে, তেমনি যাক কেনে।
দু-চার পাতা লেঁখাপড়া করে আসুক।
তারপর ভালো ছিলা দ্যাখে বিহা দিও।
মাস্টর তুমি বলছো হিসাব ভুল করেছি তাই শূন্য দিচো।

পুজোর সময় বাবুরা সব আসে লতুন জামা দিতে।
অনেক বাবু আসে, ফটোক তোলে, কত্তো ভাবে ওরা।
গেলেক বছর পুজোয় পাঁচটো জামা পেয়েছি।
খুব আনন্দ হুয়েচিল, কিন্তুক……
ছোট বোনটা যখন দুধের জন্য কাঁদে তখন….
জীবনের সব অংকটার হিসাব উল্টাপাল্টা হয়ে যায়।
আর মাস্টর, তুমি বলচ খাতায় হিসাব ভুল করেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here