আর্থিক সংকটে থেমে যাবে না সাহিত্য-সংস্কৃতির পথচলা, বাদল সরকারের উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনার ঠিকানা ‘বর্ণালী ভয়েসটেক স্টুডিও’
কলকাতা, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বহু সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রভিত্তিক সংগঠনকে মাঝপথে থেমে যেতে হয়। অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে হল ভাড়া, প্রেস কনফারেন্স, স্টুডিও, ব্রডকাস্টিং এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত খরচ অনেক সময় ছোট ও মাঝারি সংগঠনগুলির কাছে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই বাস্তব সমস্যাকে সামনে রেখে এক নতুন ভাবনা নিয়ে এগিয়ে এল বর্ণালী ভয়েসটেক স্টুডিও। একই ছাদের নিচে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোকে যুক্ত করে সাহিত্য, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, সংবাদ, পিআর এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত মানুষ ও সংগঠনগুলিকে সহযোগিতা করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টায়, সল্টলেক সেক্টর–৪-এর শান্তিনগর, চিংড়িঘাটা বাসস্ট্যান্ডের কাছে জীবন সাথী সংঘ সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় বর্ণালী ভয়েসটেক স্টুডিওর পুনরায় শুভ উদ্বোধন, প্রেস কনফারেন্স ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে যুক্ত ছিল লাইভ অর্কেস্ট্রা এবং ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টার। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তি, প্রযোজক, প্রকাশক, সাংবাদিক, পিআর জগতের ব্যক্তিত্ব, আইনজীবী, শিক্ষক এবং সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিশিষ্ট মানুষ।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন রাজকুমার সেন। তাঁর সাবলীল ও প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, অতিথিদের বক্তব্য এবং সাংস্কৃতিক পর্ব সুন্দরভাবে এগিয়ে চলে। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়কে সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপনের পাশাপাশি বর্ণালী ভয়েসটেক স্টুডিওর উদ্দেশ্য এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সৃজনশীল জগতের জন্য এই উদ্যোগের সম্ভাব্য ভূমিকার বিষয়টিও উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।
এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বাদল সরকার। তিনি একাধারে লাইভ অর্কেস্ট্রার স্রষ্টা ও অভিভাবক, ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টারের সভাপতি এবং বর্ণালী ভয়েসটেক স্টুডিওর কর্ণধার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন সংগঠন, শিল্পী ও সৃজনশীল মানুষের সঙ্গে কাজ করার সূত্রেই এমন একটি সমন্বিত পরিকাঠামোর ভাবনা সামনে এসেছে বলে অনুষ্ঠানে উঠে আসে।
বাদল সরকারের উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, শুধুমাত্র একটি স্টুডিও বা অনুষ্ঠানস্থল তৈরি করা নয়; বরং যেসব সংগঠন আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বড় পরিসরে কাজ করতে পারছে না, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাকে তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য করার একটি পরিসর তৈরি করা। বিশেষ করে বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, সাহিত্য অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রেস কনফারেন্স, ছবি ও ভিডিও ধারণ, ব্রডকাস্টিং এবং অন্যান্য সৃজনশীল কার্যক্রমের ক্ষেত্রে পরিকাঠামোগত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। সেই প্রয়োজনকে সামনে রেখেই ভয়েসটেক স্টুডিওকে একটি বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লাইভ অর্কেস্ট্রার সভাপতি আনন্দ চক্রবর্তী এই উদ্যোগের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন। থিয়েটার ও যাত্রা জগতের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত আনন্দ চক্রবর্তীর বক্তব্যে উঠে আসে সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পীদের জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামোর গুরুত্ব। বহু মানুষ প্রতিভা ও আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে নিজেদের কাজ সঠিকভাবে সামনে নিয়ে আসতে পারেন না। এই ধরনের উদ্যোগ তাঁদের জন্য নতুনভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও বক্তব্যে উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টারের সম্পাদক সৌমেন সেনও বক্তব্য রাখেন। তিনি বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্ম, ছাত্রছাত্রী এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, আর্থিক সমস্যা কিংবা পারিবারিক ও সামাজিক চাপের কারণে অনেক ছাত্রছাত্রী ও তরুণ-তরুণী একটি সময়ের পর সাহিত্যচর্চা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হন। তাঁদের জন্য সহযোগিতামূলক এবং নির্ভরযোগ্য একটি পরিসর তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই ভয়েসটেক স্টুডিওর উদ্যোগকে তিনি তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতা ও পিআর জগতের উপস্থিতিও বিশেষভাবে নজর কাড়ে। বাদল সরকার স্যারের দীর্ঘদিনের বন্ধু, বিশিষ্ট সাংবাদিক বিজয় কুমার রায়ের সন্তান মৃত্যুঞ্জয় রায়, যিনি পিআর জগতের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব এবং বিকে নিউজের কর্ণধার, শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে তাঁর পরিবর্তে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সুযোগ্য কন্যা নেহা রায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি এই উদ্যোগের সঙ্গে একসঙ্গে পথ চলার এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
নেহা রায়ের উপস্থিতি এবং তাঁর এই ইতিবাচক বার্তা অনুষ্ঠানে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কারণ বর্তমান সময়ে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিনোদনের কোনও উদ্যোগকে বৃহত্তর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সংবাদমাধ্যম, পিআর, ডিজিটাল প্রচার এবং বিনোদন জগতের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ণালী ভয়েসটেক স্টুডিওর উদ্যোগে সেই বিভিন্ন ক্ষেত্রকে একই পরিসরের মধ্যে নিয়ে আসার যে ভাবনা সামনে এসেছে, নেহা রায়ের উপস্থিতি ও সহযোগিতার আশ্বাস সেই ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
বিশেষ করে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গেলে শুধু মঞ্চ বা হল ভাড়া নয়, তার সঙ্গে যুক্ত হয় প্রেস কনফারেন্স, ছবি ও ভিডিও ধারণ, সংবাদ প্রচার, ব্রডকাস্টিং, স্টুডিও সংক্রান্ত কাজসহ একাধিক আনুষঙ্গিক বিষয়। ছোট সংগঠনগুলির ক্ষেত্রে এই সমস্ত খরচ সামলানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বর্ণালী ভয়েসটেক স্টুডিওর পরিকল্পনার মধ্যে এই বিভিন্ন প্রয়োজনকে একই পরিসরের মধ্যে নিয়ে আসার ভাবনাই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন প্রযোজক, প্রকাশক, সাংবাদিক, পিআর পেশাজীবী, আইনজীবী, শিক্ষক এবং অন্যান্য পেশার মানুষজনও উদ্যোগটির বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন। তাঁদের আলোচনায় উঠে আসে, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে শুধুমাত্র বড় বাজেটের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ছোট সংগঠন, নতুন শিল্পী, লেখক, সাহিত্যপ্রেমী এবং উদীয়মান সৃজনশীল মানুষদেরও কাজের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। সেই জায়গায় একটি সমন্বিত স্টুডিও ও সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বাদল সরকারকে ঘিরে এই উদ্যোগের বিশেষ তাৎপর্য এখানেই যে, লাইভ অর্কেস্ট্রার স্রষ্টা ও অভিভাবক হিসেবে তাঁর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা, ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টারের সভাপতি হিসেবে প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা এবং বর্ণালী ভয়েসটেক স্টুডিওর কর্ণধার হিসেবে তাঁর বর্তমান উদ্যোগ—এই তিনটি ক্ষেত্রকে একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিসরের মধ্যে যুক্ত করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। তার সঙ্গে সাংবাদিকতা, পিআর, মিডিয়া ও বিনোদন জগতের সংযোগ এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করার সুযোগ দিচ্ছে।
সাহিত্য, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র এবং নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে শুধু প্রতিভা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সুযোগ, পরিকাঠামো, প্রচারের পরিসর এবং কাজ করার উপযুক্ত পরিবেশ। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই বর্ণালী ভয়েসটেক স্টুডিওর পুনরায় শুভ উদ্বোধন একটি সমন্বিত উদ্যোগের বার্তা দিয়েছে। মিডিয়া, বিনোদন, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে একই স্রোতে যুক্ত করে শিল্পী, লেখক, সংগঠন, প্রযোজক, সাংবাদিক এবং সৃজনশীল মানুষদের জন্য সহযোগিতার একটি কার্যকর পরিসর গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পথচলা।
আর্থিক সীমাবদ্ধতা যেন কোনও শিল্পী, সংগঠন বা সৃজনশীল মানুষের কাজের পথে একমাত্র বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এই ভাবনাকে সামনে রেখে বাদল সরকারের উদ্যোগে বর্ণালী ভয়েসটেক স্টুডিও সাহিত্য, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, মিডিয়া, পিআর ও বিনোদন জগতের মানুষদের পারস্পরিক সহযোগিতার একটি নতুন পরিসর তৈরির লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।
