সিনেমা প্রেমীদের বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুর্গাপুরে সফলভাবে সম্পন্ন হলো প্রথম ‘দুর্গাপুর ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’ (Durgapur Short Film & Music Album Festival)। দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত হয় এই দুই দিনব্যাপী জমকালো চলচ্চিত্র উৎসব। এ.জি প্রোডাকশন (এসজি প্রোডাকশন), কাজল ফিল্মস এবং এমথ্রি (M3) ইভেন্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ আসরে উপস্থিত ছিলেন টলিউডের বিশিষ্ট শিল্পী ও বিশিষ্টজনেরা। প্রথম বছরের এই উদ্যোগেই চলচ্চিত্র নির্মাতা, কলাকুশলী ও দর্শকদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে।
উদ্বোধনী আসরে চাঁদের হাট বসেছিল সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী, মহানায়ক উত্তম কুমারের নাতনি দেবলীনা কুমার, খ্যাতনামা সঙ্গীত পরিচালক অশোক ভদ্র, বিশিষ্ট চিত্র পরিচালক বাদল সরকার ও পরিচালক বীরেশ চট্টোপাধ্যায় (বিবেক চট্টোপাধ্যায়)। এ ছাড়াও বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত থেকে উৎসবের গৌরব বৃদ্ধি করেন ‘ইন্টারন্যাশনাল দিঘা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এর প্রতিনিধিবৃন্দ—সৌমেন সেন ও সুব্রত চ্যাটার্জী।
উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল নির্বাচিত স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ও মিউজিক ভিডিও প্রদর্শনী। প্রাথমিক বাছাইপর্বে প্রায় ৪৫টি ছবি জমা পড়ার পর সেখান থেকে নির্বাচিত ১২টি সেরা শর্ট ফিল্ম ও মিউজিক অ্যালবাম প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে দুর্গাপুরের স্থানীয় প্রতিভার একটি ছবি এবং কলকাতার তরুণ নির্মাতাদের ১১টি অনন্য সৃষ্টি স্থান পায়। ফলে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি কলকাতার সৃজনশীল কাজ সরাসরি চাক্ষুষ করার বিরল সুযোগ পান শিল্পনগরীর দর্শকেরা।
উৎসবের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশিষ্ট চিত্র পরিচালক বাদল সরকার বলেন, “বর্তমানে দর্শকেরা দীর্ঘ সময়ের চেয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবির প্রতি বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। তিন ঘণ্টার টানটান কাহিনীকে যখন ৩০ মিনিটে ফুটিয়ে তুলতে হয়, তখন খুব বেশি বাণিজ্যিক লাভ না থাকলেও চলচ্চিত্রপ্রেম থেকেই এই শর্ট ফিল্মগুলো তৈরি হচ্ছে। দুর্গাপুরে এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম তৈরি হওয়া অত্যন্ত প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।” দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে সিনেমা প্রদর্শনের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণ ও সমসাময়িক ধারা নিয়ে তরুণ ও অভিজ্ঞদের গভীর আড্ডা জমে ওঠে। আয়োজকদের মতে, শিল্পাঞ্চলে সুস্থ ধারার সিনেমা চর্চাকে এগিয়ে নিতে এবং নতুন প্রতিভাকে মূলধারায় তুলে ধরতে দুর্গাপুর ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল আগামী দিনে এক অন্যতম মাইলফলক হয়ে থাকবে
