কবিতা সম্পর্কের খোঁজে

1

সম্পর্কের খোঁজে
মহীতোষ গায়েন

কেউ কারো খোঁজ নিলেও সে কি তার
খোঁজ রাখে, না! আসলে আমরা যতই ভালোলাগা বলি,

ভালোবাসা বলি সবই শূন্যতায় ভাসে,আসলে সম্পর্কের অঙ্কগুলোও জটিল।

মনে হয় সব সম্পর্কগুলো হয় মেপে মেপে
সব সম্পর্কগুলো হঠাৎই মনের অজান্তে হয়
আবার হঠাৎই বুদবুদের মতো মিলিয়ে যায়
যেমন চন্দ্র,সূর্য ওঠে তেমনি অস্ত যায় সময়ে।

কেউ কারো খোঁজ রাখলেও সে কি তার খোঁজ
রাখে? হয়তো না, আবার হয়তো হ্যাঁ,আসলে
মানুষ সময় ,সমাজ ও পরিস্থিতির দাস শাশ্বত
একজন খোঁজ নেয় মননে অন্য জন খেয়ালে।

আসলে বোঝাপড়া ও বিশ্বাসের ঘাটতি হলে
সম্পর্ক স্থায়ী হয় না,সম্পর্ক মাধবীলতার মত,
গাছকে জড়িয়ে তার সম্পর্ক,গাছ থাকলে সেও
থাকে,গাছ না থাকলে তার অস্তিত্ব বিপন্ন হয়।

গিভ এন্ড টেক এই থিওরিতে সারা দুনিয়া চলে
তার থেকে কেউ বেরিয়ে আসতে চাইলে পারে না,

কারণ প্রতিটি মানুষের চিন্তা,চেতনা,নীতি
আলাদা,একটির সাথে অন্যটির খাপ খায় না।

প্রকৃত সম্পর্ক বয়স মানে না,ধর্ম মানে না,জাত
মানে না,সম্পর্ক অনেকটা পরশপাথরের মত
তাকে শালগ্রাম শিলা ভেবে কেউ সাধনা করে,
কেউ কেউ টাইম পাসের থিওরিতেই অভ্যস্ত।

সারাটা জীবন ধরে সম্পর্কের টানাপোড়েন
চলতে থাকে,কেউ কারো কথা অন্তর দিয়ে
ভাবলেও অন্য জন যে তাকে ভাবে না,সে কিন্তু
তা বুঝতে পারে,সেটাও আবার কেউ বোঝে না।

সম্পর্ক ঘটা করে আসে,নীরবে তা চলেও যায়
কেউ কেউ ধরে রাখে একতরফা,কেউ কেউ
দু’তরফা,কারো সম্পর্ক এক বা দ্বিমাত্রিক,

কারো ত্রৈমাত্রিক,কারো বহুমাত্রিক,শ্রেষ্ঠ; একমাত্রিক।

প্রকৃত সম্পর্কের খোঁজে তবুও মানুষ সারাটা
জীবন কাটিয়ে দেয়,মোহ আর মহিমার সূত্র
জানলে সম্পর্ক স্থায়ী হয়,নতুবা ভাসানের স্রোতে খাবি খায়,

সম্পর্কের উষ্ণায়ন ভয়াবহ।

তবুও মানুষের ভালোলাগা,ভালোবাসাবাসি
হয়, কারো গোপনে কারো কারো প্রকাশ্যে,
সম্পর্কের মধ্যেও সম্পর্ক হয়,সম্পর্কের বাইরেও
সম্পর্ক হয়,এই খোঁজ অনন্তকালের,যা সীমা- পরিসীমাহীন,বোধগম্যহীন,মায়াময় রহস্যময়।
——–
(ড. মহীতোষ গায়েন, অধ্যাপক ও ভাইস প্রিন্সিপাল, সিটি কলেজ, কলকাতা -৯, পশ্চিমবঙ্গ )

1 COMMENT

Leave a Reply to writersoumen sen Cancel reply

Please enter your comment!
Please enter your name here