প্রবন্ধ

*মাদকমুক্ত জীবন, অপরাধমুক্ত সমাজ*
―জুবায়ের আহসান

মাদকাসক্তি একটি সামাজিক ব্যাধি,সর্বগ্রাসী মারণ নেশা।এ নেশার কারণে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত দেশের লাখ লাখ মানুষ,বিশেষ করে যুব সমাজ। মাদকের নীল দংশনে তরুণ সমাজ আজ বিপথগামী, বিপন্ন। এর বিষবাষ্প দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে দেশের সর্বত্র। মাদকের বিষাক্ত ছোবল গ্রাস করে চলেছে নতুন প্রজন্মকে। ফলশ্রুতিতে এর বিষাক্ত কামড়ে অকালে ঝরে পড়ছে বহু তাজা প্রাণ।
আমাদের দেশের শিক্ষিত শ্রেণীর একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী মাদকাসক্তির করাল গ্রাসে আক্রান্ত।মাদকাসক্তি অনেক সামাজিক অন্যায় ও অপকর্মের মূল। এতে বেসামাল হয়ে খুন,গুম,ধর্ষণ,
গণধর্ষণ,ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা,
চুরি,ডাকাতি, ইভটিজিং ও মবলিঞ্চিং-এর মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হতেও কুণ্ঠাবোধ করে না।
অভিজাত পরিবার ও ব‍্যক্তির সামাজিক অনুষ্ঠানে মদের ব্যবহার সম্মানের প্রতীক। পাশ্চাত্য মানসিকতা সম্পন্ন তথাকথিত আধুনিক সমাজ মদ পান করাকে ভদ্র সমাজের মর্যাদার সহায়ক মনে করে। অমুসলিম সামাজিক অনুষ্ঠানে কিংবা ধর্মীয় অনুষ্ঠান মদ ছাড়া চলে না।এমনকি মুসলিমরাও ঈদ বা বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে মদ পান করে।
কথায় আছে মদের নেশা সর্বনাশা। মদ এমন এক বিষাক্ত দ্রব্য যার বিষক্রিয়া পর্যায়ক্রমে প্রকাশ হতে থাকে এবং কিছু দিনের মধ্যেই তার মারাত্মক প্রতিক্রিয়াগুলো ধরা পড়ে।
মদের ক্ষতিকারক দিকগুলি হলো—(ক) মদ মানুষের বোধ শক্তিকে নষ্ট করে দেয়, (খ) হজম শক্তি নষ্ট করে,(গ) খাদ্য স্পৃহা কমায়,(ঘ)লিভার ও কিডনি নষ্ট করে,(ঙ)টিবি রোগের অন‍্যতম কারণ, (চ) গলদেশ ও শ্বাসনালীর প্রচুর ক্ষতিসাধন করে,(ছ)মদ্যপদের সন্তান রোগগ্রস্ত ও দুর্বল হয়, (জ) ঝগড়া বিবাদের কারণ হয়,(ঝ) মদ্যপদের সবাই তাচ্ছিল্য করে এবং বাচ্চারা ঠাট্টা বিদ্রূপ করে,(ঞ)অল্প
বয়সে বৃদ্ধ হয়ে যায় ও (ট) অর্থ তছনছ হয়।
কতশত শ্রমজীবী মানুষের সাংসারিক কলহ,দাম্পত্য বিবাদ, এমনকি বিচ্ছেদের কারণও এই মদের নেশা।
মাদকের অপব্যবহার সমাজের জন্য একটি বড় হুমকি।মাদকের অপব্যবহার দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি,দুর্ঘটনা, গার্হস্থ্য সহিংসতা,স্বাস্থ্য সমস্যা এবং মৃত্যুর সম্ভাবনা বাড়ায়। মাদকাসক্তের অর্থনৈতিক উন্নতির সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে। বন্ধু, পরিবার এবং সাধারণ জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যক্তিগতভাবে প্রভাবিত হয়। মাদক সেবনের ফলে কম আত্মসম্মানবোধ হতাশার জন্ম দেয়, যা অপরাধমূলক আচরণ এবং এমনকি আত্মহত্যার চিন্তাকেও উৎসাহিত করে। জীবন বিধ্বংসী ক্ষতিকারক দ্রব্য সেবনের ফলে যুব সমাজের সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে।
অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস(AIIMS)এবং ন‍্যাশনাল ড্রাগ ডিপেনডেন্স ট্রিটমেন্ট সেন্টার(NDDTC)
দ্বারা ২০১৯ সালের সমীক্ষা অনুসারে, অ্যালকোহল হল ভারতে সবচেয়ে বেশি আসক্ত পদার্থ। ভারতে অনুমান করা হয় যে প্রায় ৭.২১ কোটি মানুষ মাদক দ্বারা প্রভাবিত হয়। ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম (UNODC) কর্তৃক প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ড্রাগ রিপোর্ট ২০২২ অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ২৮৪ মিলিয়ন মানুষ মাদক ব্যবহার করে। ভারতের তরুণরা এই সমস্যায় সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ভারতে উদ্ধার হওয়া সমস্ত অবৈধ মাদক দ্রব্যের ৬০ শতাংশেরও বেশি উৎস পাঞ্জাব। ভারতে আনুমানিক ৭৫ মিলিয়ন মানুষ মাদক সম্পর্কিত সমস্যায় ভুগছেন,যার মধ্যে অধিকাংশই যুবক। পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র এবং উত্তর প্রদেশের কিছু অঞ্চল মাদকাসক্তির উচ্চ হারের জন্য পরিচিত। পাঞ্জাবের এক গবেষণা অনুযায়ী, রাজ্যের ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যুবকদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ কোনো না কোনো মাদকের সঙ্গে জড়িত।
ভারতে ব্যবহৃত Alcohol বা মাদক গুলির মধ্যে রয়েছে অ্যালকোহল, ক‍্যানাবিস(গাঁজা), অপিয়েটস(হিরোইন সহ), আফিম,কোকেন এবং সিন্থেটিক ড্রাগস (যেমন মেথামফেটামিন)।
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের জন্য ভারত সরকার নানা আইন প্রণয়ন করেছে।যেমন-নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস (NDPC) অ্যাক্ট। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান, এনজিও,রাজনৈতিক দল ও মুসলিম জামাত মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করছে।
ভারতের যুব সমাজের মধ্যে মাদকাসক্তি একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটি সমাধানের জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা এবং সক্রিয় পদক্ষেপ প্রয়োজন।
মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে ইসলামের অবস্থান সুস্পষ্ট। ইসলামের দৃষ্টিতে যে কোনও ধরণের মাদকদ্রব্য ব্যবহার বা সেবন করা হারাম। সূরা বাকারার ২১৯ নং আয়াতে মদ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনায় এসেছে,“ইয়াস আলুনাকা আনিল খামরি ওয়াল মায়সিরি কুল ফিহিমা ইশমুন কাবিরুন ওয়া মানাফিয়ু লিন্নাসি ওয়া ইশমুহুমা আকবারু মিন নাফয়িহিমা, ওয়া ইয়াস আলুনাকা মা-যা ইউনফিকুনা কুলিল আফওয়া,কাযালিকা ইউ বায়য়িনুল্লহু লাকুমুল আ-ইয়াতি লায়াল্লাকুম তাতা ফাক্কারুন” অর্থাৎ লোকেরা মদ ও জুয়া সম্পর্কে তোমার কাছে জানতে চায়? বলে দাও,এই দুটোর মধ্যে রয়েছে মহাপাপ।আর মানুষের জন্য উপকারিতাও আছে।তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বেশি।
মদ সংক্রান্ত দ্বিতীয় নির্দেশ জারি হলো সূরা নিসার ৪৩ নং আয়াতে। “ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানু লা তাকরবুস সলাতা ওয়া আনতুম শুকা-র,হাত্তা তাঅ্লামু মা তাকুলুন” অর্থাৎ হে ঈমানদার ব্যক্তিগণ!তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন নামাযের ধারে কাছে যেও না। যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও-যা কিছু তোমরা বলছো।
মাদকের করাল গ্রাসে যুব সমাজ আজ সৃজনশীল কাজে মেধা, যোগ‍্যতা ও প্রজ্ঞার আশানুরূপ অবদান রাখতে পারছে না। যে যুবক তার যোগ্যতাকে পরিবার, দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে লাগাতে পারত, মাদকের নীল দংশনে তার সুকুমার বৃত্তি নষ্ট করে ক্রমান্বয়ে তাকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করছে। উপরন্তু কালিমা, নামায,রোযা, হজ ও যাকাতসহ মহান স্রষ্টার বিধিবদ্ধ দৈহিক ও আর্থিক ইবাদাত থেকে দূরে রাখে এবং পাপাচারে লিপ্ত রাখে।এতে পরম করুণাময় আল্লাহ রব্বুল আলামীন অসন্তুষ্ট হন।এই মর্মে কুরআন মজীদে আল্লাহ তায়ালা মদ নিষিদ্ধ হওয়ার চূড়ান্ত বা শেষ নির্দেশ দিলেন সূরা আল-মায়েদার ৯০–৯১ নং আয়াতে । “ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানু ইন্নামাল খামরু ওয়াল মায়সিরু ওয়াল আনসাবু ওয়াল আজলামু রিজসুম মিন আমালিশ শায়তনি ফাজতানিবুহু লায়াল্লাকুম তুফলিহুন। ইন্নামা ইউরিদুস শায়তনু আঁই ইউকিয়া বায়নাকুমুল আদাওয়াতা ওয়াল বাগ-দআ ফিল খামরি ওয়াল মায়সিরি ওয়া ইয়া সুদ্দাকুম আন যিকরিল্লাহি ওয়া আনিস সলাতি ফাহাল আনতুম মুনতাহুন” অর্থাৎ হে মুমিনগণ! এই মদ,জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক তীরসমূহ―এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ। অতএব এগুলো থেকে বেঁচে থাকো, তাতে তোমরা কল‍্যাণ প্রাপ্ত হবে।শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামায থেকে তোমাদের বিরত রাখতে। তবুও কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না?
মাদক সেবন ইসলামী ফৌজদারী আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।ইমাম আবু হানিফা(রহঃ)-এর মতে
মদ্যপানের শাস্তি ৮০টি বেত্রাঘাত। কুরআন হাদীসে উল্লিখিত ‛আাল খামর’ অর্থ বিলুপ্তি আর মাদক সেবন ব্যক্তির জ্ঞান ও ধনের বিলুপ্তি, বিবেকের মৃত্যু,
সামাজিক অনাচার এবং ধ্বংস ডেকে আনে। ইসলাম মনস্তাত্ত্বিক, বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবসম্মত উপায়ে মানুষকে বদভ্যাস ত্যাগ করার পন্থা দিয়েছে। রাসূল (সাঃ) বলেই দিয়েছেন যে, সর্ব প্রকার অন্যায়, অপরাধ ও অশ্লীলতার জন্মদাতা হচ্ছে মদপানের অভ্যাস। এর মাধ্যমে মানুষ নিকৃষ্টতর পাপের দিকে ঝুঁকে যায়। নাসায়ী শরীফের হাদীসে আছে― “মদ ও ঈমান একত্রিত হতে পারেনা।”
এছাড়া হযরত আনাস (রাঃ) এবং ইবনে ওমর (রাঃ)-এর বর্ণিত বিখ্যাত হাদীস হলো,
“রাসূল(সাঃ) দশ ব্যক্তির জন্য লানত বা অভিশাপ দিয়েছেন।তারা হল―(১)যে মদ বানায়,(২)যে মুল কারিগর,(৩)যে পান করে,(৪)যে পান করায়, (৫) আমদানীকারক,(৬)যার জন্য আমদানী করা হয়,(৭)বিক্রেতা,(৮)ক্রেতা, (৯) সরবরাহকারী এবং(১০)তার লভ্যাংশ ভোগকারী।”
(তিরমিযী- ১২৯৫, আবু দাউদ-৩৬৭৪)।
মাদকমুক্ত জীবন ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে বাস্তবসম্মত কিছু পদক্ষেপ—
(ক)মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং তাদের সঙ্গে ও তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে Councelling-এর ব্যবস্থা করা।
(খ)মাদকের ক্ষতিকর দিক ও প্রভাব সম্পর্কে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালানো।
গ) মাদক জাতীয় দ্রব্য–
ব্যবসায়ীরা যাতে এলাকায় বিক্রি না করে সে বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা।
(ঘ)মাদকাসক্ত ব‍্যক্তিদের সামাজিক বয়কট করা।
(ঙ)মাদকাসক্ত ব‍্যক্তিদের আর্থিক জরিমানা করা।
(চ) মসজিদ কমিটি, ইমাম, ক্লাব কমিটি ও সমাজের প্রভাবশালী ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে মাদক বিরোধী কমিটি গঠন করা।
(ছ) দৃষ্টান্তমূলক শাস্ত্রির ব‍্যবস্থা করা যায় কিনা সে বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করা।
(জ্) শাস্তির ক্ষেত্রে ধনী গরীব পার্থক্য না করা।
(ঝ) মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের জানাযা না পড়া।
(ঞ)Councelling-এর পর গরীব ও অসহায় ব্যক্তি, যারা
মাদকমুক্ত জীবন যাপন করতে আগ্রহী তাদের সুচিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্য ও সহায়তা প্রদান করা ইত্যাদি।
মাদকাসক্তি একটি জঘন্য সামাজিক ব‍্যাধি―তাই
সামাজিক আন্দোলন, গণসচেতনতা ও সক্রিয় প্রতিরোধের মাধ্যমেই এর প্রতিকার করা সম্ভব।ঘর থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ,মসজিদ,মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাড়া-মহল্লা ও এলাকায় মাদক দ্রব্য ব‍্যবহারের বিরুদ্ধে কার্যকরী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।মাদক দ্রব্যের মারাত্মক পরিণতি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে নিয়মিত সভা-সমিতি,সেমিনার, কর্মশালার আয়োজন করতে হবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় ধর্মীয় বিধি-বিধান সম্পর্কিত ক্লাস নিতে হবে।
মসজিদের ইমাম খতিবদের ভাষণে মাদকের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সোচ্চার থাকতে হবে এবং মাদকের কুফল সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টি করে মাদকের অবৈধ উৎপাদন, বিপণন,ব্যবহার ও চোরাচালান রোধ-সহ সকল স্তরের মুসুল্লিদের কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
মাদক ত‍্যাগের ব্যাপারে আসক্ত ব্যক্তিদেরও আত্মপ্রত্যয়ী হওয়া দরকার। মাদক থেকে বিরত থাকার জন্য নিজস্ব উদ্যোগই সবথেকে ভালো। নিজ থেকে নেশা ছাড়া সম্ভব না হলে তাদের ইসলামী মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্র প্রদত্ত সহযোগিতা গ্রহণ করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম ও যুব সমাজে মাদকাসক্তির নেশায় যে নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি হয়েছে,তা থেকে কেবল ইসলামী চেতনা ও মূল্যবোধই প্রতিরোধ করতে পারে।
আমরা যারা মাদকমুক্ত জীবন ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন করতে চাই, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) যে সোনালী সমাজ বিনির্মাণ করেছিলেন ওহী-এ-ইলাহীর মাধ্যমে তার শরনাপন্ন হতে হবে। মানুষের মনগড়া মতবাদ,বা মস্তিষ্ক প্রসূত চিন্তা ভাবনার দ্বারা তা নির্মূল করা কখনোই সম্ভবপর নয়।
মানুষের মনো জগতের পরিবর্তন আনতে হবে।পরকালীন জীবনে সকল বিষয়ের জবাব দানের চেতনাকে সুদৃঢ় করতে হবে। নির্দেশ দিয়ে, আইন করে, জবরদস্তি করে নয় বরং যতক্ষণ না তাদের মন মস্তিষ্কের পরিবর্তন এসে আল্লাহর কথা মানার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হচ্ছে। পার্থিব জীবনের ছোট-বড়, গোপন-প্রকাশ্য সকল প্রকার কাজের হিসাব দেওয়ার জন্য মানুষের মনে সাড়া না জাগলে মানুষ ‘মানুষ’ হবে না। তাদের বিবেক কাজে লাগবে না।
সুতরাং মাদকমুক্ত জীবন ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে,এ মাদক বা ড্রাগের ভয়াবহ বিষাক্ত ছোবল থেকে নিজে বাঁচুন, আগামী প্রজন্মকে বাঁচান।ব‍্যক্তিক,পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মূল‍্যবোধ রক্ষা করুন। সংস্কারমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে জনসাধারণের,বিশেষ করে যুব সমাজের মধ্যে প্রোথিত করুন,মাদক বিরোধী চেতনাকে।তবেই আমরা মাদকমুক্ত জীবন ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পারবো, গড়ে তুলতে পারবো সুস্থ, সুন্দর ও অনাবিল এক সমাজব্যবস্থা।

*******************************
*তথ‍্যসূত্র:―*
১)মাসিক মদীনা, আগষ্ট,১৯৯৯
২)পূবের কলম(দ্বীন দুনিয়া),২৯ নভেম্বর, ২০১৩
৩)সাপ্তাহিক মীযান,১৬ সেপ্টেম্বর,২০১৮
৪)বিজ্ঞান চিন্তা-‘নেশা থেকে মুক্ত হতে’–ডাঃ আহমেদ হেলাল,১৪ এপ্রিল,২০২১
৫)দিন দর্পণ, ঈদ সংখ্যা,২০২৪
৬)সাপ্তাহিক মীযান, ঈদ সংখ্যা,৭ এপ্রিল,২০২৪
৭)সাপ্তাহিক মীযান, বিশেষ সংখ্যা,২৫ আগষ্ট,২০২৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here