16 C
Kolkata
Friday, January 16, 2026
HomeUncategorizedমঞ্চেই হেনস্থা! লগ্নজিতার পর এবার আক্রান্ত মধুবন্তী, কুঞ্জ সাজাও গান গাইতেই কেড়ে...

মঞ্চেই হেনস্থা! লগ্নজিতার পর এবার আক্রান্ত মধুবন্তী, কুঞ্জ সাজাও গান গাইতেই কেড়ে নেওয়া হলো মাইক!

Date:

Related stories

রোয়েভার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ২০২৬

তামিলনাড়ুর পেরামবালুরে অবস্থিত প্রথিতযশা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রোয়েভার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ...

বিবেকানন্দের জন্মদিনে সিমলা স্ট্রিটে পোস্টার বিতর্ক! অভিষেকের নির্দেশে সরানো হলো ‘যুবরাজ’ লেখা ব্যানার

স্বামী বিবেকানন্দের জন্মতিথিতে তাঁর পৈতৃক ভিটে সিমলা স্ট্রিটকে কেন্দ্র...

খাঁটোরা ফুটবলে কে পি ডি ফাইনালে

ডোমজুড় খাটোরা নেতাজি সংঘ আয়োজনে আট দলীয় বিরাট ফুটবল...

AI কি কেড়ে নেবে আপনার চাকরি? কৃত্রিম মেধার দাপটে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব, টিকে থাকার উপায় কী?

বর্তমানে ট্রেন্ডিং এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো "আর্টিফিশিয়াল...

বাংলা চলচ্চিত্রের মহাসঙ্কট: সোনায় মোড়ানো অতীত থেকে কেন এই পতন?

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেনের...
spot_imgspot_img

লগ্নজিতার পর এবার মধুবন্তী

সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে লগ্নজিতা চক্রবর্তীকে হেনস্থার ঘটনা এখনও মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আবার একই ধরণের নক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল রাজ্যে। এবার নিশানায় জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী মধুবন্তী মুখোপাধ্যায়। বাংলার সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নদীয়ায় গান গাইতে গিয়ে চরম অপদস্থ হতে হলো তাকে। মধুবন্তী মুখোপাধ্যায় এই ঘটনায় রীতিমতো স্তম্ভিত এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।

ঠিক কী ঘটেছিল নদীয়ার লালন উৎসবে?

গত ২১ ডিসেম্বর নদীয়ার মাজদিয়া কৃষ্ণগঞ্জ লালন উৎসবে লোকসংগীত পরিবেশন করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মধুবন্তীকে। মেলা প্রাঙ্গণে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে পারফর্ম করছিলেন তিনি। অনুষ্ঠান চলাকালীন তিনি যখন কালজয়ী লোকসংগীত ‘তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো’ শুরু করেন, তখনই ঘটে বিপত্তি। গানটি শেষ হতে না হতেই দর্শক আসন থেকে এক ব্যক্তি সরাসরি স্টেজে উঠে আসেন এবং গায়িকার হাত থেকে সজোরে মাইক্রোফোন কেড়ে নেন।

মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার কারণ

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ওই ব্যক্তির মূল আপত্তি ছিল গানের বিষয়বস্তু নিয়ে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, কোনো ধরণের ‘জাতপাত’ বা নির্দিষ্ট ভাবধারার গান জনসমক্ষে গাওয়া যাবে না। একজন পেশাদার শিল্পী হিসেবে মধুবন্তী মুখোপাধ্যায় যখন দর্শকদের মনোরঞ্জনের চেষ্টা করছিলেন, তখন এই ধরণের মৌলবাদী বা সংকীর্ণ মানসিকতার আক্রমণ অবাক করেছে সকলকেই। উৎসবের মেজাজ নিমেষের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আয়োজকদের ভূমিকা ও পরবর্তী পরিস্থিতি

পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই দ্রুত ব্যবস্থা নেন কৃষ্ণগঞ্জ লালন উৎসবের আয়োজকরা। তাঁদের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তায় বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আয়োজকরা সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে স্টেজ থেকে নামিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেন। শুধু তাই নয়, মাইকে ঘোষণা করা হয় যে, গায়িকা তাঁর ইচ্ছেমতো গান গাইবেন এবং কারও যদি তা পছন্দ না হয়, তবে তিনি অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যেতে পারেন।

See also  স্বাধীন ভারতের গণতন্ত্র: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

সোশ্যাল মিডিয়ায় মধুবন্তীর প্রতিক্রিয়া

এই গোটা ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মধুবন্তী মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘ সংগীত জীবনে এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন তিনি আগে কখনও হননি। পরবর্তীতে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি জানান, “একজন শিল্পীর কাছে তাঁর মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়া মানে তাঁর কণ্ঠ রোধ করা।” এই পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই নেটদুনিয়ায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে গুণীজনেরা প্রশ্ন তুলছেন—বাংলায় কি শিল্পীদের নিরাপত্তা তলানিতে এসে ঠেকেছে?

শিল্পীর নিরাপত্তা ও আগামীর শঙ্কা

লগ্নজিতা থেকে মধুবন্তী—পরপর দুটি ঘটনা প্রমাণ করছে যে মঞ্চে পারফর্ম করা শিল্পীদের নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। সংগীতের কোনো জাত হয় না, অথচ সেই সংগীতের জন্যই যদি হেনস্থার শিকার হতে হয়, তবে তা সুস্থ সমাজের পরিচয় দেয় না। এই বিষয়ে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ এবং জনসাধারণের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। নচেৎ আগামী দিনে কোনো শিল্পীই হয়তো মফস্বলের অনুষ্ঠানগুলোতে যাওয়ার সাহস দেখাবেন না।


আপনি কি মনে করেন শিল্পীদের গানে বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত? আপনার মতামত নিচে কমেন্ট করে জানান।

Subscribe

- Never miss a story with notifications

- Gain full access to our premium content

- Browse free from up to 5 devices at once

Latest stories

spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here