নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বিজ্ঞান এবং সাহিত্য— আপাতদৃষ্টিতে দুটি ভিন্ন মেরুর বিষয় মনে হলেও, এদের মধ্যে যে এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটানো সম্ভব, তা প্রমাণ করেছেন হাওড়ার কৃতী সন্তান ড. সোহিনী চক্রবর্তী। একদিকে অণুজীববিদ্যার (Microbiology) জটিল গবেষণা, অন্যদিকে কলমের ডগায় সাহিত্যের কোমল পরশ; এই দুইয়ের মেলবন্ধনে তিনি আজ এক অনন্য সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব।
শিক্ষাজীবন ও বিজ্ঞানের জয়যাত্রা
১০ জানুয়ারি হাওড়া শহরে জন্ম নেওয়া ড. চক্রবর্তী বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করার পর অণুজীববিদ্যায় পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণাপত্রগুলি ঠাঁই পেয়েছে ELSIVR ও Springer-এর মতো বিশ্বখ্যাত বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে। বর্তমানে তিনি অধ্যাপনার পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে গবেষণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
শিল্প ও সাহিত্যের প্রতি টান
বিজ্ঞানের কঠোর অনুশীলনের মাঝেও ড. চক্রবর্তীর সত্তায় মিশে আছে শিল্পকলা। বঙ্গীয় সঙ্গীত পরিষদ থেকে অঙ্কন বিভাগে ‘এইটথ ইয়ার’ সম্পন্ন করা এই মানুষটির ছোটবেলা থেকেই ঝোঁক ছিল বই পড়া ও ছবি আঁকায়। ছাত্রজীবন থেকেই শুরু হওয়া সেই সাহিত্যচর্চা আজ এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে। শিলং পাহাড়কে নিয়ে লেখা তাঁর প্রথম রচনা ‘এই আশায়’ থেকেই শুরু হয়েছিল এক দীর্ঘ সাহিত্যিক সফর।
সম্পাদনা ও সাংগঠনিক দক্ষতা
একজন দক্ষ লেখিকার পাশাপাশি সম্পাদিকা হিসেবেও ড. চক্রবর্তী সমান সফল। তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে:
- মায়ার মহীরুহ, কলমের রূপরেখা, জীবনের ধারাপাত।
- নব সূর্যোদয়, ঐতিহ্যের স্মৃতি খুঁড়ে, ঈশ্বর ও আধ্যাত্মিকতা।
বর্তমানে তিনি ‘শিল্প সৃজন প্রকাশনী ও পরিষদ’-এর কর্ণধার হিসেবে নবীন লেখকদের তুলে ধরার মহৎ উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।
সাফল্যের শিখরে প্রকাশিত উপন্যাসসমূহ
২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘বিষাদ নদীর এপার ওপার’ পাঠকমহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। অভাবনীয় চাহিদার কারণে বইটির তৃতীয় মুদ্রণ বর্তমানে বাজারে রয়েছে। এরপর প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস ‘এখানে আকাশ নীল’ এবং একক কাব্যগ্রন্থ ‘অপ্রকাশের আলো’। সাহিত্য ও সম্পাদনায় তাঁর এই অসামান্য অবদানের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকেও ভূষিত হয়েছেন।
২০২৬ বইমেলার চমক: ‘টেস্ট টিউব’
চলতি বছরের (২০২৬) কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় শালীধান প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের উপন্যাস ‘টেস্ট টিউব’। প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই বইমেলার স্টলে উপন্যাসটির প্রথম মুদ্রণ ‘সোল্ড আউট’ হয়ে যায়, যা একজন লেখকের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। খুব শীঘ্রই বইটির দ্বিতীয় মুদ্রণ প্রকাশিত হতে চলেছে।
বিজ্ঞানের ল্যাবরেটরি থেকে শুরু করে সাহিত্যের পাতায়— ড. সোহিনী চক্রবর্তীর এই ক্লান্তিহীন পথচলা আজ প্রজন্মের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।



