*নারী*
সভ্যতার প্রথম আলো
যার হাতে জ্বলে উঠেছিল—
সে-ই নারী।
প্রথম গান
যার কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল—
সে-ই নারী।
অবহেলা, অপমান, দাসত্ব—
সারা জীবন
সবকিছু নীরবে সহ্য করেছে
সে-ই নারী।
যে ভেঙেছে অন্যায়ের শিকল,
কখনও মাথা নত করেনি—
সে-ই নারী।
যে চিরকাল নিঃশব্দে
নিজের সব স্বপ্ন গিলে ফেলেছে—
সে-ই নারী।
যার নীরবতাকে সমাজ
দুর্বলতা ভেবে নিয়েছে—
সে-ই নারী।
যার পায়ে পরানো ছিল
লজ্জার বেড়ি—
সে-ই নারী।
যে নিজেকে হারিয়ে
অন্যকে গড়ে তুলেছে,
যে নিজের নাম ভুলে
অন্যের পরিচয়ে বেঁচেছে—
সে-ই নারী।
তবু সেই নারীর মধ্যেই
কলিযুগের নারী
আজ বলে ওঠে—
“আমি নারী,
আমি সব পারি।”
আজ যে ভেঙে ফেলেছে
সব বেড়ি,
হাতে তুলে নিয়েছে কলম—
সে-ই নারী।
আজ যে নিজের আলো,
নিজের পথ,
নিজের পরিচয় নিজেই গড়ে তোলে—
সে-ই নারী।
কারণ আজ
নারী মানে আর
অবহেলা, অপমান, লাঞ্ছনা নয়;
নারী মানে
মাথা উঁচু করে বাঁচা
এক অদম্য, সাহসী সত্তা।
নারী মানে—
সহ্য থেকে উঠে আসা শক্তি,
নীরবতা থেকে জন্ম নেওয়া
এক দৃপ্ত কণ্ঠ।
সে-ই তো নারী।