নিজস্ব প্রতিনিধি, উত্তর ২৪ পরগনা: বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতির পীঠস্থান নৈহাটি এবার সাক্ষী থাকল এক বহুমুখী প্রতিভার আত্মপ্রকাশের। উত্তর ২৪ পরগনার এই শিল্প-শহর থেকে উঠে আসা তৃণা মুখার্জ্জী বর্তমানে সাহিত্যচর্চা, গবেষণা এবং বাচিক শিল্পে এক উজ্জ্বল নাম। পেশায় শিক্ষিকা তৃণা সম্প্রতি তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘চর্যার পুনর্জন্ম: চৌথুপীর চর্যাপদ’ এর মাধ্যমে লেখক হিসেবে পাঠকমহলে বিপুল প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
তৃণা মুখার্জ্জীর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি রচিত হয়েছিল নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র কলেজে, যেখান থেকে তিনি বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাফল্যের সঙ্গে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি নিজেকে শিক্ষাকতা ও সাহিত্যের আঙিনায় নিয়োজিত করেন। তাঁর দীর্ঘদিনের গবেষণার ফসল ‘চর্যার পুনর্জন্ম: চৌথুপীর চর্যাপদ’ বইটি ২০২৬ সালের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় ‘শিল্প সৃজন পরিষদ ও প্রকাশনী’ থেকে প্রকাশিত হয়। চর্যাপদের মতো প্রাচীন ও জটিল বিষয়কে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপনের ফলে বইটি এতটাই সমাদৃত হয়েছে যে, স্বল্প সময়ের মধ্যেই এর দ্বিতীয় মুদ্রণ বাজারে এসেছে। মৌলিক গ্রন্থের পাশাপাশি বিভিন্ন সংকলন ও লিটল ম্যাগাজিনেও তাঁর নিয়মিত লেখনী পাঠকদের সমৃদ্ধ করছে।
শুধুমাত্র লেখনীই নয়, কণ্ঠশীলনের মাধ্যমেও তিনি পৌঁছে গেছেন অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে। ২০২৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন তাঁর আবৃত্তি শিক্ষা কেন্দ্র ‘পাপড়ির কবিতাঙ্কুর’। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই অসংখ্য ছাত্রছাত্রী কবিতার চর্চা করছে। বাচিক শিল্পকে প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে তিনি পরিচালনা করেন নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল ‘Trina Mukherjee Recitation’ এবং ফেসবুক পেজ ‘পাপড়ির কবিতাঙ্কুর’।
সাহিত্য ও আবৃত্তির মেলবন্ধনে তৃণা মুখার্জ্জী আজ তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণা। চর্যাপদের নব্য মূল্যায়নের মাধ্যমে তিনি যেমন বাংলা সাহিত্যের শিকড়কে বর্তমানের সঙ্গে যুক্ত করেছেন, তেমনি বাচিক শিল্পের প্রসারেও রাখছেন অগ্রণী ভূমিকা। শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি তাঁর এই নিরলস নিষ্ঠা ও সাফল্যের ধারা আগামী দিনে আরও সুদূরপ্রসারী হবে বলেই মনে করছেন গুণীজনরা।
নৈহাটির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন নক্ষত্র তৃণা মুখার্জ্জী: গবেষণামূলক লেখনী ও বাচিক শিল্পে বিশেষ ছাপ
Date:



