কলকাতার ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা। হঠাৎ এক সকালে বিখ্যাত ব্যবসায়ী রোহিত সেনের অফিসে চাঞ্চল্য—তার ব্যক্তিগত সেফ থেকে উধাও একটি নীল খাম। খামটির ভেতরে ছিল একটি গোপন চুক্তিপত্র, যার মূল্য কোটি টাকারও বেশি।
কেসটি হাতে নিলেন গোয়েন্দা অর্ণব মুখার্জি—তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, শান্ত স্বভাব, আর সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের জন্য পরিচিত।
অর্ণব প্রথমেই অফিসের তিনজন মূল কর্মচারীর ওপর সন্দেহ করলেন—ম্যানেজার সুমিত, সেক্রেটারি মীনা, আর সিকিউরিটি হেড বিকাশ। প্রত্যেকেরই সেফে প্রবেশের সুযোগ ছিল, কিন্তু কেউই দোষ স্বীকার করল না।
অর্ণব সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখলেন। আশ্চর্যজনকভাবে, ঠিক যেই সময়ে খামটি চুরি হয়েছে, সেই সময়ের ফুটেজটি হঠাৎ ব্ল্যাঙ্ক!
“খুবই পরিকল্পিত কাজ,” মনে মনে বললেন তিনি।
তিনি অফিসে গিয়ে সবার আচরণ লক্ষ্য করতে লাগলেন। মীনা অস্বাভাবিকভাবে নার্ভাস, সুমিত খুবই আত্মবিশ্বাসী, আর বিকাশ যেন কিছু লুকোতে চাইছে।
হঠাৎ অর্ণব একটি ছোট বিষয় খেয়াল করলেন—সেফের পাশে টেবিলে একটি কলম পড়ে আছে, যার কালি এখনও ভেজা। তিনি সেটি তুলে নিয়ে দেখলেন, এটি একটি বিশেষ ধরনের ইঙ্ক পেন, যা শুধুমাত্র সুমিত ব্যবহার করে।
অর্ণব হাসলেন। “খেলাটা শেষ,” বললেন তিনি।
পরদিন সবাইকে ডেকে অর্ণব বললেন,
“চুরি করেছে সুমিত। সিসিটিভি বন্ধ করে সে সেফ খুলে খামটি নিয়েছে। কিন্তু তাড়াহুড়োয় তার কলম ফেলে যায়, আর সেই কলমই তার বিরুদ্ধে প্রমাণ।”
সুমিত প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে ভেঙে পড়ে স্বীকার করল।
সে প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির কাছে সেই গোপন তথ্য বিক্রি করতে চেয়েছিল।
রোহিত সেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন।
অর্ণব শান্তভাবে বললেন, “অপরাধ যতই নিখুঁত হোক, ছোট একটি ভুলই সত্যকে প্রকাশ করে দেয়।”
নীল খামের রহস্যের সমাধান হলো, আর অর্ণব মুখার্জির খ্যাতি আরও একধাপ বাড়ল।
