Home LITERATURE কলকাতার কলেজ স্কোয়ারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালন: দুই...

কলকাতার কলেজ স্কোয়ারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালন: দুই বাংলার মিলনমেলায় সম্মানিত কবি অম্বরীশ ব্যানার্জী

0

নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: ১৯৫২ সালের অমর ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার অঙ্গীকার নিয়ে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কলেজ স্কোয়ারে উদযাপিত হলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস। গত ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, শনিবার কলেজ স্ট্রিট সংলগ্ন ঐতিহাসিক বেঙ্গল থিওসফিক্যাল সোসাইটি হলে এই মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এশিয়ান কালচারাল একাডেমি তথা আশা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি আক্ষরিক অর্থেই দুই বাংলার কবি, সাহিত্যিক ও গুণীজনদের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল।
সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডঃ সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। উদ্বোধনী বক্তব্যে ডঃ ঘোষ ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘আন্তর্জাতিক আমার ভারত’ পত্রিকার পঞ্চম সংখ্যার আনুষ্ঠানিক উন্মোচন। উপস্থিত অতিথিবৃন্দ সম্মিলিতভাবে এই পত্রিকার নতুন সংখ্যাটি জনসমক্ষে প্রকাশ করেন। পত্রিকাটির সম্পাদক শেখ সাকিল আহমেদ জানান, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রসারে এই পত্রিকা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এদিনের অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ ও গৌরবময় মুহূর্ত ছিল প্রখ্যাত কবি ও সমাজকর্মী অম্বরীশ ব্যানার্জীর হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া। বাংলা সাহিত্যের আঙিনায় দীর্ঘদিনের কাব্যচর্চা এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁকে এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁকে উত্তরীয় ও মানপত্র দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। যদিও পেশাগত ব্যস্ততার কারণে পশ্চিম বর্ধমান জেলার লাইব্রেরিয়ান বিশ্বজিৎ বাউরি মহাশয় মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে পরবর্তীতে তিনি কবি অম্বরীশ ব্যানার্জীর হাতে বিশেষ সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন। গুণী এই কবির দীর্ঘায়ু ও সাহিত্যচর্চার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বাঙালি বিশ্বকোষের প্রধান সম্পাদক আব্দুল করিম বলেন, “ইউনেস্কো বাংলা ভাষাকে বিশ্বের সকল ভাষার মা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত ৭০০০-এর বেশি ভাষার মধ্যে বাংলা ভাষার এই গৌরবোজ্জ্বল স্থান আমাদের অহংকার। ২১শে ফেব্রুয়ারি আজ কেবল আমাদের নয়, সারা বিশ্বের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।”
আশা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সোহেল আখতার তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মাতৃভাষা আমাদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। আমরা চাই এই ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবীন ও প্রবীণ সাহিত্যিকদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করতে।”
অনুষ্ঠানে দুই বাংলার বিশিষ্ট নক্ষত্রদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উপস্থিত ছিলেন বরুণ চক্রবর্তী, কবি ড. অনরুদ্ধ পাল, প্রবীণ কবি সত্যব্রত চৌধুরী, কবি ড. আকসার আলী, শান্তিপুর কলেজের অধ্যক্ষ ড. চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কবি ও শিক্ষক কালিচরণ সর্দার, কবি অরূপ সরকার, কবি সুযস কান্তি ঘোষ এবং পুরুলিয়া ডরমুট লাইব্রেরীর লাইব্রেরিয়ান বলাই মন্ডল। এছাড়াও নারী শক্তির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব জননী বাংলা ভাষা পত্রিকার সম্পাদিকা সৈয়েদা বেগম এবং শিক্ষিকা সরস্বতী অধিকারী।

বাংলাদেশ থেকে আগত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সাবরিনা ইসলাম নীড়, মোঃ নজিবুর রহমান এবং রাফিয়া সুলতানা। এছাড়াও ডক্টর আকবর আলী, সমাজকর্মী এস এম শামসুল হক, ঝাড়খণ্ডের মথুরাপুর কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ আব্দুল রইস খান এবং কবি জয়দেব রায় চৌধুরীসহ শতাধিক কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পী এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ অনুষ্ঠানটি চলে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। আমন্ত্রিত কবি ও সাহিত্যিকদের স্বরচিত কবিতা পাঠ, দেশাত্মবোধক সংগীত এবং বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে পুরো প্রেক্ষাপট এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়। পরিশেষে, আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানানো হয় এবং কবি অম্বরীশ ব্যানার্জীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version