জন্মদিনে বিলাসবহুল আয়োজন বদলে সেবার বার্তা, এগরার সমাজসেবী উজ্জয়িনীর অন্যরকম উদ্যাপনজন্মদিন মানেই সাধারণত ঝলমলে আয়োজন, কেক কাটা, সাজসজ্জা আর বন্ধুদের নিয়ে খাওয়া-দাওয়ার উৎসব। তবে এই চেনা উদযাপনের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার বিশিষ্ট সমাজসেবী উজ্জয়িনী ব্যানার্জি। অনাড়ম্বরভাবে সামাজিক দায়বদ্ধতাকে সঙ্গী করে নিজের বিশেষ দিনটিকে প্রান্তিক মানুষের সেবায় উৎসর্গ করলেন তিনি।‘উই কেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর কর্ণধার তথা পেশায় শিক্ষিকা উজ্জয়িনী ব্যানার্জি নিজের জন্মদিনে কোনো ব্যক্তিগত উল্লাসে না মেতে সকাল থেকেই নেমে পড়েন এগরা ও তার আশপাশের দুস্থ মানুষদের সাহায্যে। প্রবীণ ও অসহায় মানুষদের হাতে তুলে দেন নতুন বস্ত্র—শাড়ি ও ধুতি। পাশাপাশি শিশু এবং শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের জন্য বিতরণ করেন পুষ্টিকর ফল ও হরলিক্স।নিজের এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে উজ্জয়িনী জানান, আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে অর্থ ব্যয় করার চেয়ে সেই টাকায় কয়েকটি অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ ও আসল উপহার।উল্লেখ্য, করোনা মহামারী, আমফান, যশ কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো কঠিন সময়েও উজ্জয়িনী ব্যানার্জি এবং তাঁর সংস্থা ‘উই কেয়ার ফাউন্ডেশন’ খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। রক্তদান শিবির, নিখরচায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও দুস্থ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সামগ্রী বিতরণের মতো নানা সামাজিক কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে আসছে এই সংগঠনটি।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ফাউন্ডেশনের সদস্যরা তাঁর এই চিন্তাভাবনাকে সাধুবাদ জানান। আগামী দিনে এগরা এবং সংলগ্ন অঞ্চলে নারী ও শিশুদের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান এই সমাজকর্মী। এগরার বাসিন্দারাও এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।
