21 C
Kolkata
Tuesday, January 13, 2026
HomeBLOGঅভাব কাকে বলে? এক ছাত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতায় কাঁদলেন পুরো ক্লাস

অভাব কাকে বলে? এক ছাত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতায় কাঁদলেন পুরো ক্লাস

Date:

Related stories

রোয়েভার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ২০২৬

তামিলনাড়ুর পেরামবালুরে অবস্থিত প্রথিতযশা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রোয়েভার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ...

বিবেকানন্দের জন্মদিনে সিমলা স্ট্রিটে পোস্টার বিতর্ক! অভিষেকের নির্দেশে সরানো হলো ‘যুবরাজ’ লেখা ব্যানার

স্বামী বিবেকানন্দের জন্মতিথিতে তাঁর পৈতৃক ভিটে সিমলা স্ট্রিটকে কেন্দ্র...

খাঁটোরা ফুটবলে কে পি ডি ফাইনালে

ডোমজুড় খাটোরা নেতাজি সংঘ আয়োজনে আট দলীয় বিরাট ফুটবল...

AI কি কেড়ে নেবে আপনার চাকরি? কৃত্রিম মেধার দাপটে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব, টিকে থাকার উপায় কী?

বর্তমানে ট্রেন্ডিং এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো "আর্টিফিশিয়াল...

বাংলা চলচ্চিত্রের মহাসঙ্কট: সোনায় মোড়ানো অতীত থেকে কেন এই পতন?

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেনের...
spot_imgspot_img

অর্থনীতির ক্লাসে প্রবীণ এক শিক্ষক ক্লাসে ঢুকেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন—“বল তো, অভাব কাকে বলে?”
সামনের সারিতে বসে থাকা এক ছাত্র উঠে দাঁড়িয়ে বইয়ের ভাষায় উত্তর দিল,
“অর্থনীতিতে বস্তুগত বা অবস্তুগত কোনো দ্রব্য পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে অভাব বলে।”

স্যার বললেন, “এটা তো বইয়ের ভাষা, বাস্তব জীবনে ‘অভাব’ বলতে তুমি কী বোঝ?”
ছাত্রটি চুপ। মাথা নিচু করে বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে আছে। ক্লাস নিস্তব্ধ।
স্যার আবার বললেন, “বল।”

ছাত্রটি এবার আস্তে আস্তে বলতে শুরু করল—

১. আমি যখন কলেজে আসি, মা ভাড়ার টাকা দিতে গিয়ে তার ব্যাগ তন্ন তন্ন করে খুঁজে কোনো রকমে ২০/৩০ টাকা বের করেন।
আমি তখন ৫ মিনিট পরই বাড়ি ফিরে গিয়ে মাকে বলি—“মা, আজ ক্লাস হবে না।”
মায়ের মুখে কষ্ট লুকানোর চেষ্টা—এইটুকুই আমার কাছে ‘অভাব’।

২. বাবা রাত করে বাড়ি ফেরেন। মা জিজ্ঞেস করেন, “এত দেরি হলো কেন?”
বাবা বলেন, “ওভারটাইম ছিল।”
বাবার এই ক্লান্ত মুখ, এই বাড়তি পরিশ্রমই আমার কাছে ‘অভাব’।

৩. ছোট বোন মাস শেষে প্রাইভেট টিচারের ফি চাইতে বাবার সামনে সংকোচে পড়ে যায়—সেই লজ্জাই ‘অভাব’।

৪. মা যখন ছেঁড়া কাপড় নিজ হাতে সেলাই করে বলেন, “এইটা তো ভালোই আছে, আরও কিছুদিন পরা যাবে”—এটাই ‘অভাব’।

৫. মাস শেষে টিউশনির টাকা মায়ের হাতে দিয়ে বলি, “মা, এটা দিয়ে সংসারের খরচ চালাও।”
মায়ের মুখে তখন একটুকরো স্বস্তির হাসি ফোটে—এই হাসিটুকুই আমার কাছে ‘অভাব’।

৬. বন্ধুদের দামী ফোনের ভিড়ে নিজের সাধারণ ফোনটা পকেটে লুকিয়ে রাখি—এই সংকোচটাই ‘অভাব’।

৭. অভাবের কারণে কাছের মানুষগুলো আস্তে আস্তে দূরে সরে যায়। সেই দূরত্বই আমার কাছে ‘অভাব’।

এই কথাগুলো শুনে পুরো ক্লাস দাঁড়িয়ে গেল। অনেকের চোখে জল। স্যারের চোখেও।
তিনি ছেলেটিকে বুকে জড়িয়ে নিলেন।

এই ছেলেটি কোনো গল্পের চরিত্র নয়। এই ছেলে আমাদের আশপাশেই আছে।
যারা টাকার জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করে, হাসিমুখে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করে, আর আমাদের সামনে সবকিছু আড়াল করে থাকে।

See also  📚 ডিজিটাল যুগে বইয়ের বাজার: কীভাবে ফিজিক্যাল বই টিকিয়ে রাখা সম্ভব?

এই হাসিমুখের পেছনের কষ্টগুলো আমাদের চোখে পড়ে না।
এটাই বাস্তব। এটাই ‘অভাব’।

Subscribe

- Never miss a story with notifications

- Gain full access to our premium content

- Browse free from up to 5 devices at once

Latest stories

spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here