24.2 C
Kolkata
Sunday, March 15, 2026
Home Blog

৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় ব্রাত্য বসুর হাতে উন্মোচিত হলো ‘উদার আকাশ’-এর বিশেষ সংখ্যা

0

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হলো জনপ্রিয় লিটল ম্যাগাজিন ও গবেষণা পত্রিকা ‘উদার আকাশ’-এর বিশেষ সংখ্যা (১৪৩২)। বুধবার, ২৮ জানুয়ারি বইমেলা প্রাঙ্গণে গিল্ডের অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই বিশেষ সংখ্যাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী, বিশিষ্ট নাট্যকার ও অভিনেতা শ্রী ব্রাত্য বসু।
পঁচিশ বছরের পথচলায় ‘উদার আকাশ’
সম্পাদক ফারুক আহমেদ সম্পাদিত এই রিসার্চ জার্নালটি এ বছর ২৫ বছরে পদার্পণ করল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রাত্য বসুর হাতে পত্রিকার ‘২৫ বছর ১ম সংখ্যাটি’ তুলে দেন সম্পাদক নিজে। সৃজনশীল ও মননশীল লেখনীর জন্য ‘উদার আকাশ’ দীর্ঘকাল ধরেই পাঠক মহলে সমাদৃত। কেবল পত্রিকাই নয়, প্রকাশনা সংস্থা হিসেবেও নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে তারা। এ পর্যন্ত ১৯৯টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে এই সংস্থাটি, যার মধ্যে চলতি বইমেলাতেই মুক্তি পেয়েছে ১৭টি নতুন বই।
বইমেলায় ‘উদার আকাশ’-এর জনপ্রিয় বইসমূহ
এবারের বইমেলায় ৬৬৪ নম্বর স্টলে (৯ নম্বর গেটের কাছে) পাঠকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নজর কেড়েছে ফারুক আহমেদ সম্পাদিত প্রবন্ধ সংকলন এবং সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক মোশারফ হোসেনের উপন্যাসগুলি।
পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা কিছু উল্লেখযোগ্য বই:
প্রবন্ধ: ‘বিস্তীর্ণ আকাশ জুড়ে কাজী নজরুল ইসলাম’, ‘বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম’, ‘প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়ন’, ‘পশ্চিমে সূর্যোদয়: রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের উলটপুরাণ’।
কথাসাহিত্য (মোশারফ হোসেন): দুই বাংলার পটভূমিতে লেখা ‘জন্মভূমিশ্চ’, ‘কাঁচপোকার টিপ’, এবং নতুন ডিটেকটিভ উপন্যাস ‘রহস্য কারগির পাহাড়ে’। এছাড়া ‘এক নদী ভালোবাসা’ ও ‘সন্ধিক্ষণ’ উপন্যাস দুটিও বেশ সাড়া ফেলেছে।
গবেষণা ও চিন্তামূলক: অধ্যাপক আবুল হাসনাত-এর ‘কালের প্রহরী’, মইনুল হাসান-এর ‘বাঙালি ও মুসলমান’ এবং খাজিম আহমেদ-এর ‘বাঙালি মুসলমান: আপন ভুবনের সন্ধানে’।
আসন্ন অনুষ্ঠান: ৩রা ফেব্রুয়ারি নতুন বইয়ের শুভ মুক্তি
সম্পাদক ফারুক আহমেদ পাঠকদের এই অভূতপূর্ব ভালোবাসায় আপ্লুত। তিনি জানান, “উদার আকাশ-এর প্রতি পাঠকদের এই টান আমাদের দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।” তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিকেলে বইমেলার ‘প্রেস কর্নারে’ একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘উদার আকাশ’ প্রকাশনের আরও কয়েকটি নতুন বই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।
একনজরে প্রয়োজনীয় তথ্য:
স্টল নম্বর: ৬৬৪ (৯ নম্বর গেটের সন্নিকটে)
বিশেষ আকর্ষণ: ২৫ বছর পূর্তি সংখ্যা ও ১৭টি নতুন বই।
প্রধান লেখকবৃন্দ: ব্রাত্য বসু, ফারুক আহমেদ, মোশারফ হোসেন, আবুল হাসনাত, মইনুল হাসান, খাজিম আহমেদ প্রমুখ।

কলকাতার মঞ্চে উজ্জ্বল নক্ষত্র সুমন মুখার্জী, আন্তর্জাতিক পরিসরেও সুনাম

0

🎤 কলকাতার মঞ্চে উজ্জ্বল নক্ষত্র সুমন মুখার্জী, আন্তর্জাতিক পরিসরেও সুনাম

কলকাতা, ২০২৫: বাংলা সঙ্গীত জগতে নতুন আলো ছড়াচ্ছেন প্রতিভাবান শিল্পী সুমন মুখার্জী (Suman Mukherjee)। বীরভূমের সিউড়িতে জন্ম নেওয়া এই তরুণ শিল্পী বর্তমানে কলকাতাকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গীতজীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ছোটবেলায় মায়ের দেওয়া হারমোনিয়াম থেকেই শুরু হয়েছিল সুমনের সঙ্গীতযাত্রা। প্রথম অনুপ্রেরণা এসেছিল মায়ের কাছ থেকেই, পরে গুরু শ্রী উৎপল রায়ের কাছে নিয়মিত তালিম নিয়ে গড়ে ওঠেন তিনি।

শিক্ষাজীবনে অসামান্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন এই শিল্পী। কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি। স্নাতকে ফার্স্ট ক্লাস এবং স্নাতকোত্তরে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সপ্তম স্থান অধিকার করেন সুমন। এর স্বীকৃতি স্বরূপ রাজ্যপালের হাত থেকে পান দুটি সম্মানজনক পুরস্কার।

সঙ্গীত জগতে তাঁর উত্থানও সমানভাবে উজ্জ্বল। ইতিমধ্যেই তিনি অংশগ্রহণ করেছেন আইআইটি মাদ্রাজ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স, মুম্বইয়ের স্বর সাধনা সমিতি, রাষ্ট্রীয় যুব সঙ্গীত সম্মেলন, ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রকের ওয়েজিসিসি (WZCC) আয়োজিত মঞ্চসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের “Arts from India”—এর মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে। টেলিভিশন পর্দাতেও তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছে। আকাশ আট, রূপসী বাংলা, হাই নিউজ বাংলা থেকে শুরু করে ডিডি ন্যাশনাল হিন্দি পর্যন্ত একাধিক চ্যানেলে তাঁর কণ্ঠ প্রশংসিত হয়েছে।

সেলিব্রিটি মহলেও তাঁর গান সমানভাবে সাড়া ফেলেছে। বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক সোনু নিগম তাঁর গান প্রায় ৩০ বার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে দুইবার সাক্ষাৎ করে আশীর্বাদ করেছেন। সুমনের ভাষায়, “ওই মুহূর্তগুলো ছিল একেবারেই ঈশ্বরীয়।” শুধু সোনু নিগম নন, শ্রদ্ধেয় রূপকুমার রাঠোর, খ্যাতনামা শিল্পী রেখা ভরদ্বাজ ও সুরকার জিৎ গাঙ্গুলীও তাঁর গান শুনে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার ও প্রশংসা করেছেন।

তাঁর কণ্ঠে প্রকাশিত গানের মধ্যে ‘ধ্রুবতারা’ (কথা, সুর ও কণ্ঠ— সুমন মুখার্জী) এবং ‘ভুল বুঝে’ (কথা ও সুর প্রতীক কর্মকার, কণ্ঠ— সুমন মুখার্জী) শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছে। নতুন কিছু গানের কাজও চলছে, যা খুব শিগগিরই প্রকাশ পেতে চলেছে।

শুধু গান নয়, সঙ্গীতের বাইরেও তাঁর আলাদা আগ্রহ রয়েছে। মার্শাল আর্ট এবং অ্যাকশন ফিল্ম তাঁর নেশার জায়গা।

বাংলা সঙ্গীত জগতে নবপ্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে সুমন মুখার্জী আজ অন্যতম আলোচিত নাম। একদিকে একাডেমিক সাফল্য, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে গর্বের সঙ্গে বাংলা গানের পরিচিতি বহন— সব মিলিয়ে তিনি আজ বাংলা সঙ্গীতের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতীক।

মানবতার অন্নভাগ — পথবাসী মানুষের পাশে দেবরাজ সাহা

0

নিজের জন্মদিনকে মানবতার স্পর্শে অন্য মাত্রা দিলেন বীরভূমের তরুণ লেখক ও সমাজমনস্ক যুবক দেবরাজ সাহা। তাঁর ২৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সিউড়ি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পথবাসী ও অভাবগ্রস্ত মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এই উদ্যোগের মূল ভাবনা ছিল—নিজের আনন্দকে সমাজের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। সেই ভাবনা থেকেই প্রতীকীভাবে ২৪তম জন্মদিনে ২৪ জন অসহায় মানুষের হাতে খাবার তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। দিনভর সিউড়ি শহরের নানা প্রান্ত ঘুরে পথবাসী ও অভাবী মানুষের কাছে সেই খাবার পৌঁছে দেন দেবরাজ সাহা ও তাঁর কয়েকজন শুভানুধ্যায়ী।

বর্তমান সময়ে যখন জন্মদিনের উদযাপন অনেক ক্ষেত্রেই জাঁকজমক, ব্যয়বহুল আয়োজন ও ব্যক্তিগত আনন্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তখন দেবরাজ সাহার এই উদ্যোগ এক ভিন্ন বার্তা বহন করে। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে মূল্যবোধ, তারই এক ছোট্ট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ প্রকাশ ঘটেছে এই কর্মসূচির মাধ্যমে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এই উদ্যোগকে মানবিক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, সমাজে এমন উদ্যোগ যত বাড়বে, ততই মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বোধ আরও শক্তিশালী হবে।

একটি জন্মদিন—যা শুধু ব্যক্তিগত আনন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং কয়েকটি অভাবী মুখে একবেলার হাসি এনে দিয়ে মানবতার এক নীরব উৎসবে পরিণত হয়েছে। আর সেই উৎসবের আয়োজক বীরভূম জেলার ইউথ আইকন, তরুণ লেখক, গল্পকার, সমাজসেবক এবং সম্পাদকীয় বিশ্লেষক দেবরাজ সাহা।

তারুণ্যের জয়গান: কলকাতা বইমেলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ‘গপ্পোবাগীশ’প্রকাশনী

0

সদ্য সমাপ্ত ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা এক অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকল। পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড আয়োজিত এই মহামিলন মেলায় ছোট-বড় সহস্রাধিক স্টলের ভিড়েও নিজের জাত চিনিয়েছে উদীয়মান প্রকাশনী সংস্থা ‘গপ্পোবাগীশ’। অদম্য জেদ, তারুণ্যের শক্তি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগকে সম্বল করে এই নবীন প্রকাশনী এবারের বইমেলায় এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মেলার ৯ নম্বর গেট ও লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়নের নিকটবর্তী ৬০২ নম্বর স্টলটি ছিল আয়তনে মাত্র ৫০ বর্গফুট। কিন্তু প্রবাদ আছে, বড় কিছু করার জন্য বিশাল জায়গার নয়, বরং বিশাল হৃদয়ের প্রয়োজন হয়। প্রকাশক বৈদূর্য্য পাড়িয়ার নেতৃত্বে গপ্পোবাগীশ সেটাই প্রমাণ করেছে। যাত্রাপথের মাত্র ৫ বছরের মধ্যেই একক ও যৌথ সংকলন মিলিয়ে আইএসবিএন (ISBN) যুক্ত প্রায় ৫০০টি বই প্রকাশ করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে এই সংস্থা। সদিচ্ছা থাকলে যে ক্ষুদ্র পরিসরেও সৃজনশীলতার মহীরুহ গড়ে তোলা যায়, এই ছোট্ট স্টলটি ছিল তার উজ্জ্বল উদাহরণ।
সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায়—উপন্যাস, কবিতা, ছোটগল্প, ভৌতিক অলৌকিক, রহস্য, কল্পবিজ্ঞান থেকে শুরু করে প্রবন্ধ ও থ্রিলার—গপ্পোবাগীশ তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। পাঠকদের প্রবল আগ্রহে মেলা চলাকালীনই তাদের একাধিক একক বই নিঃশেষিত হয়ে যায়। এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন একদল স্বপ্নদর্শী তরুণ। সম্পাদকমণ্ডলীর শুভজিৎ মণ্ডল, শুভ ঘোষ, দেবাঞ্জন রায়, ড. তিতাস পাল, অঙ্কিতা বণিক, রঙ্গন ঘটক, বৈশালী গুহ রায়, অরুণাভ এবং উদীয়মান কবি সুশান্ত বেরার নিরলস পরিশ্রমে এই উদ্যোগ পূর্ণতা পেয়েছে। তাঁদের যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘অক্ষরলিপি’, ‘শব্দতরঙ্গ’, ‘নদীর চুপকথারা’, ‘চিরহরিৎ ল্যান্ডস্কেপ’, ‘উত্তরণ’, ‘স্বপ্নের শহর কলকাতা’, ‘ব্যক্তিগত দিনলিপি’, ‘অন্তর্লীন প্রহর’, ‘পুরোনো শুক্তো’, ‘নিঃশব্দের পদাবলী’ এবং ‘অন্ধকার পেরোলেই মৃত্যু’-র মতো সংকলনগুলি পাঠকমহলে বিশেষ সমাদর পেয়েছে।
নবীনদের এই কর্মযজ্ঞ মুগ্ধ করেছে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদেরও। মেলা চলাকালীন স্টলে উপস্থিত হয়ে তাঁদের আশীর্বাদ ও উৎসাহ দিয়েছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক সোমজা দাস, বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী, সৈকত মুখোপাধ্যায়, অভীক সরকার, ড. সমুদ্র বসু, ড. অর্ঘ্য দীপ্ত কর, কৌশিক মজুমদার, অভিজ্ঞান গাঙ্গুলী ও অভীক দত্ত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন ভিসি কলেজের উপাধ্যক্ষ স্বামী বেদানুরাগানন্দজী, প্রথিতযশা শিল্পী দেবাশীষ মল্লিক চৌধুরী এবং বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের মতো গুণীজনেরা। তাঁদের সান্নিধ্য গপ্পোবাগীশের আগামী দিনের পথচলায় এক নতুন আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে।
গপ্পোবাগীশের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো এর তারুণ্য। বর্তমান সময়ে যখন তরুণ প্রজন্মের একাংশের মধ্যে বাংলা ভাষার প্রতি অনীহা দেখা যায়, সেখানে দাঁড়িয়ে এই দলটি স্রোতের বিপরীতে হেঁটে বাংলা সাহিত্যকে আঁকড়ে ধরার এক সাহসী নজির গড়েছে। তাঁরা শুধু নিজেদের স্বপ্নই পূরণ করছেন না, বরং বহু প্রতিভাবান নবীন লেখক-লেখিকাকে তাঁদের লেখনী প্রকাশের একটি মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ উপহার দিচ্ছেন। হারিয়ে যেতে বসা অনেক সুপ্ত প্রতিভা এই প্রকাশনীর হাত ধরে নতুন দিশা খুঁজে পেয়েছে।
সম্প্রতি বাংলা ভাষা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ধ্রুপদী ভাষার (Classical Language) স্বীকৃতি পেয়েছে। এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে নতুন প্রজন্মের এই সাহিত্যচর্চা বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করে তুলছে। গপ্পোবাগীশের মতো নবীন প্রকাশনীগুলোর এই সৃজনশীল মানসিকতা যত প্রসারিত হবে, বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডার ততই সমৃদ্ধ হবে—এটাই আজ সাহিত্যপ্রেমীদের প্রত্যাশা।

জন্মদিনকে মানবসেবার উৎসবে রূপ দিলেন বীরভূমের তরুণ লেখক দেবরাজ সাহা

0

নিজের ২৪তম জন্মবার্ষিকীকে ঘিরে একাধিক মানবসেবামূলক কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছেন বীরভূমের যুব আইকন দেবরাজ সাহা। সমাজের অসহায়, অবহেলিত ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার এক ইতিবাচক বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

উদ্যোক্তার তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এই সমস্ত কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা নেই। পাশাপাশি কোনো সংস্থা, প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগতভাবে কারও কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তাও গ্রহণ করা হয়নি। সম্পূর্ণ স্বাধীন উদ্যোগ হিসেবেই এই মানবসেবামূলক কার্যক্রমগুলি আয়োজিত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

জানা যায়, সম্প্রতি কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত দেবরাজ সাহার লেখা গল্পগ্রন্থ “সর্বমঙ্গলা” ইতিমধ্যেই পাঠকমহলে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। পাঠকদের আগ্রহ ও ভালোবাসার ফলে বইটির বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই বইয়ের বিক্রয়লব্ধ অর্থের একটি বড় অংশ সমাজসেবামূলক কাজে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, বইটির বিক্রয়লব্ধ অর্থের প্রায় ৮০ শতাংশই বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় করা হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে দেবরাজ সাহা জানিয়েছেন, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এমন উদ্যোগ নেওয়ার ভাবনা এসেছে। তাঁর কথায়, “সমাজ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। তাই নিজের সামর্থ্যের মধ্যেই সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি ছোট্ট চেষ্টা করছি।” ভবিষ্যতেও এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ইচ্ছার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
এছাড়াও জানা গেছে, এই কর্মসূচিগুলোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও কার্যক্রম সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও সহযোগিতায় যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে আমাদের চ্যানেল ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টার রয়েছে। তাঁদের মাধ্যমে এই উদ্যোগগুলোর খবর আরও বৃহত্তর পরিসরে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

নিজের জন্মদিনকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই বহু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বর্তমান সময়ে যখন তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ ভোগবাদী সংস্কৃতির দিকে ঝুঁকছে, তখন এই ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে এক ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক বার্তা বহন করে।
সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বার্তা নিয়ে জন্মদিনকে মানবসেবার সঙ্গে যুক্ত করার এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে এক প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে এমনটাই মত দেবরাজের শুভাকাঙ্ক্ষীদের।

সংসার ও শিক্ষকতার গণ্ডি পেরিয়ে সাহিত্যের আঙিনায় অপরাজিতা নাজনিনা সুলতানা

0

নিজস্ব প্রতিনিধি, নদীয়া: নদীয়া জেলার সীমান্ত শহর করিমপুরের এক প্রত্যন্ত গ্রাম বারবাকপুর । এই গ্রামেই বাস করেন এক লড়াকু নারী, যিনি একাধারে গৃহিণী, আদর্শ শিক্ষিকা, সমাজসেবী এবং বর্তমান সময়ের এক বলিষ্ঠ কবি— নাজনিনা সুলতানা । সম্প্রতি তাঁর নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘সম্প্রীতির কবিতা ২০২৫’ প্রকাশিত হয়েছে, যা বর্তমান সমাজের অস্থির সময়ে শান্তি ও মেলবন্ধনের এক অনন্য বার্তা বহন করছে ।

এক নজরে কবি ও তাঁর জীবন সংগ্রাম

১৯৮২ সালের ১৯শে মার্চ নদীয়া জেলার তেহট্টের পাথরঘাটা গ্রামে এক রক্ষণশীল কিন্তু শিক্ষিত সৈয়দ পরিবারে নাজনিনা সুলতানার জন্ম । তাঁর পূর্বপুরুষরা উচ্চশিক্ষিত হলেও পরিবারের মেয়েদের পড়াশোনা মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোতে পারেনি । কিন্তু নাজনিনা ছিলেন ব্যতিক্রম। পিতা সৈয়দ নজিবর রহমান ও মাতার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তিনি গ্রামের প্রথম মেয়ে হিসেবে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন । বর্তমানে তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে থানারপাড়া এইচএম হাই মাদ্রাসায় পার্শ্ব শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত

‘সম্প্রীতির কবিতা ২০২৫’: এক নতুন প্রকাশ

নাজনিনা সুলতানার সাহিত্য জীবনের সূচনা স্কুল-কলেজের দেওয়াল পত্রিকা থেকে । ২০১২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘স্বপ্ন’ । এরপর ২০২২-এ ‘সম্প্রীতির কবিতা’ এবং ২০২৩-এ ‘একুশের কবিতা’ প্রকাশিত হয়ে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে

বর্তমান ‘সম্প্রীতির কবিতা ২০২৫’ গ্রন্থটি তাঁর পূর্বের চারটি বইয়ের বাছাই করা কবিতা এবং নতুন কিছু অপ্রকাশিত কবিতার এক অপূর্ব সংকলন । বইটিতে ‘স্বপ্ন’, ‘একুশের কবিতা’ ও ‘প্রত্যক্ষ’ কাব্যগ্রন্থের নির্যাস পাওয়া যাবে

  • প্রকাশক: ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টার পাবলিকেশন (বইচা, এগরা, পূর্ব মেদিনীপুর) ।
  • বিনিময় মূল্য: ১৬০ টাকা ।
  • বিশেষত্ব: বইটিতে ‘অভয়া’, ‘অক্সিজেন’, ‘চাচা ফকির’ ও ‘পরিযায়ী’-র মতো সমসাময়িক ও মানবিক আবেগপূর্ণ কবিতা স্থান পেয়েছে ।

পুরস্কার ও সম্মাননা

সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য নাজনিনা সুলতানা একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন । তাঁর প্রাপ্ত পুরস্কারের তালিকায় রয়েছে:

  • বঙ্গ নারী স্বর্ণমুদ্রা সম্মান (পশ্চিমবঙ্গ সাহিত্য মঞ্চ থেকে) ।
  • দুই বাংলার কবি রত্ন সম্মান
  • চাতক অনন্য নারী সম্মাননা ২০২৩
  • জেনারেশন আইকন এওয়ার্ড এবং বঙ্গ কৃতি সম্মান ।

সমাজসেবা ও সুযোগ্য নেতৃত্ব

শুধু কলম ধরে নয়, নাজনিনা সুলতানা সমাজ সংস্কারেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন । তিনি বর্তমানে তাঁর ভাইদের সহযোগিতায় ‘গ্রীনভিউ ইনস্টিটিউট এন্ড গার্লস মিশন’ নামে একটি বেসরকারি বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন, যা পিছিয়ে পড়া এলাকার দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার আলো দেখাচ্ছে । এছাড়া তিনি সাহিত্য পত্রিকা ‘প্রকৃতি কন্যা’-র সম্পাদনাও করছেন

সাফল্যের নেপথ্যে পরিবার

নাজনিনা সুলতানার এই দীর্ঘ সাহিত্য যাত্রায় তাঁর স্বামী সাইফুল ইসলাম (প্রাণী বন্ধু ও সমাজসেবী) ছায়ার মতো পাশে রয়েছেন । তাঁর সুযোগ্য কন্যা সুহানা ইসলাম এবং পুত্র সৃজন ইসলামকে নিয়ে তাঁর ভরা সংসার

ধর্ম ও জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে নাজনিনা সুলতানার কবিতা ও জীবন আগামী প্রজন্মের নারীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম

সাবাজপুটে ভক্তি ও সমাজসেবার মহামিলন মহাপ্রভুর আগমনে মুখরিত ৫৬তম বর্ষের বসন্ত উৎসব

0

নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঁথি: ফাল্গুনের বসন্ত বাতাসে এখন ভক্তির সুর ছড়িয়ে পড়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি মহকুমার সাবাজপুট এলাকায়। স্থানীয় ক্লাব ‘বন্দেমাতরম্’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ৯ দিন ব্যাপী ১০০ প্রহরব্যাপী হরিনাম মহাযজ্ঞানুষ্ঠান, মেলা ও প্রদর্শনী এ বছর ৫৬তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। আজ উৎসবের সপ্তম দিনেও ভক্তদের ঢল ছিল চোখে পড়ার মতো। এ বছরের মূল আকর্ষণ হলো ৩৫৬ শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ  মহাপ্রভুর শুভ আগমন উপলক্ষ্যে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। সাবাজপুট ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অগণিত মানুষ প্রতিদিন রাধা-কৃষ্ণের নাম সংকীর্তনে শামিল হয়ে এলাকাটিকে এক খণ্ড নবদ্বীপে পরিণত করেছেন।
এই মহতী অনুষ্ঠানের নেপথ্যে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন আয়োজক কমিটির কর্ণধাররা। উৎসবের সভাপতি সুপ্রকাশ গিরির নেতৃত্বে গোটা আয়োজনটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান কারিগর হিসেবে নজর কেড়েছেন সম্পাদক রামগোবিন্দ দাস। তাঁর সুদক্ষ পরিচালনায় কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, উৎসবের আঙিনাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে সমাজসেবার এক বিশাল ক্ষেত্র। রামগোবিন্দ বাবু জানান, এই উৎসব কেবল নাম সংকীর্তন বা মেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মূল লক্ষ্য হলো উৎসবের মাধ্যমে অর্জিত শক্তি ও সহযোগিতাকে সমাজকল্যাণে কাজে লাগানো। ইতিপূর্বেও তিনি বৃদ্ধাশ্রম ও অনাথ আশ্রমের অগণিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং বর্তমানেও বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে লিপ্ত রেখেছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলতে গিয়ে সম্পাদক রামগোবিন্দ দাস আরও জানান যে, এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে এই মঞ্চকে গড়ে তোলাই তাঁর আগামী দিনের স্বপ্ন। স্থানীয় মন্দিরের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং আর্তমানবতার সেবায় ক্লাব ‘বন্দেমাতরম্’ যেন আগামী দিনে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে, সেই লক্ষ্যে তাঁরা অবিচল। প্রতিদিন সান্ধ্যকালীন সাংস্কৃতিক মঞ্চে রাঘব চট্টোপাধ্যায় ও আকুল নাইটের মতো প্রখ্যাত শিল্পীদের উপস্থিতি উৎসবের জৌলুস বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। একদিকে আধ্যাত্মিক নাম সংকীর্তন আর অন্যদিকে সমাজসেবার অঙ্গীকার— এই দুইয়ের মেলবন্ধনে সাবাজপুটের এই বসন্ত উৎসব আজ পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় ও আদর্শ উৎসবে রূপান্তরিত হয়েছে।

২০২৬ বইমেলায় তুলতুলের
‎“গল্পে স্বপ্নে জিব্রাইল (আ.)”

0

‎অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষে দুই বাংলার জনপ্রিয় তরুণ লেখক ও কথাসাহিত্যিক শাম্মী তুলতুল-এর নতুন বই গল্পে স্বপ্নে জিব্রাইল (আ.) প্রকাশিত হয়েছে। এটি একটি ইসলামিক শিশুকিশোর গল্পগ্রন্থ, যেখানে শিশুদের জন্য নৈতিকতা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক গল্প তুলে ধরা হয়েছে।


‎বইটিতে দেশের প্রথম সারির বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত মোট ১৩টি নির্বাচিত গল্প স্থান পেয়েছে। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অনিন্দ্য প্রকাশ। বইয়ের প্রচ্ছদ এঁকেছেন চিত্রশিল্পী বাইজিদ আহমেদ। বইটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা। পাওয়া যাবে ৫৬৫/৫৬৯  নাম্বার স্টলে।

‎লেখালেখির পাশাপাশি শাম্মী তুলতুল নিয়মিত খবর পাঠ ও আবৃত্তি করেন। ইতোমধ্যে তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে চোরাবালির বাসিন্দা, গণিত মামার চামচ রহস্য, ভূত যখন বিজ্ঞানী, নান্টু ঝান্টুর বক্স রহস্য, একজন কুদ্দুস ও কবি নজরুল পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এসব সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তিনি একজন বেস্টসেলার লেখিকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
২০২২ সালে কলকাতা বইমেলাতেও  তার অনুগল্পের বই  “নরকে
আলিঙ্গন” প্রকাশিত হয়।
‎‎নতুন বই প্রসঙ্গে শাম্মী তুলতুল বলেন,
‎“আমি এবারের বইমেলায় একটি ইসলামিক গল্পের বই প্রকাশ করেছি। কারণ ইদানীং ইসলামকে অনেকেই বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে। তাই মুসলিম লেখকদের উচিত তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে ইসলামের সঠিক শিক্ষা আরও বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়া। বিশেষ করে শিশু বয়সেই শিশুদের এসব জানা অত্যন্ত প্রয়োজন। এটি একজন লেখকের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।”
‎তিনি আরও বলেন,
‎“এটি আমার ১৭তম বই। আমার প্রায় সব বই বেস্টসেলার হয়েছে। শিশুসাহিত্য লেখা সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি, কারণ শিশুদের মনের মতো করেই লিখতে হয়। এই বই নিয়েও আমি পাঠক মহলে অনেক আশাবাদী।”

‎সামগ্রিকভাবে বলা যায়, “গল্পে স্বপ্নে জিব্রাইল (আ.)” শুধু একটি গল্পগ্রন্থ নয়; এটি শিশুদের নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
উল্লেখ্য  যে শাম্মী তুলতুলের জন্ম একটি সাহিত্য, সাংস্কৃতিক,রাজনৈতিক,মুক্তিযোদ্ধা ও অভিজাত পরিবারে।তাই লেখালেখি তার রক্তে মুক্তিযুদ্ধ তার চেতনায়।

স্বপ্ন যখন অধ্যবসায়ের ডানা মেলে: বহরমপুরের কলমচি শুভজিৎ মণ্ডলের এক অনন্য উড্ডয়ন

0

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: সাফল্যের ইমারত একদিনে তৈরি হয় না, তার জন্য প্রয়োজন হয় ইস্পাতকঠিন সংকল্প আর নিরলস সাধনা। মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পীঠস্থান বহরমপুর শহরের তেমনই এক উদীয়মান প্রতিভা শুভজিৎ মণ্ডল। ১৯৯৭ সালের ১০ই আগস্ট নিশিকান্ত মণ্ডল ও স্মৃতিকা মণ্ডলের ঘর আলো করে জন্ম নেওয়া এই তরুণ আজ কেবল একটি নাম নন, বরং মেধা ও সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

শিকড়ের সন্ধানে শিক্ষার মজবুত ভিত

শুভজিতের সাফল্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল তাঁর শৈশবেই। পাঠভবন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে সারগাছি রামকৃষ্ণ মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ের সুশৃঙ্খল পরিবেশে তাঁর জীবনবোধ গড়ে ওঠে। এরপর কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত বহরমপুর কলেজ থেকে ২০১৮ সালে বাংলায় স্নাতক এবং ২০২৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। মাতৃভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তাঁর এই গভীর অনুরাগই তাঁকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

প্যাশন যখন পেশা: সৃজনশীল সত্তার বিকাশ

প্রথাগত পড়াশোনার চাপে অনেকেই শখ হারিয়ে ফেলেন, কিন্তু শুভজিৎ ব্যতিক্রম। ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যচর্চা ও অঙ্কন শিল্পের প্রতি তাঁর ছিল দুর্নিবার আকর্ষণ। নিজের মনের ভাবকে কলমের কালি ও তুলির টানে ফুটিয়ে তোলার যে অভ্যাস তিনি শুরু করেছিলেন, তা আজ এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে। ‘গপ্পোবাগীশ’ প্রকাশনীতে বিভিন্ন সংকলনে নিজের লেখা প্রকাশের মাধ্যমে যে যাত্রার শুরু, আজ তা বাংলা সাহিত্যে এক স্বতন্ত্র জায়গা করে নিয়েছে।

সাফল্যের আকাশছোঁয়া মাইলফলক: বইমেলা থেকে গবেষণাধর্মী সাহিত্য

শুভজিতের সম্পাদনায় একের পর এক কালজয়ী সংকলন সমৃদ্ধ করেছে বাংলা সাহিত্যকে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • বর্ণধারা, অক্ষরস্রোত এবং রোদেলা দিন
  • ২০২৬ সালের ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় তাঁর সম্পাদিত ‘শব্দতরঙ্গ’ (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড), ‘অক্ষরলিপি’ এবং ‘নদীর চুপকথারা’ ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে।

সবচেয়ে অনুপ্রেরণার বিষয় হলো তাঁর গবেষণাধর্মী কাজ। NET, SET এবং জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০-এর পাঠ্যক্রম অনুযায়ী তাঁর লেখা ‘গবেষণায় জ্ঞানের তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ’ বইটি শিক্ষার্থীদের জন্য এক আকর গ্রন্থ। ২০২৫ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর মহালয়ার পুণ্য লগ্নে কালীঘাট যোগেশ মাইম অ্যাকাডেমিতে এই বইটির প্রকাশ এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

অদম্য ইচ্ছাশক্তির জয়: এক বছরে ৯টি বই!

ভাবলে অবাক হতে হয়, বিগত মাত্র এক বছরে শুভজিতের মোট ৯টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এটি কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং তাঁর রাতের পর রাত জেগে থাকা পরিশ্রম এবং লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকার জীবন্ত দলিল। সামনের দিনগুলোতে তাঁর সম্পাদনায় আসতে চলেছে ‘সৃষ্টিসুখের কপাট’, ‘বাক্যসুখ’‘ALPHABET’-এর মতো আরও কিছু অনবদ্য সৃষ্টি।

“পরিবারের পাশাপাশি প্রকাশকের সহায়তা থাকলে ভবিষ্যতে অনেক বই এভাবেই পাঠকমহলে উপহার দিতে পারব।” — শুভজিৎ মণ্ডল

শেষ কথা

এত সাফল্যের পরেও শুভজিৎ মাটির কাছাকাছি থাকা একজন মানুষ। তাঁর এই বিনম্র স্বভাব এবং শিকড়কে আঁকড়ে ধরার মানসিকতা আমাদের শেখায় যে, কঠোর পরিশ্রম করলে স্বপ্ন একদিন খাঁটি সোনায় পরিণত হবেই। শুভজিৎ মণ্ডলের এই সাহিত্যযাত্রা আগামী দিনের অসংখ্য তরুণ লেখক ও স্বপ্নদর্শীদের কাছে এক অন্তহীন প্রেরণা।

বিজ্ঞানের ল্যাবরেটরি থেকে সাহিত্যের আঙিনায়: এক অনন্য সেতুবন্ধনে ড. সোহিনী চক্রবর্তী

0

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বিজ্ঞান এবং সাহিত্য— আপাতদৃষ্টিতে দুটি ভিন্ন মেরুর বিষয় মনে হলেও, এদের মধ্যে যে এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটানো সম্ভব, তা প্রমাণ করেছেন হাওড়ার কৃতী সন্তান ড. সোহিনী চক্রবর্তী। একদিকে অণুজীববিদ্যার (Microbiology) জটিল গবেষণা, অন্যদিকে কলমের ডগায় সাহিত্যের কোমল পরশ; এই দুইয়ের মেলবন্ধনে তিনি আজ এক অনন্য সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব।

শিক্ষাজীবন ও বিজ্ঞানের জয়যাত্রা

১০ জানুয়ারি হাওড়া শহরে জন্ম নেওয়া ড. চক্রবর্তী বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করার পর অণুজীববিদ্যায় পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণাপত্রগুলি ঠাঁই পেয়েছে ELSIVRSpringer-এর মতো বিশ্বখ্যাত বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে। বর্তমানে তিনি অধ্যাপনার পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে গবেষণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

শিল্প ও সাহিত্যের প্রতি টান

বিজ্ঞানের কঠোর অনুশীলনের মাঝেও ড. চক্রবর্তীর সত্তায় মিশে আছে শিল্পকলা। বঙ্গীয় সঙ্গীত পরিষদ থেকে অঙ্কন বিভাগে ‘এইটথ ইয়ার’ সম্পন্ন করা এই মানুষটির ছোটবেলা থেকেই ঝোঁক ছিল বই পড়া ও ছবি আঁকায়। ছাত্রজীবন থেকেই শুরু হওয়া সেই সাহিত্যচর্চা আজ এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে। শিলং পাহাড়কে নিয়ে লেখা তাঁর প্রথম রচনা ‘এই আশায়’ থেকেই শুরু হয়েছিল এক দীর্ঘ সাহিত্যিক সফর।

সম্পাদনা ও সাংগঠনিক দক্ষতা

একজন দক্ষ লেখিকার পাশাপাশি সম্পাদিকা হিসেবেও ড. চক্রবর্তী সমান সফল। তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে:

  • মায়ার মহীরুহ, কলমের রূপরেখা, জীবনের ধারাপাত
  • নব সূর্যোদয়, ঐতিহ্যের স্মৃতি খুঁড়ে, ঈশ্বর ও আধ্যাত্মিকতা

বর্তমানে তিনি ‘শিল্প সৃজন প্রকাশনী ও পরিষদ’-এর কর্ণধার হিসেবে নবীন লেখকদের তুলে ধরার মহৎ উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

সাফল্যের শিখরে প্রকাশিত উপন্যাসসমূহ

২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘বিষাদ নদীর এপার ওপার’ পাঠকমহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। অভাবনীয় চাহিদার কারণে বইটির তৃতীয় মুদ্রণ বর্তমানে বাজারে রয়েছে। এরপর প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস ‘এখানে আকাশ নীল’ এবং একক কাব্যগ্রন্থ ‘অপ্রকাশের আলো’। সাহিত্য ও সম্পাদনায় তাঁর এই অসামান্য অবদানের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকেও ভূষিত হয়েছেন।

২০২৬ বইমেলার চমক: ‘টেস্ট টিউব’

চলতি বছরের (২০২৬) কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় শালীধান প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের উপন্যাস ‘টেস্ট টিউব’। প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই বইমেলার স্টলে উপন্যাসটির প্রথম মুদ্রণ ‘সোল্ড আউট’ হয়ে যায়, যা একজন লেখকের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। খুব শীঘ্রই বইটির দ্বিতীয় মুদ্রণ প্রকাশিত হতে চলেছে।

বিজ্ঞানের ল্যাবরেটরি থেকে শুরু করে সাহিত্যের পাতায়— ড. সোহিনী চক্রবর্তীর এই ক্লান্তিহীন পথচলা আজ প্রজন্মের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।

নববর্ষ ও বিশ্ব কবিতা দিবস উপলক্ষে ‘ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টার’-এর বর্ণাঢ্য অনলাইন সাহিত্য আসর

0

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে উদযাপিত হলো এক অনন্য সাহিত্য সন্ধ্যা। নতুন বছরের (১৪৩২) আগমনী শুভেচ্ছা এবং ২৩শে এপ্রিল ‘বিশ্ব কবিতা ও পুস্তক দিবস’ উপলক্ষে “ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টার”-এর পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিল একটি বিশেষ অনলাইন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাকে জয় করে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে নবীন-প্রবীণ কবি ও সাহিত্যিকদের এক মিলনমেলা।

অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন সুব্রত এবং নেপথ্যে কারিগরি সহায়তায় ছিলেন সৌমেন। তাঁদের সুনিপুণ পরিচালনায় ভার্চুয়াল এই মঞ্চটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

কবিতা ও আবহে সমাজ চেতনার প্রতিফলন

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল আমন্ত্রিত কবিদের স্বরচিত পাঠ ও আবৃত্তি। সমাজের বর্তমান প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে চিরায়ত প্রেম ও প্রকৃতি—সবই উঠে এসেছে তাঁদের কণ্ঠে:

  • সাগরিকা মন্ডল: বর্তমান সমাজের অবক্ষয় ও ভালোবাসার সংকট নিয়ে তিনি তাঁর স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন। এছাড়া খেটে খাওয়া মানুষের জীবন সংগ্রাম নিয়ে তাঁর কবিতা “শুধু এক মুঠো” এবং রোমান্টিক ঘরানার “আমি এক সাধারণ মেয়ে” দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে।
  • জয়শ্রী ম্যাম: নয়াদিল্লি থেকে যুক্ত হয়ে তিনি তাঁর প্রাজ্ঞ অভিজ্ঞতার ঝুলি উন্মোচন করেন। তিনি তাঁর স্বরচিত কবিতা “মাটির কাছাকাছি” এবং “যদি আরো কিছু কথা থাকে বলে ফেল” আবৃত্তির পাশাপাশি কবিগুরুর বিখ্যাত “বৈশাখ” কবিতাটি পাঠ করেন। নতুন প্রজন্মের কবিদের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করার জন্য তিনি অনুপ্রেরণা দেন।
  • শশাঙ্ক শেখর চট্টোপাধ্যায়: তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হয় প্রতিবাদের সুর। বর্তমান সময়ের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং যোগ্য প্রার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি পাঠ করেন “কলমচির প্রতি” এবং “দুর্নীতির বাস্তুতন্ত্র”। তাঁর বলিষ্ঠ শব্দশৈলী অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য বাড়িয়ে দেয়।
  • দীপা দত্ত পাল: প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ইন্টারনেট বিভ্রাট কাটিয়ে শেষ মুহূর্তে যুক্ত হয়ে তিনি নজর কাড়েন। অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের “পশ্চিম” এবং কাজী নজরুল ইসলামের জনপ্রিয় শিশুতোষ কবিতা “খুকি ও কাঠবিড়ালি” আবৃত্তি করে তিনি আসর মাতিয়ে রাখেন।

দুর্ভাগ্যবশত, ইন্টারনেট সমস্যার কারণে কল্যাণী সহ বেশ কয়েকজন কবি তাঁদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন, যা আয়োজক ও দর্শক উভয়কেই ব্যথিত করেছে।

সাহিত্যিকদের জন্য বড় ঘোষণা: নতুন ওয়েবসাইট ও সংকলন

অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে লেখক ও কবিদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক ঘোষণা করা হয়:

  1. উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম: সাহিত্যিকদের জন্য একটি নতুন ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যেখানে লেখকরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাঁদের সৃষ্টি প্রকাশ করতে পারবেন। আয়োজকরা জানান, প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার পাঠক এই সাইটটি পরিদর্শন করেন।
  2. বই প্রকাশের সুযোগ: যে সকল লেখক এই প্ল্যাটফর্মে ধারাবাহিকভাবে মানসম্পন্ন লেখা উপহার দেবেন, তাঁদের একক বই প্রকাশের ক্ষেত্রে বিশেষ সহযোগিতা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে “ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টার”।
  3. ঐতিহাসিক সংকলন: বর্তমান সময়ের জ্বলন্ত ইস্যু ও শিক্ষক দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে “শিক্ষার কণ্ঠস্বর” নামে একটি বিশেষ ISBN যুক্ত সংকলন প্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়াও “অন্মেষা”“সৃজনস্বর” নামে আরও দুটি সংকলন শীঘ্রই প্রকাশিত হতে চলেছে।

প্রতিকূলতা ছাপিয়ে সাফল্যের ছোঁয়া

কালবৈশাখীর তান্ডব ও দুর্বল ইন্টারনেটের কারণে অনুষ্ঠান চলাকালীন বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও উপস্থিত সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটি সার্থক হয়। যান্ত্রিক গোলযোগ ছাপিয়ে সাহিত্যের জয়গানই ছিল এই সন্ধ্যার মূল প্রতিপাদ্য। “ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টার”-এর এই উদ্যোগ বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

সমাজ বদলাতে কি তরুণ প্রজন্ম ‘কলম ধরবে না’? ইন্টারন্যাশানাল নিউস্টারের মঞ্চে গর্জে উঠলেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা

0

বর্তমান সময়ের জ্বলন্ত সামাজিক সমস্যা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়— এই সবকিছুর ভিড়ে কি হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিবাদের ভাষা? নাকি নতুন করে ‘কলম’ ধরার সময় এসেছে? এই কঠিন প্রশ্নগুলোকে সামনে রেখেই ‘ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টার’ চ্যানেলে আয়োজিত হয়েছিল এক বিশেষ লাইভ আলোচনা: “কলম ধরবে না?”

এই মননশীল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছিলেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন প্রগতিশীল তরুণ লেখক ও ছাত্র— দেবরাজ সাহা, সাম্যব্রত ভৌমিক এবং উদয় বর্মন। দীর্ঘ আলোচনায় উঠে এল শিক্ষা, রাজনীতি, প্রযুক্তি এবং নারী নিরাপত্তার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক।

১. শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা

আলোচনার শুরুতেই উদয় বর্মন বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটি তুলে ধরেন। তিনি জানান, সেমিস্টার সিস্টেমের প্রবল চাপ এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের অভাব আজ যুবসমাজকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং যোগ্য প্রার্থীদের ওপর পুলিশের আক্রমণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন আলোচকরা। তাঁদের মতে, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে।

২. বুদ্ধিজীবীদের নীরবতা কি অপরাধ?

সাহিত্য কি কেবলই বিনোদন? দেবরাজ সাহা আক্ষেপের সুরে বলেন, “আজ অনেক লেখক ও বুদ্ধিজীবী ব্যক্তিগত স্বার্থে বা ভয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন না।” তাঁর এই কথার রেশ ধরে সাম্যব্রত ভৌমিক মনে করিয়ে দেন যে, অন্যায় দেখে নীরব থাকাও এক প্রকার অপরাধ। এই অবক্ষয়ের যুগে প্রতিবাদী হয়ে সৎ সাহসের সঙ্গে কলম ধরাই এখন সময়ের দাবি।

৩. প্রযুক্তির মায়া ও সৃজনশীলতার ‘এলিয়েনেশন’

প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার ও অনলাইন গেমিং আসক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মার্ক্সীয় তত্ত্ব (Alienation) উল্লেখ করে উদয় ও সাম্যব্রত জানান, বর্তমান পুঁজিপতিদের মুনাফামুখী ব্যবস্থা মানুষকে তাঁর নিজস্ব সৃজনশীলতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে, যা তরুণ প্রজন্মের ধৈর্য ও সহ্যশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে।

৪. ‘অভয়া’ কাণ্ড ও নারী নিরাপত্তা

সমাজে নারী নির্যাতনের ন্যক্কারজনক ঘটনা নিয়ে ধিক্কার জানান আলোচকরা। দেবরাজ সাহা স্পষ্ট জানান, ‘অভয়া’ কাণ্ডের মতো ঘটনা আমাদের সমাজের ব্যর্থতা। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ত্যাগ করে পোশাক বা সময়ের দোহাই না দিয়ে নারীদের স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

৫. বেকারত্ব বনাম সংরক্ষণ: এক গঠনমূলক বিতর্ক

বেকারত্ব নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে সংরক্ষণ প্রথা নিয়ে তৈরি হয় এক চমৎকার তর্কালাপ। দেবরাজ সাহার মতে, মেধার অবমূল্যায়ন করে সংরক্ষণ ব্যবস্থা শিক্ষার মান কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে সাম্যব্রত ভৌমিকের যুক্তি— পিছিয়ে পড়া ও দলিত মানুষকে মূল স্রোতে আনতে সংরক্ষণের যৌক্তিকতা আজও ফুরিয়ে যায়নি।

ধর্মীয় মেরুকরণ ও বিভাজনের রাজনীতি রুখতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আদর্শকে হাতিয়ার করার আহ্বান জানানো হয়। ‘সর্বধর্ম সমন্বয়’-এর মাধ্যমেই এক সুস্থ সমাজ গঠন সম্ভব বলে মনে করেন এই তিন তরুণ তুর্কি।


উপসংহার: “কলম ধরবে না?” অনুষ্ঠানের মূল বার্তা ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার— বর্তমান সমাজের অন্যায় ও দুর্নীতির কাছে মাথা নত না করে মেরুদণ্ড সোজা রাখা। ভয় কাটিয়ে সত্য প্রকাশের জন্য তরুণ প্রজন্মকে একজোট হতে হবে। কারণ, ইতিহাস সাক্ষী— কলম যখন গর্জে ওঠে, তখন বড় বড় সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।