রিষড়ায় বর্ণাঢ্য হকি উৎসব: লালবাজারের পুলিশ আধিকারিক তথা জাতীয় খেলোয়াড় বাদল বর্মনের হাত ধরে এগোচ্ছে আগামীর তারকারা
নিজস্ব প্রতিনিধি, রিষড়া: ক্রীড়া মানচিত্রে রিষড়ার হকি ঐতিহ্যের মুকুটে যুক্ত হলো আরও একটি নতুন পালক। রিষড়া হকি ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালনায় এবং জাতীয় স্তরের প্রথিতযশা খেলোয়াড় তথা কলকাতা পুলিশের লালবাজার সদর দপ্তরে কর্মরত আধিকারিক বাদল বর্মনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল একটি মনোজ্ঞ ও দিনব্যাপী হকি টুর্নামেন্ট। মূলত ক্ষুদে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতেই এই অনবদ্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল।
উপস্থিত নক্ষত্রপুঞ্জ
এদিনের টুর্নামেন্টটি রিষড়ার ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন জেলা স্তরের বিশিষ্ট খেলোয়াড় হিরান্ময় অধিকারী সহ বহু প্রবীণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়বৃন্দ। মাঠের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে পরিচালনা করেন সৌভিক দাস (মামা)।
সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণী
প্রতিযোগিতার শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন কানাইপুর শ্রী গুরু হাই স্কুলের বিশিষ্ট শিক্ষিকা শ্রীমতি মন্দিরা দাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ওই বিদ্যালয়েরই ক্রীড়াপ্রেমী শিক্ষক কল্যাণ বাবু। উপস্থিত অতিথিরা প্রত্যেকেই বর্তমান সময়ে মোবাইলের নেশা কাটিয়ে শিশুদের মাঠে ফেরানোর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
অমরেশ সরকারের স্বপ্ন ও বাদল বর্মনের লড়াই
এই হকি ট্রেনিং সেন্টারের ইতিহাস দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি প্রাচীন। কানাইপুর শ্রী গুরু হাই স্কুলের প্রাক্তন ক্রীড়া শিক্ষক শ্রী অমরেশ সরকারের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতেই এই প্রতিষ্ঠানের জন্ম। বর্তমানে অমরেশ বাবু অবসর নিলেও, তার সেই লক্ষ্যকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন বাদল বর্মন। লালবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মরত থাকার কঠিন ব্যস্ততার মাঝেও, তিনি হকিকে ভালোবেসে নিজের রক্তবিন্দু দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রেখেছেন। তার হাত ধরেই আগামীর খেলোয়াড়রা আলোর দিশা পাচ্ছে।
সাফল্যের জয়যাত্রা
দীর্ঘ তিন দশকে এই সেন্টারটি হয়ে উঠেছে জাতীয় হকি খেলোয়াড় তৈরির কারখানা। এখান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বহু ছাত্র-ছাত্রী আজ:
* হকি বেঙ্গল ও কলকাতা লিগে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
* স্কুল ন্যাশনাল ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে।
* জাতীয় স্তরের একাধিক মঞ্চে বাংলার নাম উজ্জ্বল করেছে।
* এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে বহু প্রতিভাবান খেলোয়াড় আজ বিভিন্ন সরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে।সহযোগিতার আর্জি
রিষড়া হকি ট্রেনিং সেন্টার আজ কেবল একটি কোচিং ক্যাম্প নয়, এটি ভারতীয় হকির ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর। উদ্যোক্তাদের মতে, যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি বা সরকারি স্তরের সহযোগিতা পাওয়া যায়, তবে পরিকাঠামোর আরও উন্নতি ঘটানো সম্ভব। সঠিক সুযোগ পেলে এখান থেকেই হয়তো আগামী দিনে ভারতীয় জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার মতো অলিম্পিয়ান তৈরি হবে।
সহযোগিতার আর্জি
রিষড়া হকি ট্রেনিং সেন্টার আজ কেবল একটি কোচিং ক্যাম্প নয়, এটি ভারতীয় হকির ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর। উদ্যোক্তাদের মতে, যদি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি বা সরকারি স্তরের সহযোগিতা পাওয়া যায়, তবে পরিকাঠামোর আরও উন্নতি ঘটানো সম্ভব। সঠিক সুযোগ পেলে এখান থেকেই হয়তো আগামী দিনে ভারতীয় জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার মতো অলিম্পিয়ান তৈরি হবে।
