নিজস্ব প্রতিবেদন, হাওড়া: সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অবিস্মরণীয় মিলনক্ষেত্রে পরিণত হলো মধ্য হাওড়ার একটি প্রেক্ষাগৃহ। সম্প্রতি ড. সোহিনী চক্রবর্তীর ঐকান্তিক উদ্যোগে ও শিল্প সৃজন পরিষদ ও প্রকাশনীর ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণাঢ্য বই প্রকাশ অনুষ্ঠান। সাহিত্যচর্চা, সম্মাননা এবং নতুন গ্রন্থের উন্মোচন—এই তিনে মিলে অনুষ্ঠানটি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুই বিশিষ্ট সাহিত্যিক ড. সমুদ্র বসু ও আরণ্যক বসু। বাংলা সাহিত্যে তাঁদের সুদীর্ঘ অবদান ও সৃজনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শিল্প সৃজন পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁদের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ “বঙ্গ দিগন্ত সম্মান”-এ ভূষিত করা হয়।
এদিনের অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল নতুন বইয়ের প্রকাশ। প্রকাশনীর পক্ষ থেকে মোট ১২টি একক গ্রন্থ পাঠকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সংকলনগুলোর মধ্যে মিন্দ্রনীল চক্রবর্তীর সম্পাদনায় প্রকাশিত “গোধূলি বেলায় হাতেখড়ি” এবং রাজ চিনার-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত “কলমের শুভারম্ভ” বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে। এছাড়াও ড. সোহিনী চক্রবর্তীর নিজস্ব সম্পাদনায় প্রকাশিত “রবীন্দ্র সংকলন : তবু মনে রেখো” এবং “দিগন্ত ডায়েরি” গ্রন্থ দুটি উপস্থিত পাঠকমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
প্রতিভার স্বীকৃতি প্রদানে আয়োজক সংস্থা কার্পণ্য করেনি। সাহিত্যের মূল স্রোতে নতুন ও অভিজ্ঞদের মেলবন্ধন ঘটাতে এ বছর “বঙ্গীয় স্রষ্টা রত্ন সম্মান” প্রদান করা হয় ড. দেবদূত মুখোপাধ্যায়, ড. অমিতাভ ঘোষ, অঙ্কিতা মৈত্র ও শান্তনু পণ্ডিত-কে। পাশাপাশি, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য মৈত্রেয়ী হালদার, দেবাঞ্জন রায়, সুমন নট্ট, সায়ন মিশ্র ও তৃণা মুখোপাধ্যায়কে সম্মানিত করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজক ড. সোহিনী চক্রবর্তী বলেন, “লেখকদের সৃষ্টির মর্যাদা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। শিল্প সৃজন পরিষদ বরাবরই নতুন লেখকদের সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে বদ্ধপরিকর।” সাহিত্যের গভীর চর্চা এবং নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মুখরিত এই অনুষ্ঠানটি হাওড়ার সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডারে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
