পরাধীনতার শৃঙ্খলাবদ্ধ এক জাতি ফিলিস্তিন

*পরাধীনতার শৃঙ্খলাবদ্ধ এক জাতি ফিলিস্তিন*
―জুবায়ের আহসান

ফিলিস্তিনের আকাশে আজ আগুনের ফুলকি
আর বোমারু বিমানের শব্দ,
ভাগ্যাহত মুসলমানের হাহাকার, কান্না,
আর দীর্ঘশ্বাসে ভারী
বাতাসে বারুদের গন্ধ।
ইজরাইলী বর্বরতা,রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস,পাশবিক জুলুম
জবরদখল ও আগ্রাসন,
সুদীর্ঘ সাড়ে সাত দশক ধরে চালিয়ে যাচ্ছে
নারকীয় হামলা,হত্যাযজ্ঞ ও নিপীড়ন।
বিশ্বের শীর্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থা রাষ্ট্রসংঘের
দ্বিচারিতা ও বৈষম্যমূলক আচরণ,
ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার নেই কোন হেলদোল
নেই কোন মাথাব্যথার কারণ।
শুধুমাত্র সন্ত্রাস ও সহিংসতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত
‘ইজরাইল’-একটি আধুনিক দেশের নাম,
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে জানিয়েছিলেন সমর্থন
গান্ধীজী থেকে অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকার।
বর্তমান ভারতের সাম্প্রদায়িকতাবাদী, উন্নয়ন বিরোধী
ও সাম্রাজ্যবাদীদের দোসর মোদী সরকার,
ঠেলায় পড়ে শেষকালে জানিয়েছে সমর্থন ফিলিস্তিনের উপর।
বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসা
সম্পূর্ণভাবে ফিলিস্তিনের সার্বভৌম অধিকার,
ইজরাইল অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন দাবিদার।
ইউনেসকো কয়েক বছর আগে তাদের রায়ে
একথা বলেছে পরিষ্কার,
কট্টর যায়নবাদীরা ইসলামী ঐতিহ্যবাহী ইবাদাতগাহ
মুসলিম উম্মাহর প্রথম কিবলাকে
রেখেছে করে অধিকার।
পৃথিবীর অধিকাংশ মিডিয়ার মালিক
আধিপত্যবাদীদের দোসর,
বর্তমান গণমাধ্যম যেটুকু তাদের জন্য ক্ষতিকর নয়
সেটুকু সত্য করে প্রচার।
যতটুকু তাদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন
ততটুকু মিথ্যা করে প্রচার,
তথাকথিত গণমাধ্যম স্বার্থনিরপেক্ষ নয়
ভয়ানক পক্ষপাত দোষে দুষ্ট,
এরাই প্রভুদের নির্দেশ মেনে সকল ফিলিস্তিনিদের
সন্ত্রাসী বলে করে চলেছে প্রচার।
যায়নিষ্ট তথা ইহুদীবাদীরা অন্যায় অত্যাচারের
চালাচ্ছে স্টীম রোলার,
খোদ ইজরাইলের মধ্যে এমন লোকজন রয়েছে
আপামর সাধারণ জনতার।
যারা ইজরাইলের কুকর্মকে করে না সমর্থন
বড় একটা সংখ্যার,
ইহুদীবাদী রাষ্ট্রটি কখনোই
ধার ধারেনি মানবতার।
প্রত্যেকের আছে এ অধিকার,
জীবন,সম্পদ,ঘর-বাড়ি,দেশ
জমি-জমা রক্ষার,
‘হামাস’–ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী
মজলুম মানুষের সিপাহশালার।
জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন সার্বভৌম
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন,
মধ্য প্রাচ্যে অশান্তি নির্মূলে
সর্বজন গ্রাহ্য স্থায়ী সমাধান,
অভিমত ব্যক্ত করেছে
রাশিয়া,তুরস্ক ও চীন।
সারা বছর ধরে চলে প্যালেস্টাইনে এয়ার স্ট্রাইক
কোথায় থাকো বাছা তখন?
যখন আবাল বৃদ্ধ বণিতাদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়
তখন তোমরা কোথায় থাকো বাপধন?
নামাযের জামাতে অতর্কিতে গুলি চালানো হয়
কোথায় থাকো খোকাবাবুর দল তোমরা তখন?
শক্তিমান বিশ্ব একটি জাতিকে
শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচিতির কারণ,
কোনঠাসা করে রাখলো বছরের পর
বছর ধরে এমন।
দশকের পর দশক ধরে তাদের সঙ্গে করা হয়েছে
পশুর মতো আচরণ,
আশা করা হলো নিরবে তারা
‘বুদ্ধং স্মরণং গচ্ছামী’ উচ্চারণে
শান্তির বাণী করবে বর্ষণ।
ফিলিস্তিনবাসীদের জান-মাল
ইজ্জত আব্রুর নিরাপত্তা রক্ষার,
আন্তর্জাতিক মঞ্চে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক
লড়াই জারি রাখার,
দ্বীনি ও ঈমানী দায়িত্ব–এক হওয়া
বিশ্ব মুসলিম জনতার।
আজকের যুগে খালিদ বিন ওয়ালিদের মতো
সেনাপতিকেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার না করে,
মোকাবিলা করা যাবে না শত্রুর।
আরব দুনিয়ায় রাজতন্ত্র তথা
মুলুকিয়াত থাকবে যতদিন,
ইসলামের সোনালী সুদিন
আসতে ব্যাহত হবে ততদিন।
আয়াতুল্লাহ খোমেইনী ইসলামী বিপ্লবের
দিনগুলিতে তুলেছিলেন স্লোগান,
‘লা শিয়া,লা সুন্নি,নাহনু মুসলিমুন’,
আমরা শিয়া নই,সুন্নি নই
আমরা মুসলমান।
‘লা শারকিয়া,লা গারবিয়া
ইসলামিয়া,ইসলামিয়া’,
প্রাচ্য নয়,পাশ্চাত্য নয়
ইসলাম,ইসলাম।
শিয়া সুন্নির বিভক্তি যাবে মুছে
ইমাম মাহদীর পতাকাতলে,
যারা ফির্কার ভিত্তিতে মুসলমানদের
বাঁটোয়ারা করে রেখেছে তলে তলে।
তাদের মতিভ্রমে মুসলিমরা
প্রভাবিত হবেনা সেদিন,
দেওবন্দী,বেরেলী,আহলে হাদীস ফির্কার ভিত্তিতে
থাকবে না পরিচয় সেদিন।
বাগদাদ শরীফ,বেরেলী শরীফ,আজমীর শরীফ
নকশবন্দিয়া,চিস্তিয়া,কাদেরিয়া
এসবেরও হবে অবসান,
ইমাম মাহদী ও হযরত ঈশা ইবনে মারিয়াম
যখন করবে আগমন।
থাকতে পারে কি কারণ?
তোমার খোদার পথে সেইসব পুরুষ, স্ত্রীলোক
ও শিশুদের খাতিরে করবে না
লড়াই ও জীবন পণ?
যারা দুর্বল হওয়ার কারণে সহিতেছে
অসহ নির্যাতন,
করিতেছে ফরিয়াদ হে খোদা!
আমাদেরকে এই জনপদ থেকে করো বহির্গমন,
অত্যাচারী ও যালেম যার অধিবাসীগণ।
তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য কোন বন্ধু,দরদী
ও সাহায্যকারী করো প্রেরণ।
পরাধীনতার শৃঙ্খলাবদ্ধ ও উন্মুক্ত কারাগারে বন্দি
এক জাতি ফিলিস্তিন
হে আমার সাধনার মঞ্জিল!
হে আমার সাধের ফিলিস্তিন!
আবার জেগে উঠেছে মুসলমান,
ঐক্যের ভেদ আবারও হয়েছে মজবুতী- করণ।
বিজয়ের লাল সূর্য ছিনিয়ে এনে
আমি তোমার শান্তি নীড়ে ফিরে যাবো,
এই হোক আমাদের মরণ পণ।
*___________*

নিমদীঘি, উলুবেড়িয়া, হাওড়া-৭১১৩১৬,
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।মোবাইল-৯০৩৮৬৭০৬৬৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here