কলকাতার লাইভ মিউজিকের নেপথ্য কারিগরদের লড়াই, সরকারি স্বীকৃতির দাবি অ্যাসোসিয়েশনের
কলকাতা: কলকাতার বুকে সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে যাঁরা রাতদিন কাজ করে চলেন, সেই ব্যান্ড অর্গানাইজাররা এবার একজোট হলেন নিজেদের অধিকারের দাবিতে। রাজ্য সরকারের কাছে সরাসরি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির আবেদন জানাল ‘কলকাতা লাইভ ব্যান্ড অর্গানাইজার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’। গত ১ জুলাই মহানগরে আয়োজিত একটি সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের প্রবীণ সদস্যরা তাঁদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন।
সংগঠনের প্রাক্তন অধ্যক্ষ বাদল সরকার আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সদস্যরা দশকের পর দশক ধরে কলকাতার বুকে ‘ব্যান্ড অর্গানাইজার’ হিসেবে কাজ করে চলেছেন। অথচ আজ পর্যন্ত কোনো আইনি স্বীকৃতি মেলেনি। আমরা আশা করছি, রাজ্যের নতুন সরকার এবার এই বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ করবে।” সংগঠনের অপর এক প্রবীণ সদস্য কুমারেশ ঘোষ (বুম্বা) জানান, পূর্বতন সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের কাছ থেকে অতীতে কোনো সুরাহা মেলেনি। তাই বর্তমান সরকারের কাছে তাঁরা ন্যায্য বিচার আশা করছেন।
ব্যবসায়িক স্বাধীনতা ও নিয়মের বেড়াজাল মুক্তির দাবি:
বর্তমানে কলকাতার কোনো হোটেল বা রেস্তোরাঁয় সংগীতশিল্পী বা বাদকদল জোগান দিতে গেলে অর্গানাইজারদের চরম হেনস্থার শিকার হতে হয়। প্রথমে কলকাতা পৌরনিগম এবং পরে লালবাজারের বিভিন্ন বিভাগে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে একটি নির্দিষ্ট হোটেলের জন্য অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু বড় সমস্যা হলো, সেই অনুমতির ভিত্তিতে অন্য কোনো হোটেলে শিল্পী সরবরাহ করা যায় না। এই জটিল নিয়মের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের যেকোনো হোটেলে প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাধীনভাবে সংগীতশিল্পী ও যন্ত্রশিল্পী সরবরাহ করার অধিকার এবং সরকারিভাবে ‘ব্যান্ড অর্গানাইজার’ পদের স্বীকৃতিই তাঁদের মূল দাবি।
আইনি লড়াই ও গৌরবময় অতীত:
সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত থাকা বিশিষ্ট আইনজীবী অসীম কর্মকার জানান, এই পেশাদারদের কীভাবে আইনি পথে স্বীকৃতি দেওয়া যায়, তা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এবং এই লড়াইয়ে তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে উদ্যোক্তারা অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে মনে করিয়ে দেন যে, আজ আমাদের সমাজে ও সংগীতজগতে যাঁরা অত্যন্ত প্রতিষ্ঠিত এবং খ্যাতনামা শিল্পী, তাঁদের অনেকেই কেরিয়ারের শুরুতে কলকাতার এই হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতেই গান গাইতেন। ফলে এই পেশার গুরুত্ব ও ঐতিহ্য অপরিসীম। এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং নেপথ্যের মানুষদের সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা দিতে এই সরকারি স্বীকৃতি এখন সময়ের দাবি।
——————————
রিপোর্টার – সুব্রত চ্যাটার্জী
