ভোটের সার্কাস
সৌমেন সেন
পর্দায় যারা নায়ক সাজে, আজ তারা মেঠো নেতা,
মাঠে নেমে অভিনয় করে, শুনছে মানুষের ব্যথা।
এসি গাড়ি ছেড়ে রোদে পুড়ে, গ্রামে দিচ্ছে হানা,
ভোটের টানেই চেনা হচ্ছে— অচেনা সব পাণা।
কখনো দাড়ি চাঁছে নাপিত সেজে, কখনো রাঁধছে ভাত,
মানুষকে নয়, ইভিএম-কে আজ মেলাচ্ছে তারা হাত।
চাষির জমিতে লাঙল ধরে, গরু চরায় মিছে,
ক্যামেরা পেছনে ছুটছে তাদের, নেতা ছুটছে পিছে।
মাটির উনুনে ঘসি মারে, কুঁড়েঘরে খায় জল,
ভোট মিটে গেলেই উধাও হবে— এই অভিনব দল।
কাল যে ছিল পর্দার লোক, আজ সে ঘরের ছেলে,
পায়ের ধুলো মাথায় নেয় সে— একটু সুযোগ পেলে।
মিটিং-এ গেলেই মিলবে প্যাকেট, সাথে বিরিয়ানি,
পকেট ভরবে কড়কড়ে নোটে, ঘুচবে চোখের পানি।
রাতের অন্ধকারে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরছে মদের গাড়ি,
নেশা খাইয়ে দিচ্ছে ভোটটা— ভাঙছে জেদের হাঁড়ি।
দামী বোতল আর কটা টাকা, গরিবের এই দাম?
পাঁচ বছরে একবারই শুধু বিক্রি হয় ঘাম।
দেবতা সেজে আশীর্বাদ নেয়, মায়ের ধরে পা,
জেতার পরে পাল্টে যাবে— নেতার মনের ছা।
সেদিন আর পাবেনা তাদের মেঠো মাটির পথে,
আঙুল তুলে বাঁশ দেবে সে— মস্ত সোনার রথে।
তখন আর নেই বিরিয়ানি, নেই তো মদের ঘ্রাণ,
মিথ্যে কথার জালে কেবল— অতিষ্ঠ হবে প্রাণ।
ভোটের সময় অভিনেতা যারা, ভোট ফুরোলে যম,
মানুষকে তারা ভেড়া ভাবে, বুদ্ধি তাদের কম।
অভিনয় শেষে পর্দা নামলে, নেতা যখন রাজা,
মিথ্যে মায়ার ফাঁদে পড়ে— জনগণই পায় সাজা।