নন্দন-৩-এ স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি প্রদর্শনে ছাড়পত্রের জট? নির্মাতাদের উদ্বেগ, উঠছে স্বচ্ছতার প্রশ্ন

0
স্বাধীন চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও চলচ্চিত্র উৎসবে স্ক্রিনিংয়ের প্রতীকী ছবি

কলকাতা: নন্দন-৩-এ স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি প্রদর্শন, চলচ্চিত্র উৎসবের নির্বাচন এবং সেন্সর-সংক্রান্ত ছাড়পত্রের সময়সীমা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একাংশের অভিযোগ, ছবি তৈরি ও উৎসবে নির্বাচিত হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় অনুমোদন সময়মতো না মেলায় নির্ধারিত প্রদর্শনী হাতছাড়া হচ্ছে। তবে বিষয়টি বুঝতে চলচ্চিত্রের CBFC সার্টিফিকেশন এবং নির্দিষ্ট উৎসবে প্রদর্শনের জন্য মন্ত্রকের ছাড়পত্র—এই দুই প্রক্রিয়ার পার্থক্য জানা জরুরি।

নন্দনে নির্বাচিত হয়েও প্রদর্শনী থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ

The Times of India-র ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বাংলা স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি In Search of Buddha-র পরিচালক সরণ্য দে-র অভিজ্ঞতার কথা উঠে আসে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিটি ৯ম South Asian Short Film Festival-এর প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হলেও মন্ত্রকের ছাড়পত্র সময়মতো না পাওয়ায় নন্দনে আয়োজিত উৎসবে ছবিটি দেখানো যায়নি। একই প্রতিবেদনে International Documentary and Short Film Festival of Kerala (IDSFFK)-এর জন্য একাধিক ছবির ছাড়পত্র অপেক্ষমাণ থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনটি পড়ুন।

এটি একটি নির্দিষ্ট নির্মাতা ও ছবির অভিজ্ঞতা—এ থেকে নন্দন-৩-এ সব স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি আটকে যায়, কিংবা প্রত্যেক ক্ষেত্রে একই কর্তৃপক্ষ দায়ী, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। তবে নির্বাচিত ছবির প্রদর্শনী অনুমোদনের অপেক্ষায় অনিশ্চিত হয়ে পড়লে নির্মাতা, উৎসব-আয়োজক ও দর্শক—সবারই পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

‘দিল্লি থেকে সেন্সর পাস’—কী বলছে সরকারি তথ্য?

চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেশন নিয়ে আলোচনায় অনেক সময় ‘দিল্লি থেকে সেন্সর পাস’ কথাটি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, Central Board of Film Certification (CBFC) একটি আইনসিদ্ধ সংস্থা; এর সদর দপ্তর মুম্বইয়ে এবং কলকাতা-সহ একাধিক শহরে আঞ্চলিক অফিস রয়েছে। অর্থাৎ, সব ছবির সার্টিফিকেশন কেবল দিল্লি থেকেই হয়—এমন সাধারণীকরণ সঠিক নয়। মন্ত্রকের CBFC সংক্রান্ত তথ্য।

অন্যদিকে, কিছু চলচ্চিত্র উৎসব বা বিশেষ প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে CBFC-র সার্টিফিকেটের পাশাপাশি মন্ত্রকের পৃথক ছাড়পত্র বা exemption-এর প্রশ্ন আসতে পারে। এই দুই প্রক্রিয়াকে এক করে দেখলে দেরির কারণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিটি ছবির ক্ষেত্রে কোন অনুমোদন চাওয়া হয়েছে, আবেদন কোথায় জমা পড়েছে এবং কোন ধাপে তা আটকে আছে—সেটি নির্দিষ্টভাবে জানা প্রয়োজন।

সরকারি সময়সীমা বনাম নির্মাতাদের অভিজ্ঞতা

PIB-র ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর বিবৃতিতে সংসদে দেওয়া তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়, e-Cinepramaan ব্যবস্থায় স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবির সার্টিফিকেশনে গড় সময় তিন কর্মদিবস। একই বিবৃতিতে ২০২৪ সালের সার্টিফিকেশন বিধির অধীনে নির্ধারিত সময়সীমার কথাও বলা হয়েছে। PIB-র সরকারি বিবৃতি।

এই গড় সময়ের তথ্য এবং উৎসবের জন্য অপেক্ষমাণ ছাড়পত্রের অভিজ্ঞতা এক বিষয় নয়। কোন আবেদন CBFC সার্টিফিকেশনের জন্য, আর কোনটি উৎসবে প্রদর্শনের অনুমতির জন্য—তা আলাদা করে না দেখলে বিলম্বের প্রকৃতি বোঝা কঠিন। তাই নির্মাতাদের অভিজ্ঞতা ও সরকারি পরিসংখ্যান—দুটিকেই যথাযথ প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা দরকার।

বিলম্ব হলে কী ক্ষতি হয়?

  • উৎসবের সুযোগ হারানো: নির্দিষ্ট তারিখে ছাড়পত্র না এলে নির্বাচিত ছবিকেও প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে নিতে হতে পারে।
  • অর্থনৈতিক ক্ষতি: যাতায়াত, প্রচার, সাবটাইটেল, DCP বা অন্যান্য প্রদর্শন-প্রস্তুতির খরচ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
  • দর্শক ও আয়োজকদের অসুবিধা: শেষ মুহূর্তে সূচি বদল, বিকল্প ছবি খোঁজা এবং দর্শকদের জানানো—সবই কঠিন হয়ে ওঠে।
  • সৃজনশীল কাজের দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া: সীমিত বাজেটে তৈরি স্বাধীন ছবির জন্য উৎসবের প্রদর্শনী অনেক সময় দর্শক, সমালোচক ও পরবর্তী সুযোগের দরজা খুলে দেয়।

কী ধরনের স্বচ্ছতা চাইছেন নির্মাতারা?

এই বিতর্কের সমাধানে কয়েকটি বাস্তব পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে: আবেদন জমার পর ট্র্যাকিং নম্বর ও বর্তমান অবস্থার স্পষ্ট তথ্য; অসম্পূর্ণ নথির তালিকা দ্রুত জানানো; উৎসবের নির্ধারিত প্রদর্শনী-তারিখ উল্লেখ করে জরুরি আবেদনের ব্যবস্থা; এবং অনুমোদন না এলে লিখিতভাবে কারণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো। এগুলি নীতিগত প্রস্তাব—কোনও নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে এগুলি গ্রহণ করেছে, এমন দাবি নয়।

উৎসব-আয়োজকদেরও ছবি নির্বাচনের সময়ই প্রযোজ্য সার্টিফিকেশন বা ছাড়পত্রের শর্ত, আবেদনের দায়িত্ব এবং শেষ তারিখ নির্মাতাদের কাছে পরিষ্কার করা দরকার। নির্মাতাদের পক্ষ থেকে আবেদনপত্র, জমার রসিদ, চিঠিপত্র ও উৎসবের নির্বাচনী নোটিশ সংরক্ষণ করা এবং লিখিতভাবে স্ট্যাটাস চাওয়া সহায়ক হতে পারে।

প্রশ্ন রইল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে

নন্দন-৩-এ বা অন্য উৎসবে নির্বাচিত স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবির ক্ষেত্রে ঠিক কোন ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন? আবেদন জমার পর তা নিষ্পত্তির বাস্তব সময় কত? উৎসবের নির্দিষ্ট তারিখ সামনে থাকলে জরুরি আবেদন কীভাবে বিবেচিত হয়? এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় ছবি বাদ পড়লে নির্মাতা বা আয়োজক কীভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানতে পারবেন?

এই প্রশ্নগুলির স্বচ্ছ, লিখিত উত্তরই বিতর্ককে অভিযোগ-প্রতিআভিযোগের বাইরে এনে বাস্তব সমাধানের পথে নিতে পারে। চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশনের আইনগত শর্ত যেমন মানা জরুরি, তেমনই স্বাধীন নির্মাতাদের সময়, শ্রম ও সীমিত বাজেটের মূল্যও বিবেচনায় রাখা দরকার।

International Newstar-এর পর্যবেক্ষণ: এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ্য সংবাদ প্রতিবেদন ও সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, নন্দন কর্তৃপক্ষ বা উৎসব-আয়োজকদের নির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযোজন করে প্রতিবেদনটি আপডেট করা উচিত।

তথ্যসূত্র

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here