ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে UPI, QR কোড, ভুয়ো কাস্টমার কেয়ার নম্বর, ফিশিং লিঙ্ক এবং স্ক্রিন-শেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে। সামান্য অসতর্কতায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চলে যেতে পারে। কয়েকটি অভ্যাস মেনে চললে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
অনলাইন প্রতারণার সাধারণ কৌশল
- ভুয়ো KYC বা ব্যাঙ্ক মেসেজ: অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে বলে আতঙ্ক তৈরি করে লিঙ্কে ক্লিক করানো।
- QR কোড স্ক্যাম: টাকা পাওয়ার কথা বলে QR স্ক্যান করতে বা UPI PIN দিতে বলা। টাকা পাঠাতে PIN লাগে—টাকা গ্রহণ করতে নয়।
- ভুয়ো কাস্টমার কেয়ার: সার্চের ফল বা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া ভুয়ো নম্বরে ফোন করে গোপন তথ্য আদায়।
- স্ক্রিন শেয়ারিং অ্যাপ: সমস্যার সমাধানের নামে মোবাইলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়া।
নিজেকে সুরক্ষিত রাখার ৭টি নিয়ম
- OTP, UPI PIN, CVV বা পাসওয়ার্ড কাউকে বলবেন না—ব্যাঙ্ককর্মী পরিচয় দিলেও নয়।
- অপরিচিত SMS, WhatsApp বা ইমেলের লিঙ্কে ক্লিক করবেন না।
- টাকা পাওয়ার জন্য কখনও UPI PIN দেবেন না এবং সন্দেহজনক QR কোড স্ক্যান করবেন না।
- কাস্টমার কেয়ারের নম্বর ব্যাঙ্কের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকে যাচাই করুন।
- অচেনা ব্যক্তির কথায় AnyDesk বা অন্য রিমোট-অ্যাক্সেস অ্যাপ ইনস্টল করবেন না।
- UPI অ্যাপে লেনদেনের নাম ও অঙ্ক দেখে তারপর অনুমোদন দিন।
- মোবাইল ও ব্যাঙ্কিং অ্যাপ আপডেট রাখুন; শক্তিশালী স্ক্রিন লক ব্যবহার করুন।
প্রতারণা হলে সঙ্গে সঙ্গে কী করবেন?
টাকা কেটে গেলে দেরি না করে নিজের ব্যাঙ্কের অফিসিয়াল হেল্পলাইন বা অ্যাপে অভিযোগ জানান এবং লেনদেনের ID, SMS, স্ক্রিনশট ও সময় সংরক্ষণ করুন। ভারতে আর্থিক সাইবার প্রতারণার অভিযোগ জানাতে দ্রুত ১৯৩০ নম্বরে ফোন করুন এবং জাতীয় সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল-এ অভিযোগ জমা দিন। অভিযোগ নম্বর লিখে রাখুন। প্রয়োজনে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করুন।
মনে রাখবেন
কেউ ফোনে তাড়াহুড়ো করালে, গোপন নম্বর চাইলে বা টাকা ফেরত দেওয়ার নামে আরও টাকা পাঠাতে বললে থামুন। আলাদা একটি নম্বর বা অফিসিয়াল চ্যানেল দিয়ে তথ্য যাচাই করুন। সচেতন থাকুন, অন্যদেরও সতর্ক করুন।
তথ্যসূত্র: ভারতের জাতীয় সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল।
