স্বামী বিবেকানন্দের জন্মতিথিতে তাঁর পৈতৃক ভিটে সিমলা স্ট্রিটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকা মুড়ে ফেলা হয়েছিল বিশেষ পোস্টারে। আর সেই পোস্টার ঘিরেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক, যার জেরে শেষমেশ কড়া পদক্ষেপ নিতে হলো খোদ অভিষেককেই।
কী ঘটেছিল সিমলা স্ট্রিটে?
১২ জানুয়ারি বিবেকানন্দের জন্মদিন উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও সিমলা স্ট্রিটে শ্রদ্ধা জানাতে পৌঁছান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর পৌঁছানোর আগেই এলাকার বিভিন্ন মোড়ে এবং বিবেকানন্দের ভিটের আশেপাশে অসংখ্য নীল-সাদা পোস্টার দেখা যায়। সেই পোস্টারে অভিষেকের ছবির উপরে লেখা ছিল ‘স্বাগতম যুবরাজ’। পোস্টারগুলির নিচে সৌজন্যে নাম ছিল জোড়াসাঁকোর স্থানীয় বিধায়ক বিবেক গুপ্তর।
বিতর্কের সূত্রপাত
স্বামী বিবেকানন্দের মতো এক বিশ্ববরেণ্য মনীষীর জন্মস্থানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘যুবরাজ’ হিসেবে অভিহিত করা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানায় বিরোধী দলগুলো। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার— প্রত্যেকেই এই ঘটনাকে ‘অপসংস্কৃতি’ ও ‘ব্যক্তিপূজা’ বলে কটাক্ষ করেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও নেটিজেনদের একাংশ বিষয়টিকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অভিষেকের পদক্ষেপ ও পোস্টার অপসারণ
বিতর্কের আঁচ বাড়তেই সক্রিয় হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, স্বামীজির বাসভবনের সামনে এমন ‘রাজকীয়’ সম্বোধন তাঁর নিজেরও পছন্দ হয়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি তৎক্ষণাৎ বিধায়ক বিবেক গুপ্তকে নির্দেশ দেন সেই বিতর্কিত পোস্টারগুলো সরিয়ে ফেলার জন্য।
অভিষেকের নির্দেশের পর তড়িঘড়ি এলাকা থেকে ‘যুবরাজ’ লেখা সেই সমস্ত ব্যানার ও পোস্টার খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিতর্কের রাশ টানতেই এমন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড।
বিরোধীদের তোপ
এই ঘটনায় বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “যাঁরা মনীষীদের যোগ্য সম্মান দিতে জানে না, তারাই এমন কাজ করতে পারে।” অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর মতে, ভক্তি প্রদর্শন করতে গিয়ে তৃণমূল শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
তবে শেষ পর্যন্ত অভিষেকের হস্তক্ষেপে পোস্টার সরানোর ঘটনায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, সিমলা স্ট্রিটের এই ‘পোস্টার রাজনীতি’ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
