আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৯ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া বহুল প্রতিক্ষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। বুধবার লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালী
গত মঙ্গলবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আল্টিমেটামের কয়েক ঘণ্টা আগে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছায় ওয়াশিংটন ও তেহরান। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল—ইরানকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ এবং তেল ট্যাঙ্কারের জন্য হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করে দিতে হবে। বুধবার সকালে কয়েকটি জাহাজ পারাপারের মাধ্যমে প্রণালীটি সচল করার ইঙ্গিত দিলেও বিকেলের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়।
ইরানের অভিযোগ ও কড়া বার্তা
ইরানের আধাসামরিক বাহিনী আইআরজিসি (IRGC)-এর ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা ‘ফার নিউজ’ জানায়, ইসরায়েল লেবাননে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগছি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন:
“যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নিতে হবে—হয় যুদ্ধবিরতি, নয়তো ইসরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। লেবাননে গণহত্যা চলাকালীন শান্তি বজায় থাকা সম্ভব নয়। এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে।”
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, যিনি এই চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছেন, সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের পাল্টা যুক্তি
এই পরিস্থিতির মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল না। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর আক্রমণ ঠেকাতে ইসরায়েলের অভিযান চুক্তির লঙ্ঘন নয়। তবে ইরান বলছে, তাদের প্রস্তাবিত ১০-দফা শান্তি পরিকল্পনার একাধিক পয়েন্ট যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা লঙ্ঘন করেছে।
বিশ্ব বাজারে প্রভাব ও অনিশ্চয়তা
হরমুজ প্রণালী বন্ধের খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ডেনিশ শিপিং জায়ান্ট মারস্ক (Maersk) জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে কিন্তু নিরাপত্তার খাতিরে এখনই এই রুটে জাহাজ চলাচল শুরু করছে না।
মূল পয়েন্টগুলো একনজরে:
- চুক্তির মেয়াদ: দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি।
- ইরানের দাবি: ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে।
- যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: লেবানন চুক্তির অংশ নয়, তাই ইসরায়েলের হামলা বৈধ।
- প্রভাব: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে


