আন্তর্জাতিক সাহিত্য দিশারীর বর্ণময় সাহিত্য উৎসবে ঝলমল করল কলকাতা — এক মঞ্চে কবি, শিল্পী, গবেষক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা!

0

সম্প্রতি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ ধর্মাঙ্কুর সভাগৃহে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠান জেনারেশন অ্যাচিভার-এর সাহিত্য শাখা আন্তর্জাতিক সাহিত্য দিশারী-র এক অনন্য সাহিত্য ও সংস্কৃতি মেলবন্ধনের অনুষ্ঠান। বর্ণময় এ অনুষ্ঠানে যেমন ছিল সাহিত্য, সঙ্গীত ও আবৃত্তির সুষমা, তেমনই দেখা মিলল বিভিন্ন প্রজন্মের সাহিত্যিক, সমাজকর্মী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পরিবেশ সচেতন বার্তার প্রতীক স্বরূপ চারা গাছে জল ঢেলে। উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক সাহিত্য দিশারীর সভাপতি প্রাক্তন ব্রিগেডিয়ার তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়, সহ সভাপতি ড. দীপ্তি মুখার্জি, সম্পাদক ও খ্যাতনামা ঔপন্যাসিক সিরাজুল ইসলাম ঢালী, সহ-সম্পাদক ড. মুস্তাক আহমেদ, এবং বেতার-দূরদর্শন খ্যাত লোকসঙ্গীতশিল্পী সত্যরঞ্জন মন্ডল

শিশুশিল্পী রূপকথা সমাদ্দার হারমোনিকার সুরে অনুষ্ঠানের প্রথমাংশে দর্শকদের মুগ্ধ করে তোলে। শুরুতেই মঞ্চে ভেসে ওঠে এক সুরেলা সুরধ্বনি, যা গোটা অনুষ্ঠানকে সুরভিত করে তোলে।

এদিনের আসরে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও সরকারি আধিকারিক মহাশ্বেতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিশ্রুতিশীল কবি প্রতীক মুখার্জি, বঙ সিনেমেটিকের কর্ণধার বিশ্বরূপ সিনহা, কবি শিব শংকর বক্সী, নদীয়া হিউম্যান রাইটস প্রতিনিধি জয়ন্ত মেট, গবেষক ও অধ্যাপক ড. স্বরূপ মালাকার, গীতিকার ড. সোমনাথ দে, গায়িকা প্রণতি সাহা, আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক মহামঞ্চের প্রতিনিধি রূপা শিকদার, এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য দিশারীর প্রধান কার্যনির্বাহী কবি ও সমাজসেবী সুমিতা পয়ড়্যা

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড প্রাপ্ত বিশ্ববরেণ্য কবি ও সাহিত্যিক পৃথ্বীরাজ সেন, কবি ও নৃত্যশিল্পী ডালিয়া রায়, সাহিত্যিক-অভিনেতা অজয় ভট্টাচার্য, সমাজসেবী পুলিশ আধিকারিক উদয় শংকর হালদার, কবি কৃষ্ণা দাস, আইনজীবী উত্তম প্রামাণিক, সমাজকর্মী সুদীপা চ্যাটার্জী, কবি ও সমাজসেবী কৃষ্ণকলি বেরা, হলদিয়ার সাহিত্য ব্যক্তিত্ব দীপক পণ্ডা, পরিবেশ কর্মী ও সাহিত্যিক রঞ্জিত কুমার দে, প্রবীণ সাংবাদিক ও লালন গবেষক বরুণ চক্রবর্তী, এবং মেঠো কবি অচিন্ত্য মণ্ডল

অনুষ্ঠানে শিক্ষক, কবি ও সাহিত্যিক বৈদ্যনাথ পাল-কে “মাতৃভাষা জয়ী কৃতি বাঙালি সম্মান” প্রদান করে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়, যা অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করে।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আবৃত্তিশিল্পী শিউলি সরকার ও অনুষ্ঠানের শেষভাগে সঞ্চালনার গুরুদায়িত্ব পালন করেন সুপ্রিয়া ঘোষ। শান্তিনিকেতন থেকে আগত কবি চিরন্তন দাস, কবি শিক্ষক শুভ্র ব্যানার্জী ও কবি অনুরাধা চক্রবর্তী-র উপস্থিতিও অনুষ্ঠানকে গৌরবান্বিত করে।

আন্তর্জাতিক সাহিত্য দিশারী যে সাহিত্যের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে চায়, তা এ দিনের অনুষ্ঠানে আবারও স্পষ্ট হল। এই প্রাণবন্ত মিলনমেলায় সাহিত্য, সমাজসেবা ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটল। সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা, অংশগ্রহণ ও সাংগঠনিক দক্ষতায় অনুষ্ঠানটি নিঃসন্দেহে এক সার্থক দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here