আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় আসামের জনপ্রিয় সাহিত্য পত্রিকা ‘মার্তণ্ড’-এর বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত

0

উত্তর-পূর্ব ভারতের আসামের অন্যতম জনপ্রিয় সাহিত্য মুখপত্র ‘মার্তণ্ড’ পত্রিকার বিশেষ সংখ্যার বর্ণাঢ্য প্রকাশনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হলো আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে। গত ২৯শে মার্চ ২০২৬ সন্ধ্যায় বইমেলার জনসমুদ্রের মাঝে আসাম ও বাংলার সাহিত্য মেলবন্ধনের এক অনন্য নজির স্থাপন করে এই পত্রিকাটি। আসামের প্রখ্যাত কবি শ্রী শৈলেন দাসের সুযোগ্য সম্পাদনায় এবং শ্রীমতি সুবিদিতা কুণ্ডুর পরিচালিত ‘শব্দ বিতান প্রকাশনী’-র বিশেষ সহযোগিতায় এই সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে।কলকাতা বইমেলার সেই সন্ধ্যায় বহু নবীন ও প্রবীণ সাহিত্যিকের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশে ‘মার্তণ্ড’ পত্রিকার আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও প্রখ্যাত কবি-সাহিত্যিক শ্রী বাদল বর্মন। উল্লেখ্য, শ্রী বর্মন একাধারে জাতীয় স্তরের প্রথিতযশা খেলোয়াড় এবং বর্তমানে কলকাতা পুলিশের লালবাজারে কর্মরত। কালজয়ী সাহিত্যিক অদ্বৈত মল্লবর্মনের সুযোগ্য বংশধর হিসেবে পরিচিত শ্রী বাদল বর্মনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতেই এই পত্রিকাটি প্রকাশের আলোর মুখ দেখেছে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই আয়োজনের গরিমা বৃদ্ধি করেন বিশিষ্ট প্রবীণ সাহিত্যিক শ্রী ধনঞ্জয় সিংহ, কবি ও সাংবাদিক প্রবীর চন্দ, কবি তপন শিকদার, শঙ্কর পূততুন্ডু, কবি চন্দনা কুণ্ডু এবং সুবোধ চন্দ্র সরকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শব্দ বিতান প্রকাশনীর কর্ণধার সুবিদিতা কুণ্ডু এবং আলোকবর্তিকা চ্যানেলের বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রজ্ঞা পারিজাতসহ আরও অনেক গুণীজন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রী বাদল বর্মন পত্রিকার সম্পাদক শৈলেন দাসের অনুপস্থিতিতে তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শৈলেন দাসের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাহিত্যের প্রতি মমত্ববোধই ‘মার্তণ্ড’-কে এই উচ্চতায় নিয়ে এসেছে। সম্পাদক সশরীরে উপস্থিত না থাকতে পারলেও শ্রী বর্মনের সুদক্ষ সঞ্চালনায় সেই শূন্যতা অনুভূত হয়নি। অনুষ্ঠানের মূল পর্বে উপস্থিত অতিথিদের হাতে পত্রিকাটির কপি তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের উত্তরীয় ও স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হয়।প্রকাশনা শেষে শব্দ বিতান প্রকাশনীর সম্পাদিকা শ্রীমতি সুবিদিতা কুণ্ডু এবং সাংবাদিক প্রজ্ঞা পারিজাত পত্রিকাটির নিয়মিত প্রকাশ ও গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়ে দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন। সবশেষে, শ্রী বাদল বর্মন উপস্থিত সকল কবি-সাহিত্যিককে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর স্নেহের অনুজ শৈলেন দাসের সুদীর্ঘায়ু ও উজ্জ্বল সাহিত্য জীবন কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানটি মূলত আসাম ও কলকাতার সাহিত্য জগতের মধ্যে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here