28 C
Kolkata
Wednesday, August 12, 2026
REG NO: WB-12-000376 স্থাপিত: ২০১৯ WWW.INTERNATIONALNEWSTAR.COM

INTERNATIONAL NEWSTAR

বর্ষ: 05 সংখ্যা: 105 Wednesday, 12 August 2026 মূল্য: ৫.০০/- পৃষ্ঠা: 1

একদল তরুণের হাত ধরে রেজিনগরে ইতিহাস: মহাসমারোহে সম্পন্ন হলো রেজিনগর সাহিত্য উৎসব

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে বাঙালির সম্পর্ক আত্মার মতোই নিবিড়। ভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবনের রক্ত ঢেলে দেওয়া এই জাতি চিরকালই সাহিত্যকে অস্তিত্বের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে ধারণ করেছে। সেই চিরন্তন সাহিত্যপ্রেমকে হৃদয়ে ধারণ করে রেজিনগরের বুকে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল “রেজিনগর সাহিত্য উৎসব—২০২৬”। রেজিনগর নবাব সিরাজউদ্দৌলা সাহিত্য পরিষদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই উৎসবের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল পরিচালন কমিটির অধিকাংশ সদস্যেরই তরুণ বয়স। মোহাদ্দেস সেখ, ফারুক আহাম্মেদ, সাবির আহমেদ, আব্দুল সামাদ ও সেলিম সেখ-সহ তরুণ উদ্যোক্তাদের এই সুসংগঠিত ও মননশীল উদ্যোগকে এলাকার সুধীসমাজ, সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ এবং শিক্ষাবিদেরা আন্তরিক সাধুবাদ জানিয়েছেন।গত ২ আগস্ট ২০২৬, রবিবার, রেজিনগরের ঐতিহ্যবাহী রামপাড়া মাঙ্গনপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় এই সাহিত্য উৎসব। আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতে কাটা এবং পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিয়ে বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট গবেষক তথা শ্রীপত সিং কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. দেবযানী ভৌমিক (চক্রবর্তী)। উদ্বোধনী পর্বে তাঁর সহজ-সরল ব্যক্তিত্ব,…

জন্মদিনে বিলাসবহুল আয়োজন বদলে সেবার বার্তা, এগরার সমাজসেবী উজ্জয়িনীর অন্যরকম উদ্‌যাপন

জন্মদিনে বিলাসবহুল আয়োজন বদলে সেবার বার্তা, এগরার সমাজসেবী উজ্জয়িনীর অন্যরকম উদ্‌যাপনজন্মদিন মানেই সাধারণত ঝলমলে আয়োজন, কেক কাটা, সাজসজ্জা আর বন্ধুদের নিয়ে খাওয়া-দাওয়ার উৎসব। তবে এই চেনা উদযাপনের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার বিশিষ্ট সমাজসেবী উজ্জয়িনী ব্যানার্জি। অনাড়ম্বরভাবে সামাজিক দায়বদ্ধতাকে সঙ্গী করে নিজের বিশেষ দিনটিকে প্রান্তিক মানুষের সেবায় উৎসর্গ করলেন তিনি।‘উই কেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর কর্ণধার তথা পেশায় শিক্ষিকা উজ্জয়িনী ব্যানার্জি নিজের জন্মদিনে কোনো ব্যক্তিগত উল্লাসে না মেতে সকাল থেকেই নেমে পড়েন এগরা ও তার আশপাশের দুস্থ মানুষদের সাহায্যে। প্রবীণ ও অসহায় মানুষদের হাতে তুলে দেন নতুন বস্ত্র—শাড়ি ও ধুতি। পাশাপাশি শিশু এবং শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের জন্য বিতরণ করেন পুষ্টিকর ফল ও হরলিক্স।নিজের এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে উজ্জয়িনী জানান, আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে অর্থ ব্যয় করার চেয়ে সেই টাকায় কয়েকটি অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ ও আসল উপহার।উল্লেখ্য, করোনা মহামারী, আমফান, যশ কিংবা অন্যান্য…

বন্দে মাতরম মঞ্চের শতবর্ষ ও কবি সুকান্ত স্মরণ শিলিগুড়িতে জেনারেশন অ্যাচিভার-এর বিশেষ মহতী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ির এইচএমএ সেন্টারে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক ঐতিহাসিক ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। সর্বভারতীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘জেনারেশন অ্যাচিভার’ (Generation Achiever)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল ভাবধারা ছিল— ‘বন্দে মাতরম’ মঞ্চ শতবর্ষের আলোকে সুকান্ত। ‘বন্দে মাতরম’ মঞ্চের গৌরবোজ্জ্বল ১০০ বছরের পথচলা এবং কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের অগ্নিঝরা কালজয়ী কাব্যচেতনাকে এক সুতোয় গেঁথে এই আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। এটি কেবল একটি সাধারণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল না, বরং উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার এক অপূর্ব মেলবন্ধনে পরিণত হয়েছিল। সমবেত কণ্ঠে জাতীয় মর্যাদাসম্পন্ন "বন্দে মাতরম" সঙ্গীত উচ্চারণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা ঘটে। এরপর নান্দনিক সূচনা পর্বে স্বাগত ভাষণ দেন জেনারেশন অ্যাচিভার-এর চেয়ারপারসন তথা বিশিষ্ট দূরদর্শী সংগঠক মানব মুখার্জি। তিনি তাঁর বক্তব্যে সংগঠনের ভবিষ্যৎ দিগন্তের কথা তুলে ধরে জানান, আগামী দিনে জেনারেশন অ্যাচিভার দিল্লি সহ সমগ্র দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ছড়িয়ে দিতে…

বেহালাতে সর্বকালের সেরা ডান্স কম্পিটিশন: জাতীয় স্তরের মেগা রিয়েলিটি শো ‘মুভমাস্টার ২.০’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

নৃত্যপ্রেমীদের জন্য এক বিরাট উন্মাদনার খবর! ডিডিএফ এন্টারটেইনমেন্টের উদ্যোগে এবং সূর্যধরের পরিচালনায় বেহালাতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে রাজ্য তথা জাতীয় স্তরের মেগা ডান্স চ্যাম্পিয়নশিপ— ‘মুভমাস্টার ২.০’। এই মেগা রিয়েলিটি শোকে কেন্দ্র করে গত ২৬শে জুলাই কলকাতায় একটি জমজমাট অফিশিয়াল প্রেসমিট অনুষ্ঠিত হয়। বেহালার মাটিতে আয়োজিত এই ডান্স প্রতিযোগিতাটি এযাবৎকালের সবথেকে বড় ডান্স কম্পিটিশন হতে চলেছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। বর্তমান প্রজন্মের উদীয়মান ডান্সারদের নিজেদের প্রতিভা প্রমাণ করার জন্য এটি একটি বিশাল প্ল্যাটফর্ম। এই বিশাল আয়োজনকে সফল করে তুলতে নেপথ্যে যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সহযোগিতা রয়েছে, সেই সূর্যধরের মা-বাবা জ্যোৎস্না ধর ও সোমনাথ ধর-কে বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। এই প্রেসমিট অনুষ্ঠানে নৃত্য জগৎ ও বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন: ভিকি কুমার: নেপাল থেকে আগত বিশেষ অতিথি। প্রিন্স স্যার: রিয়েলিটি শোটির অন্যতম বিচারক (Judge)। লিঙ্গরাজ স্যার: প্রোডিউসার, যিনি প্রথম বাংলাতে ডান্স মুভি নিয়ে আসছেন। চিন্টু স্যাগ স্যার: বহু খ্যাতনামা রিয়েলিটি…

কবি ও বাচিক শিল্পী হিসেবে 'বঙ্গ রত্ন সম্মান ২০২৬'-এ ভূষিত হতে চলেছেন উলুবেড়িয়ার দেবস্মিতা দাস

শিরোনাম: কবি ও বাচিক শিল্পী হিসেবে 'বঙ্গ রত্ন সম্মান ২০২৬'-এ ভূষিত হতে চলেছেন উলুবেড়িয়ার দেবস্মিতা দাস। নিজস্ব সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: সাহিত্য ও বাচিক শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঐতিহ্যবাহী 'বঙ্গ রত্ন সম্মান ২০২৬'-এ ভূষিত হতে চলেছেন হাওড়ার উলুবেড়িয়ার বিশিষ্ট কবি ও বাচিক শিল্পী দেবস্মিতা দাস। আগামী ৪ আগস্ট, ২০২৬ কলকাতার আইসিসিআর (ICCR)-এর সত্যজিৎ রায় অডিটোরিয়ামে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়া হয়েছে। 'ড্রিমস এন্টারটেইনমেন্ট' আয়োজিত এই সম্মাননা সভায় টলিউডের একাধিক জনপ্রিয় অভিনেতা, অভিনেত্রী ও গুণী ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে এই সম্মাননা তুলে দিয়েছেন। তাঁর হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দিয়েছেন টেলি অভিনেত্রী সুভদ্রা মুখোপাধ্যায়, সঙ্গীত শিল্পী স্বাগতালক্ষী দাশগুপ্ত, পন্ডিত মল্লার ঘোষ। পেশায় অঙ্কন শিক্ষিকা দেবস্মিতা নেশায় একজন নিবেদিতপ্রাণ কবি ও বাচিক শিল্পী। ২০২১ সালে নতুন দিল্লি থেকে তিনি ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ 'সেরা লেখক সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড' নিউ দিল্লি থেকে লাভ করেন। তাঁর রচিত একাধিক যৌথ কাব্যগ্রন্থ ২০২০ সালে ঐতিহ্যবাহী ন্যাশনাল লাইব্রেরীতে স্থান…

বিপদ কি নাহিরে

বিপদ কি নাহিরে? কলমে- হিমেন্দু দাস 'মাটিহীনদেশ খালি' শেল বোম গুলিতে বেয়নেটে ঝি হাটে ঝাঁজ ঘাঁটা বুলিতে। পিঠ দেখে দেওয়ালেতে মুখ খোলা ঢাকিতে, বাজ আঁটে ফাঁকা গেরো মায়ে ঝিয়ে ডাকিতে। ধিক ধিক ধিক্কারে কাজে সাজে পাণ্ডা, তেরে মেরে ডাণ্ডা করে দেবে ঠাণ্ডা। ঠকঠকে ঠাণ্ডাতে ঠগ ঠগে ঠ্যাঙাতে, জল মাপে ঠেঙারেরা, ঠগি ওঠে ডেঙাতে। ভালো ভালো তাও ভালো আওয়াজের হুংকার ফোকলামো ফাজলামি, দাঁত বিষে খুংখার। খুনসুটি খানদানি খাঁকি টানা ঘানিতে, দেওয়ালেতে টিকটিকি শান্তিটা আনিতে। বুমেরাং বুমেরাং সাবধানে সান্ত্রী, পিঠ ঠেকা দেওয়ালেতে ঘুম ভাঙা ক্রান্তি। প্রতিজ্ঞা ঠিক দিশা পার করে তরণী, 'মাটিহীনদেশ খালি' দিগন্তে অরণী। কানখোলা মাঝি দেয় ঝাঁপ ঝাঁপ ঝাঁপানি, শেল বোম গুলিতে নিশ্চুপ কাঁপানি। পিঠ দেখে দেওয়ালেতে মুখ খোলা বাহিরে, দিগন্তে দিন ঢলে বিপদ কি নাহিরে?

কবিতা - বাগমুন্ডীর মেয়ে

বাগমুন্ডীর মেয়ে সুদীপ ভড় আজ অংক পরীক্ষার খাতা বের হুইচে খাতায় লম্বর দ্যাখে চোখ চড়কগাছ ইতু কিছু লিখে শুন্য বটে অংক ব‌ইঠো দমে পড়েছি, লিখেছিও দমে বটে, কিন্তুক শুন্য কেনে সেটা বুইঝতে পারলুম লাই। জানবার লাইগা গেলুম মাস্টরের কাইছে। বুইলাম অত কিছু লিখে মোটে শুন্য। মাস্টর ব‌ইল ভালো কঁরে খাতাটা দ্যাখ বটে, চারঠো যোগ পড়েছে, চারঠো বিয়োগ পড়েছে। একটাও ঠিক হয় লাই, সব‌ই হিসাবে ভুল। মুই বাগমুন্ডীর মেয়ে। বাপ নাম রেখেছিল দূগ্গা। লোকে বলে কাঠকুড়ানি। ছোটো বোন হ‌ওয়ার পর বাপটা গেছে মরে। সংসারে চারঠো লোক। মা, মুই আর দুই বোন। বড়ো বোন সবে ইস্কুলে ভর্তি হুয়েছে। মা আর আগের মত খাইটতে পারে না। চারজনের পেটের ভাত জোগাতে, চার বাড়ি কাজ করি। ঘর মোছা, বাসন মাজা থেইকা সব..... সব কাজ করি। তারপর জঙ্গল থেইকা কাঠ কুড়িয়ে এনে ভাত ও শাক সেদ্ধ করতে হয়। খাইটতে খাইটতে হাতের রেখাগুলো আর স্পষ্ট লাই। দ্যাখ…

অনুতাপ

অনুতাপ সুদীপ ভড় স্যার, দরজাটা একবার খুলবেন। স্যার আপনার কাছে অনুরোধ একটি বারের জন্য দরজাটা খুলুন। আমি রোদ্দুর, আপনার ছাত্র। আপনি বলবেন ঝড়-ঝঞ্ঝা দুর্যোগের রাতে রোদ্দুর কোথা থেকে আসবে। হ্যাঁ স্যার, আমি আপনার অভাগা ছাত্র। ছাত্র হিসাবে পরিচয় দিতে আমার খুব লজ্জা হচ্ছে। কিন্তু আজ বড়ো অসহায় আমি। আজ আমার জীবনে যে ঝড় উঠেছে সেই ঝড়ের কাছে বাস্তবের ঝড় অতি নগণ্য। এই অবস্থার জন্য কেবল দায়ী শুধু আমি। আপনি অনেকবার আমাকে শোধরাতে চেষ্টা করেছেন। এখনো আমার পিঠে আপনার চাবুকের একটি দাগ অক্ষত আছে। সেই দিন আমার থেকে বেশি লেগেছিল ছিল আমার বাবা মায়ের। আপনার উপর চড়াও হয়েছিল ওরা। আপনার গায়ে হাত দিতেও ওরা ভোলেনি। যেদিন আমার বাবা-মা আমার কষ্টের জন্য আপনার মতো দেবতাসম মানুষটাকে আঘাত করেছিল। সেই দিন বিধাতা আমার ভাগ্য লিখন পাল্টে দিয়েছিল। সেই দিন হয়তো বুঝতে পারেনি ওরা কিন্তু আজ বুঝেছে। সেই দাগই আমাকে দাগি অপরাধী বানিয়ে দিয়েছে…

মানুষ হবার শিক্ষা

মানুষ হবার শিক্ষা সুদীপ ভড় এক বৃদ্ধ পড়নে ছেঁড়া ময়লা বস্ত্র খোঁচা খোঁচা পাকা দাড়ি, লম্বা লম্বা পাকা চুল, দশ বছর ধরে খুঁজছেন, "মানুষ হবার শিক্ষা"। একদিন এক দোকানে গিয়ে , পাঁচশো টাকার নোট বের করে চাইলেন "মানুষ হবার শিক্ষা ", দোকানদার প্রথমে হতবাক হল, পরে বিরক্ত হয়ে বলল "এসব এখানে পাওয়া যায় না ", তবে কোথায় পাওয়া যায় -- মনে মনে ভাবতে ভাবতে দোকান থেকে বেরিয়ে গেলেন। একজন এসে তাকে বলল, "ঐ স্কুলে যাও, ওখানে পেতে পারো।" লোকটির কথায় তিনি একটু আশ্বাস্ত হলেন, ভাবলেন এবার খোঁজা শেষ হবে। সকলের চোখ এড়িয়ে ঢুকলেন স্কুলের ভিতর, দাঁড়ালেন এক দরজার বাইরে, ভিতরে চলছে পাঠ শিক্ষা বিস্তারে বিদ্যাসাগরের ভূমিকা, ভাবলেন এবার তিনি ঠিক জায়গায় এসেছেন, ক্লাস থেকে বের হতেই শিক্ষকের চোখ পড়ল ঐ অদ্ভুত মানুষটির দিকে, ধমক দিয়ে বললেন "কে আপনি ? কী চাই এখানে ? বৃদ্ধ উত্তর দিলেন," মানুষ হবার শিক্ষা "…

অভাবকে জয় করে সফলতার শিখরে! ডক্টরেট ও ‘সুপারস্টার গোল্ড মেডেল’ পেলেন প্রধান শিক্ষক বসন্ত কুমার ঘোড়ই

মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার জন্য বাবার কাছে মাত্র ৩৫০ টাকা চেয়ে একদিন চোখের জল ফেলতে হয়েছিল। অথচ আজ সেই মানুষটিই শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য পেলেন ডক্টর অব ফিলোসফি (Ph.D.) সহ ‘সুপারস্টার গোল্ড মেডেল’ সম্মান। বহু গবেষক ও আইআইটি অধ্যাপক তৈরির নেপথ্য কারিগর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথির নয়াপুট সুধীর কুমার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বসন্ত কুমার ঘোড়ই। ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব ডিসাইপলশিপ ইনস্টিটিউট ফর অ্যাপোস্টলিক মিনিস্ট্রিজের তরফে তাঁকে এই prestigious সম্মান প্রদান করা হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবংয়ের সুন্দরপুর গ্রামে ধান চাষি পরিবারে কেটেছে তাঁর ছোটবেলা। চরম অভাবের সংসারে স্নাতক পাসের পর মাস্টার্স করার তীব্র ইচ্ছে থাকলেও বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ৩৫০ টাকা জোগাড় করতে পারেননি। বাবার কাছে কান্নাকাটি করেও সেই টাকা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ভোররাতে কাউকে না জানিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। নিজের চেষ্টায় ৩৫০ টাকা জোগাড় করে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হন বসন্তবাবু। কর্মজীবনের শুরুতে তমলুক কলেজে ১০ মাস…

সিসিটিভির শেষ সাক্ষী

সিসিটিভর শেষ সাক্ষী বাজারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে "জনসেবা ফার্মেসি"—এলাকার সবচেয়ে পরিচিত ও বিশ্বস্ত ঔষধের দোকান। বাইরে থেকে দেখলেই বোঝা যায়, দোকানটির প্রতি কতটা যত্ন নেওয়া হয়। কাঁচের ঝকঝকে শোকেসে ওষুধগুলো সুন্দরভাবে সাজানো, ভেতরে আধুনিক আলো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর প্রতিটি তাকে ওষুধের সুশৃঙ্খল বিন্যাস। যে কেউ প্রথমবার দোকানে ঢুকলে বুঝতে পারে, এখানে শুধু ওষুধ বিক্রি হয় না, মানুষের প্রতি আন্তরিক সেবাও দেওয়া হয়। দোকানের একপাশে দাঁড়িয়ে আছে বহু বছরের পুরোনো একটি বিশাল বটগাছ। তার ছায়া যেন সারাদিন পথচারীদের আশ্রয় দিয়ে রাখে। গাছের নিচে মালিক হারুন মিয়া নিজের উদ্যোগে কয়েকটি মজবুত বেঞ্চ বসিয়েছেন। রোগীর স্বজন, বয়স্ক মানুষ কিংবা দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা সেখানে বসে বিশ্রাম নেন। বিকেলের দিকে বেঞ্চগুলো প্রায়ই ভরে যায় মানুষের আড্ডা, চা আর গল্পে। হারুন মিয়া শুধু একজন ব্যবসায়ী নন, একজন মানবিক মানুষ হিসেবেও সবার কাছে পরিচিত। কোনো দরিদ্র রোগী টাকা কম নিয়ে এলে তিনি প্রায়ই নিজের লাভের কথা…

কবিতা - ভক্ত খুঁজি

ভক্ত খুঁজি সুদীপ ভড় স্বর্ণ রথে চলেছি আমি পিছে কত ভক্ত বৃন্দ পবিত্র এই উৎসব দিনে ধরে না ওদের আনন্দ। চতুর্দিকে উঠে জয় ধ্বনি বাজে কত নানান বাদ্য ভক্ত মাঝে এসেছি আমি এনেছে চরণ ধূতে পাদ্য। সাজো সাজো রব তাই আজ দোকানি সাজিয়েছে পসরা ছোটো বড়ো সকলেই যা কিনিবে করেছে তার খসরা। মোর আশীষ পাবে বলে চেষ্টায় ওদের নাইকো খামতি অর্থ স্বর্ণ ঢালছে অগাধ ভক্তিতে রয় শুধু কমতি। আমি কহি স্বর্ণ চাহি না চাহি যে মোর হৃদয় রথ ভক্তের মন পাবো বলে ধরেছি আমি এই পথ। ভক্তের মাঝে ভক্ত হয়ে খুঁজে চলেছি প্রকৃত ভক্তকে মেকি ভক্তিতে ভরা সব তাতেই কাটায় ওরা অক্তকে।

সম্পাদক: সৌমেন সেন | প্রকাশক: INTERNATIONAL NEWSTAR | ঠিকানা: এগরা, পূর্ব মেদিনীপুর | মোবাইল: +91 7478201605