10 Amazing Secrets: How This Employee Won ‘Best Worker’ After Slacking for 6 Years!
চাকরি জীবনে পদোন্নতি বা পুরস্কার পাওয়ার জন্য আমরা দিনরাত পরিশ্রম করি। কিন্তু চিন্তা করুন তো, যদি কেউ টানা ৬ বছর কাজে ফাঁকি দিয়েও শেষ পর্যন্ত ‘সেরা পুরস্কার’ বা সম্মাননা পেয়ে যান, তবে কেমন হবে? শুনতে সিনেমার গল্পের মতো মনে হলেও বাস্তবে ঠিক এমনটাই ঘটেছে স্পেনের একজন সরকারি কর্মীর সাথে। কর্মক্ষেত্রে গাফিলতির এই গল্পটি বর্তমানে ইন্টারনেটে ভাইরাল এবং যা একইসাথে হাস্যরস ও বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।

কীভাবে ৬ বছর কাজে ফাঁকি দিলেন এই কর্মী?
ঘটনাটি স্পেনের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ক্যাডিজ (Cádiz) শহরের। জোয়াকিন গার্সিয়া নামের ওই ব্যক্তি একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো, তিনি টানা ছয় বছর অফিসে না গিয়েই দিব্যি বেতন তুলে নিয়েছেন।
এই ৬ বছর কাজে ফাঁকি দেওয়ার মাস্টারপ্ল্যানটি এতটাই নিখুঁত ছিল যে, অফিসের কেউ তার অনুপস্থিতি টেরই পায়নি। তিনি জানতেন তার কাজের তদারকি করার মতো সরাসরি কেউ নেই। ফলে অফিসের রেজিস্টারে নাম থাকলেও সিটে তাকে কেউ কখনো খুঁজে পায়নি।
পর্দা ফাঁস হলো যেভাবে
কথায় আছে, “চোরের দশ দিন তো গৃহস্থের একদিন।” গার্সিয়ার এই চালাকি ধরা পড়ে যখন কর্তৃপক্ষ তাকে ২০ বছরের দীর্ঘ চাকরির জন্য একটি বিশেষ সম্মাননা বা ‘সেরা পুরস্কার’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
কর্তৃপক্ষ যখন তাকে পুরস্কৃত করার জন্য খোঁজ শুরু করে, তখন দেখা যায় তিনি তার ডেস্কে নেই। এমনকি তার সহকর্মীরাও জানাতে পারেননি তিনি শেষ কবে অফিসে এসেছিলেন। এরপর শুরু হয় তদন্ত, আর বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। জানা যায়, ২০১০ সাল থেকে তিনি অফিসে যাননি, অথচ প্রতি বছর প্রায় ৩৭,০০০ ইউরো বেতন পকেটে পুরেছেন।
শাস্তি নাকি পুরস্কার? আইনি লড়াইয়ের ফলাফল
পুরস্কারের বদলে জোয়াকিন গার্সিয়াকে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। আদালত তাকে কর্মক্ষেত্রে চরম অবহেলার জন্য বড় অংকের জরিমানা করে। যদিও তিনি দাবি করেছিলেন যে, তাকে একঘেয়ে কাজ দেওয়া হয়েছিল এবং তাকে ‘বুলিং’ করা হতো, তাই তিনি অফিসে যেতেন না।
কিন্তু আদালতের কাছে এই যুক্তি টেকেনি। তাকে প্রায় ২৭,০০০ ইউরো জরিমানা করা হয়, যা তার এক বছরের নিট বেতনের সমান। এই ঘটনার পর পুরো স্পেনে সরকারি দপ্তরের তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
উপসংহার: কর্মক্ষেত্রের স্বচ্ছতা ও শিক্ষা
জোয়াকিন গার্সিয়ার এই কাহিনী আমাদের শেখায় যে, ফাঁকি দিয়ে সাময়িক সুবিধা পাওয়া গেলেও শেষ রক্ষা হয় না। ৬ বছর কাজে ফাঁকি দিয়ে তিনি হয়ত বেতন পেয়েছেন, কিন্তু ক্যারিয়ারের শেষে এসে তাকে অসম্মান এবং আইনি জটিলতা নিয়েই বিদায় নিতে হয়েছে। আধুনিক কর্পোরেট বা সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা যে কতটা জরুরি, এই ঘটনা তার জলজ্যান্ত উদাহরণ।



