Home Uncategorized মঞ্চেই হেনস্থা! লগ্নজিতার পর এবার আক্রান্ত মধুবন্তী, কুঞ্জ সাজাও গান গাইতেই কেড়ে...

মঞ্চেই হেনস্থা! লগ্নজিতার পর এবার আক্রান্ত মধুবন্তী, কুঞ্জ সাজাও গান গাইতেই কেড়ে নেওয়া হলো মাইক!

0
নদীয়ার অনুষ্ঠানে সংগীত শিল্পী মধুবন্তী মুখোপাধ্যায়ের হেনস্থা

লগ্নজিতার পর এবার মধুবন্তী

সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে লগ্নজিতা চক্রবর্তীকে হেনস্থার ঘটনা এখনও মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আবার একই ধরণের নক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল রাজ্যে। এবার নিশানায় জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী মধুবন্তী মুখোপাধ্যায়। বাংলার সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নদীয়ায় গান গাইতে গিয়ে চরম অপদস্থ হতে হলো তাকে। মধুবন্তী মুখোপাধ্যায় এই ঘটনায় রীতিমতো স্তম্ভিত এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।

ঠিক কী ঘটেছিল নদীয়ার লালন উৎসবে?

গত ২১ ডিসেম্বর নদীয়ার মাজদিয়া কৃষ্ণগঞ্জ লালন উৎসবে লোকসংগীত পরিবেশন করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মধুবন্তীকে। মেলা প্রাঙ্গণে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে পারফর্ম করছিলেন তিনি। অনুষ্ঠান চলাকালীন তিনি যখন কালজয়ী লোকসংগীত ‘তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো’ শুরু করেন, তখনই ঘটে বিপত্তি। গানটি শেষ হতে না হতেই দর্শক আসন থেকে এক ব্যক্তি সরাসরি স্টেজে উঠে আসেন এবং গায়িকার হাত থেকে সজোরে মাইক্রোফোন কেড়ে নেন।

মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার কারণ

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ওই ব্যক্তির মূল আপত্তি ছিল গানের বিষয়বস্তু নিয়ে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, কোনো ধরণের ‘জাতপাত’ বা নির্দিষ্ট ভাবধারার গান জনসমক্ষে গাওয়া যাবে না। একজন পেশাদার শিল্পী হিসেবে মধুবন্তী মুখোপাধ্যায় যখন দর্শকদের মনোরঞ্জনের চেষ্টা করছিলেন, তখন এই ধরণের মৌলবাদী বা সংকীর্ণ মানসিকতার আক্রমণ অবাক করেছে সকলকেই। উৎসবের মেজাজ নিমেষের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আয়োজকদের ভূমিকা ও পরবর্তী পরিস্থিতি

পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই দ্রুত ব্যবস্থা নেন কৃষ্ণগঞ্জ লালন উৎসবের আয়োজকরা। তাঁদের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তায় বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আয়োজকরা সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে স্টেজ থেকে নামিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেন। শুধু তাই নয়, মাইকে ঘোষণা করা হয় যে, গায়িকা তাঁর ইচ্ছেমতো গান গাইবেন এবং কারও যদি তা পছন্দ না হয়, তবে তিনি অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যেতে পারেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মধুবন্তীর প্রতিক্রিয়া

এই গোটা ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মধুবন্তী মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘ সংগীত জীবনে এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন তিনি আগে কখনও হননি। পরবর্তীতে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি জানান, “একজন শিল্পীর কাছে তাঁর মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়া মানে তাঁর কণ্ঠ রোধ করা।” এই পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই নেটদুনিয়ায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে গুণীজনেরা প্রশ্ন তুলছেন—বাংলায় কি শিল্পীদের নিরাপত্তা তলানিতে এসে ঠেকেছে?

শিল্পীর নিরাপত্তা ও আগামীর শঙ্কা

লগ্নজিতা থেকে মধুবন্তী—পরপর দুটি ঘটনা প্রমাণ করছে যে মঞ্চে পারফর্ম করা শিল্পীদের নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। সংগীতের কোনো জাত হয় না, অথচ সেই সংগীতের জন্যই যদি হেনস্থার শিকার হতে হয়, তবে তা সুস্থ সমাজের পরিচয় দেয় না। এই বিষয়ে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ এবং জনসাধারণের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। নচেৎ আগামী দিনে কোনো শিল্পীই হয়তো মফস্বলের অনুষ্ঠানগুলোতে যাওয়ার সাহস দেখাবেন না।


আপনি কি মনে করেন শিল্পীদের গানে বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত? আপনার মতামত নিচে কমেন্ট করে জানান।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version