চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে কিংবা নিজের কাজ সামলাতে গিয়ে আমরা অনেক সময় শিশুর বায়না মেটাতে তার হাতে স্মার্টফোন তুলে দেই। আপাতদৃষ্টিতে এটি সাধারণ মনে হলেও, আপনি আসলে আপনার সন্তানের হাতে স্মার্টফোন দিয়ে তার ভবিষ্যতের এক অপূরণীয় ক্ষতি করছেন। বর্তমান ডিজিটাল যুগে এটি একটি নীরব মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী।
স্মার্টফোন শিশুদের জন্য কেন নেশার মতো?
বিজ্ঞানীরা বলছেন, স্মার্টফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত আলো এবং এর রঙিন ভিডিও শিশুদের মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ নামক এক ধরণের হরমোন নিঃসরণ করে। এটি অনেকটা মাদকের নেশার মতো কাজ করে। যখন একজন অভিভাবক তার সন্তানের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেন, তখন শিশু ধীরে ধীরে বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এতে তাদের সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হয় এবং তারা অল্পতেই খিটখিটে মেজাজের হয়ে ওঠে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু দীর্ঘ সময় স্মার্টফোন ব্যবহার করে, তাদের সামাজিক যোগাযোগ দক্ষতা অন্যদের তুলনায় অনেক কম।
শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি
অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে শিশুদের ঘুমের প্যাটার্ন নষ্ট হয়ে যায়। স্মার্টফোনের নীল আলো (Blue Light) মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়, যা গভীর ঘুমের জন্য দায়ী। এর ফলে শিশুরা অবসাদ, মাথাব্যথা এবং চোখের সমস্যায় ভোগে।
মানসিকভাবেও তারা অনেক পিছিয়ে পড়ে। ইন্টারনেট দুনিয়ার অবারিত তথ্য এবং অনেক ক্ষেত্রে অনুপযুক্ত কন্টেন্ট তাদের কোমল মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে শিশুদের মধ্যে একাকীত্ব এবং বিষণ্নতার হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
ডিজিটাল আসক্তি থেকে সন্তানকে রক্ষার উপায়
আপনার সন্তানের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়ার পরিবর্তে তাকে আউটডোর গেমস বা শারীরিক পরিশ্রমে উৎসাহিত করুন। শিশুদের সময় দিন, তাদের সাথে গল্প করুন এবং বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। মনে রাখবেন, শৈশবে শিশুরা যা দেখে শেখে, সেটিই তাদের ব্যক্তিত্ব গঠনে ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, অন্তত ১২-১৪ বছরের আগে শিশুদের ব্যক্তিগত স্মার্টফোন দেওয়া উচিত নয়। যদি বিশেষ প্রয়োজনে দিতেও হয়, তবে তার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিন এবং সে কী দেখছে সেদিকে কড়া নজর রাখুন।
উপসংহার: সচেতনতাই বড় সমাধান
পরিশেষে বলা যায়, প্রযুক্তির ব্যবহার আমরা পুরোপুরি বন্ধ করতে পারব না। কিন্তু স্মার্টফোনের প্রতি আসক্তি কমিয়ে শিশুদের একটি সুন্দর ও সুস্থ শৈশব উপহার দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আপনার সামান্য সচেতনতা আপনার সন্তানকে একটি উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ দিতে পারে। আজই সিদ্ধান্ত নিন, আপনার আদরের সন্তানের হাতে স্মার্টফোন দেবেন নাকি তাকে সুন্দর একটি সময় কাটানোর সুযোগ করে দেবেন।



