বর্তমান যুগে যেকোনো বড় অনুষ্ঠান বা প্রদর্শনীর মঞ্চ মানেই নামী-দামী তারকা কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ভিড়। কিন্তু সেই চেনা ছক ভেঙে এক অনন্য নজির গড়লেন প্রিয়াঙ্কা দে। তাঁর আয়োজিত এক্সিবিশনের মঞ্চে কোনো সেলিব্রেটি বা মন্ত্রী নয়, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজের সেই প্রান্তিক মানুষগুলো, যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমাদের চারপাশ পরিষ্কার থাকে— অর্থাৎ ‘সাফাই কর্মী’ ভাইয়েরা।**সম্মানের নতুন সংজ্ঞা:**অনুষ্ঠানের আয়োজক প্রিয়াঙ্কা দে সমাজমাধ্যমে তাঁর এই বিশেষ ভাবনার কথা শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, তথাকথিত ভিআইপি-দের ভিড় এড়িয়ে তিনি বেছে নিয়েছেন সেই মানুষদের, সমাজ যাঁদের প্রায়ই অবহেলা করে। কেবল মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানোই নয়, তাঁদের উত্তরীয় ও মেডেল পরিয়ে যথাযথ সম্মানের সাথে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। আবেগঘন মুহূর্তে আয়োজক নিজে তাঁদের পা ছুঁয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেন। তাঁর মতে, এই কাজের মাধ্যমে তিনি যে মানসিক তৃপ্তি পেয়েছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। প্রিয়াঙ্কা দেবীর এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের এক জেদ— ‘অন্যভাবে ভাবার’ এবং ‘৫ জন মানুষের থেকে আলাদা কিছু করার’। তিনি বিশ্বাস করেন, সম্বর্ধনা মানে কেবল কিছু ফুলের তোড়া বা মিষ্টির প্যাকেট নয়; এর আসল মাহাত্ম্য লুকিয়ে থাকে শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার মধ্যে। তাঁর কথায়, “বড় বড় সেলিব্রেটিরা হয়তো এই সহজ সম্মানটুকুর মর্ম বুঝবেন না, কিন্তু এই মানুষগুলোর মুখে যে হাসি ফুটে উঠেছে, সেটাই আমার সার্থকতা।”
*সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে প্রিয়াঙ্কা দে এর আগেও প্রবীণ যৌনকর্মীদের অধিকার ও সম্মান নিয়ে কাজ করার সংকল্প নিয়েছেন। সেই ধারা বজায় রেখেই তাঁর আগামী ‘প্রাক-পুজো’ এক্সিবিশনেও থাকছে বড় চমক। সেখানেও তিনি সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং অবহেলিত শ্রেণির মানুষদের জন্য বিশেষ কিছু করার পরিকল্পনা করেছেন।সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রিয়াঙ্কা দে-র এই মানবিক উদ্যোগ আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। প্রদর্শনীর জৌলুসের মাঝে মানুষের প্রতি মানুষের এই শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ঘটনাটি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।


