22.2 C
Kolkata
Thursday, March 5, 2026
Home Blog

৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় ব্রাত্য বসুর হাতে উন্মোচিত হলো ‘উদার আকাশ’-এর বিশেষ সংখ্যা

0

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হলো জনপ্রিয় লিটল ম্যাগাজিন ও গবেষণা পত্রিকা ‘উদার আকাশ’-এর বিশেষ সংখ্যা (১৪৩২)। বুধবার, ২৮ জানুয়ারি বইমেলা প্রাঙ্গণে গিল্ডের অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই বিশেষ সংখ্যাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী, বিশিষ্ট নাট্যকার ও অভিনেতা শ্রী ব্রাত্য বসু।
পঁচিশ বছরের পথচলায় ‘উদার আকাশ’
সম্পাদক ফারুক আহমেদ সম্পাদিত এই রিসার্চ জার্নালটি এ বছর ২৫ বছরে পদার্পণ করল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রাত্য বসুর হাতে পত্রিকার ‘২৫ বছর ১ম সংখ্যাটি’ তুলে দেন সম্পাদক নিজে। সৃজনশীল ও মননশীল লেখনীর জন্য ‘উদার আকাশ’ দীর্ঘকাল ধরেই পাঠক মহলে সমাদৃত। কেবল পত্রিকাই নয়, প্রকাশনা সংস্থা হিসেবেও নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে তারা। এ পর্যন্ত ১৯৯টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে এই সংস্থাটি, যার মধ্যে চলতি বইমেলাতেই মুক্তি পেয়েছে ১৭টি নতুন বই।
বইমেলায় ‘উদার আকাশ’-এর জনপ্রিয় বইসমূহ
এবারের বইমেলায় ৬৬৪ নম্বর স্টলে (৯ নম্বর গেটের কাছে) পাঠকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নজর কেড়েছে ফারুক আহমেদ সম্পাদিত প্রবন্ধ সংকলন এবং সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক মোশারফ হোসেনের উপন্যাসগুলি।
পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা কিছু উল্লেখযোগ্য বই:
প্রবন্ধ: ‘বিস্তীর্ণ আকাশ জুড়ে কাজী নজরুল ইসলাম’, ‘বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম’, ‘প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়ন’, ‘পশ্চিমে সূর্যোদয়: রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের উলটপুরাণ’।
কথাসাহিত্য (মোশারফ হোসেন): দুই বাংলার পটভূমিতে লেখা ‘জন্মভূমিশ্চ’, ‘কাঁচপোকার টিপ’, এবং নতুন ডিটেকটিভ উপন্যাস ‘রহস্য কারগির পাহাড়ে’। এছাড়া ‘এক নদী ভালোবাসা’ ও ‘সন্ধিক্ষণ’ উপন্যাস দুটিও বেশ সাড়া ফেলেছে।
গবেষণা ও চিন্তামূলক: অধ্যাপক আবুল হাসনাত-এর ‘কালের প্রহরী’, মইনুল হাসান-এর ‘বাঙালি ও মুসলমান’ এবং খাজিম আহমেদ-এর ‘বাঙালি মুসলমান: আপন ভুবনের সন্ধানে’।
আসন্ন অনুষ্ঠান: ৩রা ফেব্রুয়ারি নতুন বইয়ের শুভ মুক্তি
সম্পাদক ফারুক আহমেদ পাঠকদের এই অভূতপূর্ব ভালোবাসায় আপ্লুত। তিনি জানান, “উদার আকাশ-এর প্রতি পাঠকদের এই টান আমাদের দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।” তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিকেলে বইমেলার ‘প্রেস কর্নারে’ একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘উদার আকাশ’ প্রকাশনের আরও কয়েকটি নতুন বই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।
একনজরে প্রয়োজনীয় তথ্য:
স্টল নম্বর: ৬৬৪ (৯ নম্বর গেটের সন্নিকটে)
বিশেষ আকর্ষণ: ২৫ বছর পূর্তি সংখ্যা ও ১৭টি নতুন বই।
প্রধান লেখকবৃন্দ: ব্রাত্য বসু, ফারুক আহমেদ, মোশারফ হোসেন, আবুল হাসনাত, মইনুল হাসান, খাজিম আহমেদ প্রমুখ।

কলকাতার মঞ্চে উজ্জ্বল নক্ষত্র সুমন মুখার্জী, আন্তর্জাতিক পরিসরেও সুনাম

0

🎤 কলকাতার মঞ্চে উজ্জ্বল নক্ষত্র সুমন মুখার্জী, আন্তর্জাতিক পরিসরেও সুনাম

কলকাতা, ২০২৫: বাংলা সঙ্গীত জগতে নতুন আলো ছড়াচ্ছেন প্রতিভাবান শিল্পী সুমন মুখার্জী (Suman Mukherjee)। বীরভূমের সিউড়িতে জন্ম নেওয়া এই তরুণ শিল্পী বর্তমানে কলকাতাকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গীতজীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ছোটবেলায় মায়ের দেওয়া হারমোনিয়াম থেকেই শুরু হয়েছিল সুমনের সঙ্গীতযাত্রা। প্রথম অনুপ্রেরণা এসেছিল মায়ের কাছ থেকেই, পরে গুরু শ্রী উৎপল রায়ের কাছে নিয়মিত তালিম নিয়ে গড়ে ওঠেন তিনি।

শিক্ষাজীবনে অসামান্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন এই শিল্পী। কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি। স্নাতকে ফার্স্ট ক্লাস এবং স্নাতকোত্তরে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সপ্তম স্থান অধিকার করেন সুমন। এর স্বীকৃতি স্বরূপ রাজ্যপালের হাত থেকে পান দুটি সম্মানজনক পুরস্কার।

সঙ্গীত জগতে তাঁর উত্থানও সমানভাবে উজ্জ্বল। ইতিমধ্যেই তিনি অংশগ্রহণ করেছেন আইআইটি মাদ্রাজ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স, মুম্বইয়ের স্বর সাধনা সমিতি, রাষ্ট্রীয় যুব সঙ্গীত সম্মেলন, ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রকের ওয়েজিসিসি (WZCC) আয়োজিত মঞ্চসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের “Arts from India”—এর মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে। টেলিভিশন পর্দাতেও তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছে। আকাশ আট, রূপসী বাংলা, হাই নিউজ বাংলা থেকে শুরু করে ডিডি ন্যাশনাল হিন্দি পর্যন্ত একাধিক চ্যানেলে তাঁর কণ্ঠ প্রশংসিত হয়েছে।

সেলিব্রিটি মহলেও তাঁর গান সমানভাবে সাড়া ফেলেছে। বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক সোনু নিগম তাঁর গান প্রায় ৩০ বার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে দুইবার সাক্ষাৎ করে আশীর্বাদ করেছেন। সুমনের ভাষায়, “ওই মুহূর্তগুলো ছিল একেবারেই ঈশ্বরীয়।” শুধু সোনু নিগম নন, শ্রদ্ধেয় রূপকুমার রাঠোর, খ্যাতনামা শিল্পী রেখা ভরদ্বাজ ও সুরকার জিৎ গাঙ্গুলীও তাঁর গান শুনে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার ও প্রশংসা করেছেন।

তাঁর কণ্ঠে প্রকাশিত গানের মধ্যে ‘ধ্রুবতারা’ (কথা, সুর ও কণ্ঠ— সুমন মুখার্জী) এবং ‘ভুল বুঝে’ (কথা ও সুর প্রতীক কর্মকার, কণ্ঠ— সুমন মুখার্জী) শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছে। নতুন কিছু গানের কাজও চলছে, যা খুব শিগগিরই প্রকাশ পেতে চলেছে।

শুধু গান নয়, সঙ্গীতের বাইরেও তাঁর আলাদা আগ্রহ রয়েছে। মার্শাল আর্ট এবং অ্যাকশন ফিল্ম তাঁর নেশার জায়গা।

বাংলা সঙ্গীত জগতে নবপ্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে সুমন মুখার্জী আজ অন্যতম আলোচিত নাম। একদিকে একাডেমিক সাফল্য, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে গর্বের সঙ্গে বাংলা গানের পরিচিতি বহন— সব মিলিয়ে তিনি আজ বাংলা সঙ্গীতের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতীক।

নববর্ষ ও বিশ্ব কবিতা দিবস উপলক্ষে ‘ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টার’-এর বর্ণাঢ্য অনলাইন সাহিত্য আসর

0

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে উদযাপিত হলো এক অনন্য সাহিত্য সন্ধ্যা। নতুন বছরের (১৪৩২) আগমনী শুভেচ্ছা এবং ২৩শে এপ্রিল ‘বিশ্ব কবিতা ও পুস্তক দিবস’ উপলক্ষে “ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টার”-এর পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিল একটি বিশেষ অনলাইন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাকে জয় করে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে নবীন-প্রবীণ কবি ও সাহিত্যিকদের এক মিলনমেলা।

অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন সুব্রত এবং নেপথ্যে কারিগরি সহায়তায় ছিলেন সৌমেন। তাঁদের সুনিপুণ পরিচালনায় ভার্চুয়াল এই মঞ্চটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

কবিতা ও আবহে সমাজ চেতনার প্রতিফলন

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল আমন্ত্রিত কবিদের স্বরচিত পাঠ ও আবৃত্তি। সমাজের বর্তমান প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে চিরায়ত প্রেম ও প্রকৃতি—সবই উঠে এসেছে তাঁদের কণ্ঠে:

  • সাগরিকা মন্ডল: বর্তমান সমাজের অবক্ষয় ও ভালোবাসার সংকট নিয়ে তিনি তাঁর স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন। এছাড়া খেটে খাওয়া মানুষের জীবন সংগ্রাম নিয়ে তাঁর কবিতা “শুধু এক মুঠো” এবং রোমান্টিক ঘরানার “আমি এক সাধারণ মেয়ে” দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে।
  • জয়শ্রী ম্যাম: নয়াদিল্লি থেকে যুক্ত হয়ে তিনি তাঁর প্রাজ্ঞ অভিজ্ঞতার ঝুলি উন্মোচন করেন। তিনি তাঁর স্বরচিত কবিতা “মাটির কাছাকাছি” এবং “যদি আরো কিছু কথা থাকে বলে ফেল” আবৃত্তির পাশাপাশি কবিগুরুর বিখ্যাত “বৈশাখ” কবিতাটি পাঠ করেন। নতুন প্রজন্মের কবিদের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করার জন্য তিনি অনুপ্রেরণা দেন।
  • শশাঙ্ক শেখর চট্টোপাধ্যায়: তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হয় প্রতিবাদের সুর। বর্তমান সময়ের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং যোগ্য প্রার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি পাঠ করেন “কলমচির প্রতি” এবং “দুর্নীতির বাস্তুতন্ত্র”। তাঁর বলিষ্ঠ শব্দশৈলী অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য বাড়িয়ে দেয়।
  • দীপা দত্ত পাল: প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ইন্টারনেট বিভ্রাট কাটিয়ে শেষ মুহূর্তে যুক্ত হয়ে তিনি নজর কাড়েন। অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের “পশ্চিম” এবং কাজী নজরুল ইসলামের জনপ্রিয় শিশুতোষ কবিতা “খুকি ও কাঠবিড়ালি” আবৃত্তি করে তিনি আসর মাতিয়ে রাখেন।

দুর্ভাগ্যবশত, ইন্টারনেট সমস্যার কারণে কল্যাণী সহ বেশ কয়েকজন কবি তাঁদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন, যা আয়োজক ও দর্শক উভয়কেই ব্যথিত করেছে।

সাহিত্যিকদের জন্য বড় ঘোষণা: নতুন ওয়েবসাইট ও সংকলন

অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে লেখক ও কবিদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক ঘোষণা করা হয়:

  1. উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম: সাহিত্যিকদের জন্য একটি নতুন ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যেখানে লেখকরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাঁদের সৃষ্টি প্রকাশ করতে পারবেন। আয়োজকরা জানান, প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার পাঠক এই সাইটটি পরিদর্শন করেন।
  2. বই প্রকাশের সুযোগ: যে সকল লেখক এই প্ল্যাটফর্মে ধারাবাহিকভাবে মানসম্পন্ন লেখা উপহার দেবেন, তাঁদের একক বই প্রকাশের ক্ষেত্রে বিশেষ সহযোগিতা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে “ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টার”।
  3. ঐতিহাসিক সংকলন: বর্তমান সময়ের জ্বলন্ত ইস্যু ও শিক্ষক দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে “শিক্ষার কণ্ঠস্বর” নামে একটি বিশেষ ISBN যুক্ত সংকলন প্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়াও “অন্মেষা”“সৃজনস্বর” নামে আরও দুটি সংকলন শীঘ্রই প্রকাশিত হতে চলেছে।

প্রতিকূলতা ছাপিয়ে সাফল্যের ছোঁয়া

কালবৈশাখীর তান্ডব ও দুর্বল ইন্টারনেটের কারণে অনুষ্ঠান চলাকালীন বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও উপস্থিত সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটি সার্থক হয়। যান্ত্রিক গোলযোগ ছাপিয়ে সাহিত্যের জয়গানই ছিল এই সন্ধ্যার মূল প্রতিপাদ্য। “ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টার”-এর এই উদ্যোগ বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

সমাজ বদলাতে কি তরুণ প্রজন্ম ‘কলম ধরবে না’? ইন্টারন্যাশানাল নিউস্টারের মঞ্চে গর্জে উঠলেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা

0

বর্তমান সময়ের জ্বলন্ত সামাজিক সমস্যা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়— এই সবকিছুর ভিড়ে কি হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিবাদের ভাষা? নাকি নতুন করে ‘কলম’ ধরার সময় এসেছে? এই কঠিন প্রশ্নগুলোকে সামনে রেখেই ‘ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টার’ চ্যানেলে আয়োজিত হয়েছিল এক বিশেষ লাইভ আলোচনা: “কলম ধরবে না?”

এই মননশীল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছিলেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন প্রগতিশীল তরুণ লেখক ও ছাত্র— দেবরাজ সাহা, সাম্যব্রত ভৌমিক এবং উদয় বর্মন। দীর্ঘ আলোচনায় উঠে এল শিক্ষা, রাজনীতি, প্রযুক্তি এবং নারী নিরাপত্তার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক।

১. শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা

আলোচনার শুরুতেই উদয় বর্মন বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটি তুলে ধরেন। তিনি জানান, সেমিস্টার সিস্টেমের প্রবল চাপ এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের অভাব আজ যুবসমাজকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং যোগ্য প্রার্থীদের ওপর পুলিশের আক্রমণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন আলোচকরা। তাঁদের মতে, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে।

২. বুদ্ধিজীবীদের নীরবতা কি অপরাধ?

সাহিত্য কি কেবলই বিনোদন? দেবরাজ সাহা আক্ষেপের সুরে বলেন, “আজ অনেক লেখক ও বুদ্ধিজীবী ব্যক্তিগত স্বার্থে বা ভয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন না।” তাঁর এই কথার রেশ ধরে সাম্যব্রত ভৌমিক মনে করিয়ে দেন যে, অন্যায় দেখে নীরব থাকাও এক প্রকার অপরাধ। এই অবক্ষয়ের যুগে প্রতিবাদী হয়ে সৎ সাহসের সঙ্গে কলম ধরাই এখন সময়ের দাবি।

৩. প্রযুক্তির মায়া ও সৃজনশীলতার ‘এলিয়েনেশন’

প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার ও অনলাইন গেমিং আসক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মার্ক্সীয় তত্ত্ব (Alienation) উল্লেখ করে উদয় ও সাম্যব্রত জানান, বর্তমান পুঁজিপতিদের মুনাফামুখী ব্যবস্থা মানুষকে তাঁর নিজস্ব সৃজনশীলতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে, যা তরুণ প্রজন্মের ধৈর্য ও সহ্যশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে।

৪. ‘অভয়া’ কাণ্ড ও নারী নিরাপত্তা

সমাজে নারী নির্যাতনের ন্যক্কারজনক ঘটনা নিয়ে ধিক্কার জানান আলোচকরা। দেবরাজ সাহা স্পষ্ট জানান, ‘অভয়া’ কাণ্ডের মতো ঘটনা আমাদের সমাজের ব্যর্থতা। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ত্যাগ করে পোশাক বা সময়ের দোহাই না দিয়ে নারীদের স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

৫. বেকারত্ব বনাম সংরক্ষণ: এক গঠনমূলক বিতর্ক

বেকারত্ব নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে সংরক্ষণ প্রথা নিয়ে তৈরি হয় এক চমৎকার তর্কালাপ। দেবরাজ সাহার মতে, মেধার অবমূল্যায়ন করে সংরক্ষণ ব্যবস্থা শিক্ষার মান কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে সাম্যব্রত ভৌমিকের যুক্তি— পিছিয়ে পড়া ও দলিত মানুষকে মূল স্রোতে আনতে সংরক্ষণের যৌক্তিকতা আজও ফুরিয়ে যায়নি।

ধর্মীয় মেরুকরণ ও বিভাজনের রাজনীতি রুখতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আদর্শকে হাতিয়ার করার আহ্বান জানানো হয়। ‘সর্বধর্ম সমন্বয়’-এর মাধ্যমেই এক সুস্থ সমাজ গঠন সম্ভব বলে মনে করেন এই তিন তরুণ তুর্কি।


উপসংহার: “কলম ধরবে না?” অনুষ্ঠানের মূল বার্তা ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার— বর্তমান সমাজের অন্যায় ও দুর্নীতির কাছে মাথা নত না করে মেরুদণ্ড সোজা রাখা। ভয় কাটিয়ে সত্য প্রকাশের জন্য তরুণ প্রজন্মকে একজোট হতে হবে। কারণ, ইতিহাস সাক্ষী— কলম যখন গর্জে ওঠে, তখন বড় বড় সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

বিজ্ঞানের যুক্তি ও সাহিত্যের মায়াজাল: সমকালীন বাংলা সাহিত্যে মলয় হাজরার নতুন জয়যাত্রা

0
বিজ্ঞানের যুক্তি ও সাহিত্যের মায়াজাল: সমকালীন বাংলা সাহিত্যে মলয় হাজরার নতুন জয়যাত্রা
বিজ্ঞানের যুক্তি ও সাহিত্যের মায়াজাল: সমকালীন বাংলা সাহিত্যে মলয় হাজরার নতুন জয়যাত্রা

কলকাতা: সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বদলেছে গল্পের ঘরানা, বদলেছে পাঠকদের রুচি। সেই আধুনিক মনন আর ধ্রুপদী সাহিত্যের আভিজাত্যকে একই সমান্তরালে নিয়ে চলছেন বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম প্রতিভাবান লেখক মলয় হাজরা। পেশায় অর্থনীতিবিদ হয়েও নেশার টানে তিনি নিজেকে সঁপে দিয়েছেন সাহিত্যের আঙিনায়। বিশেষ করে রহস্য, রোমাঞ্চ এবং কল্পবিজ্ঞানের (Science Fiction) জগতে তাঁর পদচারণা আজ পাঠকমহলে এক চর্চিত বিষয়।

অর্থনীতি থেকে সাহিত্য: এক বৈচিত্র্যময় সফর

মলয় হাজরা পেশাগতভাবে অর্থনীতির জটিল তত্ত্ব নিয়ে কাজ করলেও, তাঁর হৃদস্পন্দন জুড়ে রয়েছে সাহিত্য। তবে তিনি কেবল গতানুগতিক ধারার লেখক নন; বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা আর কৌতূহল তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তাঁর লেখায় যেমন যুক্তির বাঁধুনি থাকে, তেমনই থাকে কল্পনার মায়াবী বিস্তার। কল্পবিজ্ঞানের গল্প দিয়ে তাঁর এই দীর্ঘ সফরের সূচনা হয়েছিল, যা আজ ডালপালা মেলে বিভিন্ন অডিও প্ল্যাটফর্ম এবং রেডিওর স্টুডিও পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। উল্লেখ্য যে, তাঁর সৃজনশীল গল্পগুলো আজ কার্টুন বা অ্যানিমেশন হিসেবেও দর্শকদের সামনে উঠে আসছে, যা তাঁর বহুমুখী প্রতিভারই প্রমাণ দেয়।

২০২৫: সাফল্যের এক মাইলফলক বছর

বিগত বছরটি লেখক মলয় হাজরার ক্যারিয়ারে এক বিশেষ মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। প্লাসেন্টা পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর প্রথম একক ভৌতিক গল্প সংকলন ‘ঘরের কোণে অন্ধকার’। অতিপ্রাকৃত রহস্য আর হাড়হিম করা বর্ণনায় সমৃদ্ধ এই বইটি পাঠকদের মধ্যে ব্যপক সাড়া ফেলেছে। ঠিক একই সময়ে, কলকাতা বইমেলায় প্রতিভা ম্যাগাজিনের বিশেষ সহযোগিতায় নভোনীল প্রকাশনী থেকে আত্মপ্রকাশ করেছে তাঁর আরও একটি অনবদ্য সৃষ্টি ‘ভিনগ্রহের আলো’। প্রেম ও বন্ধুত্বের এক মহাজাগতিক আখ্যান নিয়ে সাজানো এই বইটি কিশোর থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সের পাঠকের মন জয় করেছে।

পত্রপত্রিকা ও জনপ্রিয় মাধ্যমে বিস্তৃতি

মলয় হাজরার লেখনী আজ আর কেবল বইয়ের মলাটে সীমাবদ্ধ নেই। জনপ্রিয় ওয়েব পোর্টাল ‘গল্পকুটির’, ‘আগামীর আঙিনা’ সহ একাধিক নামী সাহিত্য পত্রিকায় তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি পাঠকদের প্রতিক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর গল্পের শব্দচয়ন যেমন আধুনিক, তেমনই বর্ণনার শৈলী অত্যন্ত সাবলীল, যা একজন পাঠককে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আচ্ছন্ন করে রাখে।

আগামী চমক: মৃণাল সেনের গোয়েন্দাগিরি

রহস্য প্রেমীদের জন্য মলয় হাজরা নিয়ে আসছেন এক নতুন রোমাঞ্চ। বর্তমানে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন তাঁর নতুন সৃষ্টি ‘মৃণাল সেনের গোয়েন্দাগিরি’ সিরিজ নিয়ে। গোয়েন্দা গল্পের সেই চিরাচরিত স্বাদকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে কীভাবে তিনি পরিবেশন করেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সাহিত্য মহলে কৌতূহল দানা বেঁধেছে। গোয়েন্দা মৃণাল সেনের তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর রহস্য সমাধানের ধরন পাঠকদের নতুন এক অভিজ্ঞতার স্বাদ দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলা সাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধ করার এই যে লড়াই, সেখানে মলয় হাজরা এক শক্তিশালী সেনানী। বিজ্ঞানমনস্কতা আর সৃজনশীলতার এই মেলবন্ধন আগামী দিনে বাংলা সাহিত্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে—এমনটাই আশা করছেন বিদগ্ধ পাঠকমহল।

HPCL নিয়োগ ২০২৬: ৭৩০টিরও বেশি শূন্যপদে ফ্রেশার্স ও অভিজ্ঞদের চাকরির সুযোগ, জানুন আবেদনের পদ্ধতি

0

নতুন দিল্লি: রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (HPCL) বিভিন্ন বিভাগে ৭৩০টিরও বেশি পদে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ‘মহারত্ন’ এই সংস্থায় জুনিয়র এক্সিকিউটিভ, ইঞ্জিনিয়ার, অফিসার এবং ম্যানেজারসহ একাধিক পদে ফ্রেশার্স (Freshers) এবং অভিজ্ঞ (Experienced) প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ২৫শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে।

নিয়োগের মূল তথ্য (At a Glance)

পদের বিবরণবিস্তারিত তথ্য
মোট শূন্যপদ৭৩২টি (ফ্রেশার্স: ৬২১, অভিজ্ঞ: ১১০, চুক্তিভিত্তিক: ০১)
আবেদনের মাধ্যমঅনলাইন
আবেদন শুরুর তারিখ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আবেদনের শেষ তারিখ২৫ মার্চ, ২০২৬
বেতন কাঠামো৩০,০০০ টাকা থেকে ২,৮০,০০০ টাকা (পদমর্যাদা অনুযায়ী)
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটwww.hindustanpetroleum.com

পদ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা

১. ফ্রেশার্স পজিশন (৬২১টি পদ):

  • যোগ্যতা: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ৩ বছরের ডিপ্লোমা অথবা বি.ই/বি.টেক (ইঞ্জিনিয়ারিং) অথবা স্নাতক/সিএ/এমবিএ/এমসিএ পাস।
  • বিভাগ: মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, সিভিল, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এইচআর, ফিন্যান্স ইত্যাদি।
  • বয়স: ২৫ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে।
  • যোগ্যতা: সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ১ থেকে ১৮ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা এবং নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা।
  • পদ: অফিসার, সিনিয়র অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, ম্যানেজার এবং ডিজিএম।
  • বয়স: ২৬ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।

প্রার্থীদের নির্বাচনের জন্য নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করা হবে:

১. কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষা (CBT)

২. গ্রুপ টাস্ক এবং স্কিল টেস্ট

৩. পার্সোনাল ইন্টারভিউ (Personal Interview)

৪. মেডিক্যাল টেস্ট ও নথিপত্র যাচাই

আবেদন ফি (Application Fee)

  • UR / OBC-NCL / EWS: ১১৮০ টাকা (জিএসটি সহ)।
  • SC / ST / PwBD: কোনো আবেদন ফি লাগবে না।

আগ্রহী প্রার্থীদের সরাসরি HPCL-এর অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পেজের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে:

  • ধাপ ১: HPCL-এর অফিসিয়াল সাইটে গিয়ে ‘Careers’ এবং তারপর ‘Current Openings’-এ ক্লিক করুন।
  • ধাপ ২: ইমেল আইডি এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন।
  • ধাপ ৩: সঠিক তথ্য দিয়ে অনলাইন আবেদন ফর্মটি পূরণ করুন।
  • ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় নথিপত্র, ছবি এবং স্বাক্ষর আপলোড করুন।
  • ধাপ ৫: আবেদন ফি জমা দিন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং ফর্মটি সাবমিট করে একটি প্রিন্টআউট রেখে দিন।

ভারতীয় রেলে ৫৩৪৯টি পদে নিয়োগ: মাধ্যমিক ও আইটিআই পাসেই মিলবে সুযোগ, জানুন আবেদনের শেষ তারিখ

0

মুম্বাই (আরআরসি): রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট সেল (RRC), পশ্চিম রেলওয়েতে ২০২৩-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য বিশাল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। ৫৩৪৯টি শূন্যপদে ‘অ্যাক্ট অ্যাপ্রেন্টিস’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গ সহ সারা ভারতের যোগ্য প্রার্থীরা এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন। কোনো লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি মেধার ভিত্তিতে এই নিয়োগ সম্পন্ন হবে।

নিয়োগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ (Quick Info)

পদের নামঅ্যাক্ট অ্যাপ্রেন্টিস (বিভিন্ন ট্রেড)
মোট শূন্যপদ৫৩৪৯টি
আবেদন শুরু২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (সকাল ১১টা)
আবেদনের শেষ তারিখ২৩ মার্চ, ২০২৬ (বিকেল ৫টা)
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটwww.rrc-wr.com

ট্রেড ভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা (Major Trades)

পশ্চিম রেলওয়ের বিভিন্ন ডিভিশন ও ওয়ার্কশপে মোট ৫৩৪৯টি পদের মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো:

  • ফিটার (Fitter): ১৬১৪টি
  • ইলেক্ট্রিশিয়ান (Electrician): ১২১৭টি
  • ওয়েল্ডার (Welder): ৫৩২টি
  • পাসা (PASAA): ২৮০টি
  • মেকানিক ডিজেল: ২০৭টি
  • টার্নার: ৭৫টি
  • প্লাম্বার ও ওয়্যারম্যান: ২৬২টি (উভয় মিলে)

আবেদনের যোগ্যতা (Eligibility Criteria)

১. শিক্ষাগত যোগ্যতা:

প্রার্থীকে ন্যূনতম ৫০% নম্বরসহ মাধ্যমিক (১০ম শ্রেণী) পাস হতে হবে। সাথে সংশ্লিষ্ট ট্রেডে NCVT/SCVT অনুমোদিত আইটিআই (ITI) সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক।

২. বয়সসীমা (২৩/০৩/২০২৬ অনুযায়ী):

  • ন্যূনতম বয়স: ১৫ বছর।
  • সর্বোচ্চ বয়স: ২৪ বছর।
  • (নিয়ম অনুযায়ী এসসি/এসটি প্রার্থীরা ৫ বছর, ওবিসি প্রার্থীরা ৩ বছর এবং পিডব্লিউবিডি প্রার্থীরা ১০ বছর বয়সে ছাড় পাবেন।)

নির্বাচন পদ্ধতি (Selection Process)

  • মেধা তালিকা (Merit List): মাধ্যমিকের নম্বর এবং আইটিআই-এর নম্বরের গড় শতাংশের ভিত্তিতে একটি মেধা তালিকা তৈরি করা হবে।
  • ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন: শর্টলিস্ট করা প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য ডাকা হবে।

  • সাধারণ ও ওবিসি (General/OBC): ১০০ টাকা।
  • ফ্রি আবেদন: এসসি, এসটি, পিডব্লিউবিডি এবং সকল মহিলা প্রার্থীদের কোনো ফি দিতে হবে না।

কিভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন? (How to Apply)

আগ্রহী প্রার্থীরা সরাসরি আরআরসি পশ্চিম রেলওয়ের অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে আবেদন করতে পারেন:

২. ‘Apprentice recruitment’ লিঙ্কে ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন করুন।

৩. প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত তথ্য দিয়ে ফর্মটি পূরণ করুন।

৪. স্ক্যান করা ছবি, স্বাক্ষর এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করুন।

৫. আবেদন ফি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) জমা দিয়ে ফাইনাল সাবমিট করুন এবং প্রিন্টআউট নিয়ে রাখুন।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: সল্টলেকের নামী প্রতিষ্ঠানে বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ পদে কাজের সুযোগ

0

কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ: আপনি কি সেলস এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্টে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী? সল্টলেকের অন্যতম প্রধান ইন্টেরিয়র ডিজাইন সংস্থা ‘Decogrey Designs Private Limited’ তাদের কলকাতা অফিসে উদ্যমী এবং দক্ষ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ (BDE) নিয়োগের ঘোষণা করেছে।

আগ্রহী এবং যোগ্য প্রার্থীদের দ্রুত আবেদন করার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। নিচে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হলো:

  • প্রতিষ্ঠানের নাম: Decogrey Designs Private Limited
  • পদের নাম: বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ (Business Development Executive – BDE)
  • কাজের স্থান: সল্টলেক, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ।
  • বেতন: মাসিক ১৮,০০০ টাকা থেকে ৩০,০০০ টাকা (যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী)।

এই পদের জন্য আবেদন করতে প্রার্থীকে নিম্নলিখিত যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে: ১. শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (Bachelor’s Degree) পাস। ২. অভিজ্ঞতা: ডিরেক্ট সেলস (Direct Sales) এবং লিড জেনারেশনে বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকা বাঞ্ছনীয়। ৩. ভাষাগত দক্ষতা: ইংরেজি এবং হিন্দি ভাষায় সাবলীল কথোপকথনে দক্ষ হতে হবে। ৪. কারিগরী জ্ঞান: ইন্টেরিয়র ডিজাইন সেক্টর সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা এবং সেলস টেকনিক জানা থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ৫. অন্যান্য দক্ষতা: বিজনেস ডেভেলপমেন্ট, অ্যাকাউন্ট ম্যানেজমেন্ট এবং গ্রাহকদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষমতা (Communication Skills)।

  • নতুন ক্লায়েন্ট খুঁজে বের করা এবং ব্যবসার প্রসারে ভূমিকা রাখা।
  • সরাসরি বিক্রয় বা ডিরেক্ট সেলস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোম্পানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা।
  • ইন্টেরিয়র ডিজাইন প্রজেক্টের জন্য সম্ভাব্য গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ ও ডিল ক্লোজ করা।
  • মার্কেট অ্যানালাইসিস এবং লিড জেনারেশন করা।

কেন এখানে কাজ করবেন?

  • কলকাতার অন্যতম প্রাইম লোকেশনে (সল্টলেক) কাজের সুযোগ।
  • আকর্ষণীয় বেতন কাঠামোর পাশাপাশি ইনসেনটিভের সুবিধা।
  • পেশাদার কর্মপরিবেশ এবং ক্যারিয়ার উন্নতির সুযোগ।

কিভাবে আবেদন করবেন? আগ্রহী প্রার্থীরা সরাসরি কোম্পানির অফিসিয়াল পোর্টাল অথবা অনলাইন জব লিস্টিং সাইটের মাধ্যমে তাদের আপডেটেড সিভি (CV) জমা দিতে পারেন।

বলাগড় বইমেলায় ‘মাঠ’ সাহিত্য পত্রিকার চতুর্থ বর্ষের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ ও মনোজ্ঞ কবি সম্মেলন

0

নিজস্ব প্রতিনিধি, বলাগড়: বসন্তের আমেজ আর বইয়ের ঘ্রাণে মুখরিত হুগলি জেলার ১৫তম বলাগড় বইমেলা। গত ২রা মার্চ এই মেলার কবি সম্মেলনের মঞ্চে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হলো ‘মাঠ’ সাহিত্য পত্রিকার চতুর্থ বর্ষের বিশেষ বইমেলা সংখ্যা (১৪৩২)। অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সাহিত্যপ্রেমী ও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
পত্রিকার এই বিশেষ সংখ্যাটি উন্মোচনের সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন একঝাঁক গুণী মানুষ ও সাহিত্য অনুরাগী। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
বিমল চন্দ্র পাল: সভাপতি, মাঠ সাহিত্য পত্রিকা।
শান্তনু ঘোষ: পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।
শুভঙ্কর রায় চৌধুরী: মাননীয় উপদেষ্টা।
তপন রায়: বিশিষ্ট কবি।
ঋষভ ঘোষ: সম্পাদক।
সহ-সম্পাদকবৃন্দ: তরনী দাস, তপন কুমার চট্টোপাধ্যায় ও মৌসুমী গুহ।
এছাড়াও এলাকার অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাহিত্যিকগণ এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটির মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।
স্বরচিত কবিতায় মুগ্ধ শ্রোতা
প্রকাশনা পর্বের পাশাপাশি ওইদিন আয়োজন করা হয়েছিল একটি মনোজ্ঞ কবি সম্মেলন। যেখানে কবিরা তাঁদের কলমের জাদুতে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। মঞ্চে স্বরচিত কবিতা পাঠ করে শোনান:
শান্তনু ঘোষ
শুভঙ্কর রায় চৌধুরী
তরনী দাস
ঋষভ ঘোষ
বিমল চন্দ্র পাল
মৌসুমী গুহ
রবিন বিশ্বাস
সহ আরও অনেক প্রতিভাবান কবি। তাঁদের লেখনীতে উঠে আসে সমসাময়িক সমাজ, প্রকৃতি এবং মানবিক অনুভূতির নানা দিক।
আগামীর অঙ্গীকার
পত্রিকা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘মাঠ’ পত্রিকা বরাবরই নতুন ও প্রবীণ লেখকদের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে আসছে। চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ করে এই পত্রিকা আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। আগামী দিনে আরও অনেক সৃষ্টিশীল মানুষ ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ এই পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হবেন এবং বাংলা সাহিত্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন—এমনটাই আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।

যুবশক্তির ইতিবাচক প্রতিচ্ছবি: ২৪তম জন্মবার্ষিকীতে মানবসেবার অঙ্গীকার যুব আইকন দেবরাজ সাহার

0

আন্তর্জাতিক সংগঠন International Newstar-এর পক্ষ থেকে যুব আইকন সম্মাননাপ্রাপ্ত দেবরাজ সাহা তাঁর ২৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একাধিক সমাজসেবামূলক কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন। আগামী ১৬ নভেম্বর ২০২৫ আন্তর্জাতিক নব-নক্ষত্র সংস্থা থেকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে “Youth Icon” সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল। সেই গৌরবময় সম্মাননাকে সামনে রেখেই আসন্ন জন্মদিনকে মানবসেবার মাধ্যমে উদযাপন করার উদ্যোগ নিয়েছেন বীরভূম জেলার তরুণ লেখক, গল্পকার, সমাজসেবক এবং সম্পাদকীয় বিশ্লেষক দেবরাজ সাহা
জানা গেছে, আগামী ১৩ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার কলকাতার হেল্থ ভিউ ডায়গনস্টিক এর উদ্যোগে বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। সমাজের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বীরভূমের পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট লোকশিল্পী শ্রী রতন কাহার মহাশয়।

এছাড়াও, ১৪ মার্চ ২০২৬, শনিবার পথবাসী ও অভাবগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে অন্নভাগ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। মানবিক সংহতি ও সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন দেবরাজের শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
পরবর্তীতে, ১৫ মার্চ ২০২৬, রবিবার সমাজসেবক শ্রীমতী ছবিলা খাতুনের সহযোগিতায় অসহায় মায়েদের সঙ্গে তাঁর ২৪তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে। প্রবীণদের পাশে দাঁড়িয়ে ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে যুব আইকন দেবরাজ সাহা বলেন,
“আমার জন্মদিন শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আনন্দের দিন নয়; এটি আত্মসমালোচনা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা পুনর্নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। চলতি বছরে কোলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় আমার রচিত গল্প ‘সর্বমঙ্গলা’ প্রকাশিত হয়েছে। সেই সময় আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, বইটির বিক্রয়লব্ধ অর্থের ৮০ শতাংশ সমাজসেবামূলক কাজে ব্যয় করব। তাই এই ধারাবাহিক কর্মসূচি সেই অঙ্গীকার পূরণেরই এক আন্তরিক প্রয়াস। আমি বিশ্বাস করি, সাহিত্য কেবল মননকে সমৃদ্ধ করে না, তা সমাজের প্রতিও আমাদের দায়বদ্ধ করে তোলে। যদি আমার লেখনী মানুষের কল্যাণে সামান্যতম অবদান রাখতে পারে, তবেই তার প্রকৃত সার্থকতা। যুবসমাজকে সঙ্গে নিয়ে মানবিকতার এই পথচলাই আমার আগামী দিনের লক্ষ্য।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, *“সম্মান আমাকে অনুপ্রাণিত করে, কিন্তু মানুষের হাসিই আমাকে শক্তি দেয়। তাই এই আয়োজন কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি এক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং আগামী দিনেও এধরনের কর্মসূচি আমি চালিয়ে যাব।”
তবে এমন একজন মানবিক ও সমাজমনস্ক ব্যক্তিত্বকে Youth Icon সম্মানে ভূষিত করতে পেরে আমাদের সংস্থা International Newstar গর্বিত। দেবরাজ সাহার এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত করবে এবং যুবশক্তির ইতিবাচক ভূমিকার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

সাউথ ইন্ডিয়ান ব্যাংকে নিয়োগ ২০২৬: আইটি অডিটর ও ভিএপিটি পদে চাকরির সুযোগ

0

আপনি কি ব্যাংকিং সেক্টরে আইটি স্পেশালিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী? সাউথ ইন্ডিয়ান ব্যাংক লিমিটেড (SIB) ২০২৬ সালের জন্য আইটি অডিট ফাংশনে বিভিন্ন পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। যোগ্য ও আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
নিচে নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. পদের নাম ও বেতন কাঠামো
সাউথ ইন্ডিয়ান ব্যাংক প্রধানত তিনটি ক্যাটাগরিতে নিয়োগ দিচ্ছে:
VAPT (Vulnerability Assessment & Penetration Testing): স্কেল II/III
ITGC Auditor (IT General Controls): স্কেল I/II
RED Team Lead: স্কেল I/II
বেতন: আইবিএ (IBA) অনুমোদিত পে-স্কেল অনুযায়ী আকর্ষণীয় বেতন। এর সাথে ডিএ (DA), এইচআরএ (HRA), স্পেশাল এলাউন্স এবং পারফরম্যান্স ভিত্তিক ইনসেনটিভ প্রদান করা হবে।
২. শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা
আবেদনকারীকে অবশ্যই কম্পিউটার সায়েন্স/আইটি অথবা ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশনে স্নাতক (B.Sc/B.E/B.Tech) পাস হতে হবে। সকল পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০% নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক।
অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে (IT/IS Audit বা Security Testing) ন্যূনতম ২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
পছন্দনীয় সার্টিফিকেট: OSCP, CISA, CEH, বা ISO 27001 লিড অডিটর সার্টিফিকেট থাকলে অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে।
৩. বয়স সীমা (৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত)
সাধারণ প্রার্থীদের জন্য: সর্বোচ্চ ৩৫ বছর (জন্ম তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ বা তার পরে হতে হবে)।
তফসিলি জাতি/উপজাতি (SC/ST): সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫ বছরের ছাড় (সর্বোচ্চ ৪০ বছর)।
৪. আবেদন পদ্ধতি ও গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক। কোনো হার্ড কপি পাঠানোর প্রয়োজন নেই।
আবেদন শুরুর তারিখ: ০২ মার্চ ২০২৬
আবেদনের শেষ তারিখ: ০৯ মার্চ ২০২৬
আবেদন ফি: কোনো আবেদন ফি লাগবে না (সম্পূর্ণ বিনামূল্যে)।
আবেদনের ধাপসমূহ:
প্রথমে ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.southindianbank.com এ যান।
‘Careers’ সেকশনে গিয়ে ‘IS Audit Function Recruitment’ লিঙ্কে ক্লিক করুন।
প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফর্মটি পূরণ করুন।
ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড), স্বাক্ষর (কালো কালি) এবং একটি প্রফেশনাল রেজুমে (PDF ফরম্যাট) আপলোড করুন।
সাবমিট করার পর অ্যাপ্লিকেশন আইডিটি সংরক্ষণ করুন।
৫. নির্বাচন প্রক্রিয়া
যোগ্য প্রার্থীদের দুটি ধাপে নির্বাচন করা হবে:
আবেদনপত্রের ভিত্তিতে প্রাথমিক শর্টলিস্টিং।
শর্টলিস্ট করা প্রার্থীদের জন্য পার্সোনাল ইন্টারভিউ।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের কর্মস্থল হবে এরনাকুলাম (কেরালা), তবে প্রয়োজনে ভারতের যেকোনো শাখায় বদলি করা হতে পারে।
সতর্কতা: চাকরি সংক্রান্ত যেকোনো লেনদেন বা প্রতারণা থেকে দূরে থাকুন। শুধুমাত্র ব্যাংকের অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমেই আবেদন সম্পন্ন করুন।

বিজ্ঞানে গবেষণা থেকে সম্পাদনার জাদুকর: ব্যারাকপুরের তরুণ তুর্কি রঙ্গন ঘটকের জয়যাত্রা

0

ব্যারাকপুর, ২০২৬: বর্তমান প্রজন্মের কাছে যখন মোবাইল স্ক্রিনই একমাত্র বিনোদন, তখন একেবারে ভিন্ন ধারায় নিজের নাম উজ্জ্বল করছে ব্যারাকপুরের ১৭ বছর বয়সী তরুণ রঙ্গন ঘটক। ২০০৯ সালের ৯ জুন জন্ম নেওয়া এই কিশোর বর্তমানে ব্যারাকপুর রাষ্ট্রীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। তবে তাঁর পরিচয় শুধু একজন ছাত্র হিসেবেই সীমাবদ্ধ নেই; তিনি একাধারে লেখক, গবেষক, সম্পাদক এবং প্রকাশক।
সাহিত্যের আঙিনায় ছোট থেকেই পদচারণা
খুব অল্প বয়স থেকেই কলম ধরেছেন রঙ্গন। তাঁর প্রবন্ধ, কবিতা ও গল্প নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে বর্তমান, আনন্দবাজার এবং এইসময়-এর মতো প্রথম সারির দৈনিক সংবাদপত্রে। তাঁর প্রকাশিত একক গ্রন্থের তালিকায় রয়েছে বিজ্ঞানের জটিল বিষয় নিয়ে লেখা “Optics of Science” এবং কাব্যগ্রন্থ “কবিতা বিতান”। সম্প্রতি তাঁর ৬০টি কবিতার সংকলন “অন্তহীন কবিতা” পাঠকমহলে বেশ সাড়া ফেলেছে।
সম্পাদনা ও প্রকাশনায় অনন্য নজির
রঙ্গন ঘটক কেবল লিখতেই ভালোবাসেন না, নবীন ও প্রবীণ লেখকদের লেখা সংকলিত করতেও তিনি সিদ্ধহস্ত। তাঁর সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে:
চূর্ণীর ঢেউয়ে
মেটামরফোসিস
কালের বহুরূপী
এবার ওদের কথা
বন্দরের কিনারে
অন্তর্লীন প্রহর
বর্তমানে তিনি ‘PaperZen’ নামক একটি প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশক এবং ‘কুরঙ্গ সাহিত্য পত্রিকা’ নামক একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া ‘বর্ণ’ ও ‘মার্গদর্শন’ পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্বও তিনি নিপুণভাবে পালন করছেন।
সাংস্কৃতিক ও সাংগঠনিক নেতৃত্ব
রঙ্গন বর্তমানে “Bongo Shilpo Society” (বঙ্গ শিল্প সোসাইটি)-এর সভাপতি ও আহ্বায়ক। তাঁর এই সাংগঠনিক দক্ষতা এবং শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁকে প্রচ্ছদ শিল্পী ও গীতিকার হিসেবেও পরিচিতি দিয়েছে।
গুণীজনের সান্নিধ্য ও স্বীকৃতি
রঙ্গনের এই যাত্রায় পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের দিকপালরা। প্রখ্যাত সাহিত্যিক পবিত্র সরকার, সুবোধ সরকার, অভীক সরকার এবং অর্পিতা সরকার তাঁকে শুভকামনা জানিয়েছেন। এমনকি তাঁর বই প্রকাশিত হয়েছে বিশিষ্ট অভিনেতা গৌতম হালদার-এর হাত ধরে। অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ও তাঁর কাজের প্রশংসা করেছেন।
এক নজরে রঙ্গন ঘটকের কৃতিত্ব:
সম্পাদিত বই: ২০টি
একক গ্রন্থ: ৪টি
সম্পাদিত পত্রিকা: ৩টি
প্রকাশনা: PaperZen সহ ২টি সংস্থার প্রকাশক।
গবেষণা: বিজ্ঞান, সাহিত্য ও আধুনিক প্রযুক্তি।
ভবিষ্যতে নিজের পাঠকদের আরও ভালো কিছু উপহার দেওয়াই লক্ষ্য রঙ্গনের। বিজ্ঞান ও সাহিত্যের এই মেলবন্ধন আগামীর যুবসমাজের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে।