হাওড়ার শিবপুর পুলিশ লাইনের বক্সিং রিংয়ে উৎসবের আবহে সম্পন্ন হলো দু’দিনব্যাপী সাব-জুনিয়র বালক ও বালিকা রাজ্য বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬। ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রোগ্রেসিভ বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় রাজ্যের ১২টি জেলার শতাধিক প্রতিভাবান বক্সার অংশগ্রহণ করে নিজেদের দক্ষতা ও লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। টুর্নামেন্ট জুড়ে বিভিন্ন ওজন বিভাগের বালক ও বালিকা বক্সারদের মধ্যে হওয়া হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। প্রতিটি বাউটে খেলোয়াড়দের কৌশল এবং আত্মবিশ্বাসের দুর্দান্ত প্রদর্শনী ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা আগামী দিনে পাঞ্জাবের জলন্ধরে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় স্তরের বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ লাভ করেছেন।সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রোগ্রেসিভ বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাক্টিং সেক্রেটারি কুনাল সাহা, হাওড়া ডিস্ট্রিক্ট বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুকুল নাথ তিওয়ারি, হাওড়া ডিস্ট্রিক্ট বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি গোস্বামী সিং, ভাটপাড়ার বিধায়ক পবন সিং এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী অখিলেশ সিং। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৌম্যশঙ্কর বোস, কৌশিক বিশ্বাস, প্রমোদ সিং, বিশ্বরঞ্জন দাস এবং বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সঙ্গীত পরিচালক অভিজিৎ পাল। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিভাবান বক্সারদের তুলে এনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করাই এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য। অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীদের পারফরম্যান্স অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলেও তাঁরা অভিমত প্রকাশ করেন।টুর্নামেন্টের বালক বিভাগের ফলাফলে ৩০-৩৩ কেজি বিভাগে সেনেহাল মাহাতো, ৩৩-৩৫ কেজি বিভাগে রায়ানস গোমস, ৩৫-৩৭ কেজি বিভাগে রৌনক মাহাতো, ৩৭-৪০ কেজি বিভাগে সমীর কুমার, ৪০-৪৩ কেজি বিভাগে ওয়াসিম পারভেল, ৪৩-৪৬ কেজি বিভাগে শ্রীকান্ত নারায়ণ, ৪৬-৪৯ কেজি বিভাগে এস. তামাং, ৪৯-৫২ কেজি বিভাগে অনেশ রোচ এবং ৫২-৫৫ কেজি বিভাগে মনীশ পাসোয়ান স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন। অন্যদিকে, বালিকা বিভাগের ৪৬-৪৯ কেজি ওজনে অদিতি সাহা এবং ৬৪-৬৭ কেজি বিভাগে মানভীন তিরতীয়া স্বর্ণপদক জয় করেছেন। এছাড়া, সেরা বক্সারের পুরস্কার পেয়েছেন যথাক্রমে সমীর কুমার ও অদিতি সাহা। দলীয় চ্যাম্পিয়নশিপে বালক বিভাগে হাওড়া ডিস্ট্রিক্ট বক্সিং অ্যাসোসিয়েশন (HDBA) এবং বালিকা বিভাগে হুগলি জেলা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও মেডেল তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জলন্ধরের জাতীয় প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত বক্সারদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা জাতীয় মঞ্চে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করতে পারে।
