নিজস্ব প্রতিনিধি, নদীয়া: নদীয়া জেলার সীমান্ত শহর করিমপুরের এক প্রত্যন্ত গ্রাম বারবাকপুর । এই গ্রামেই বাস করেন এক লড়াকু নারী, যিনি একাধারে গৃহিণী, আদর্শ শিক্ষিকা, সমাজসেবী এবং বর্তমান সময়ের এক বলিষ্ঠ কবি— নাজনিনা সুলতানা । সম্প্রতি তাঁর নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘সম্প্রীতির কবিতা ২০২৫’ প্রকাশিত হয়েছে, যা বর্তমান সমাজের অস্থির সময়ে শান্তি ও মেলবন্ধনের এক অনন্য বার্তা বহন করছে ।
এক নজরে কবি ও তাঁর জীবন সংগ্রাম
১৯৮২ সালের ১৯শে মার্চ নদীয়া জেলার তেহট্টের পাথরঘাটা গ্রামে এক রক্ষণশীল কিন্তু শিক্ষিত সৈয়দ পরিবারে নাজনিনা সুলতানার জন্ম । তাঁর পূর্বপুরুষরা উচ্চশিক্ষিত হলেও পরিবারের মেয়েদের পড়াশোনা মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোতে পারেনি । কিন্তু নাজনিনা ছিলেন ব্যতিক্রম। পিতা সৈয়দ নজিবর রহমান ও মাতার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তিনি গ্রামের প্রথম মেয়ে হিসেবে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন । বর্তমানে তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে থানারপাড়া এইচএম হাই মাদ্রাসায় পার্শ্ব শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ।
‘সম্প্রীতির কবিতা ২০২৫’: এক নতুন প্রকাশ
নাজনিনা সুলতানার সাহিত্য জীবনের সূচনা স্কুল-কলেজের দেওয়াল পত্রিকা থেকে । ২০১২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘স্বপ্ন’ । এরপর ২০২২-এ ‘সম্প্রীতির কবিতা’ এবং ২০২৩-এ ‘একুশের কবিতা’ প্রকাশিত হয়ে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে ।
বর্তমান ‘সম্প্রীতির কবিতা ২০২৫’ গ্রন্থটি তাঁর পূর্বের চারটি বইয়ের বাছাই করা কবিতা এবং নতুন কিছু অপ্রকাশিত কবিতার এক অপূর্ব সংকলন । বইটিতে ‘স্বপ্ন’, ‘একুশের কবিতা’ ও ‘প্রত্যক্ষ’ কাব্যগ্রন্থের নির্যাস পাওয়া যাবে ।
- প্রকাশক: ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টার পাবলিকেশন (বইচা, এগরা, পূর্ব মেদিনীপুর) ।
- বিনিময় মূল্য: ১৬০ টাকা ।
- বিশেষত্ব: বইটিতে ‘অভয়া’, ‘অক্সিজেন’, ‘চাচা ফকির’ ও ‘পরিযায়ী’-র মতো সমসাময়িক ও মানবিক আবেগপূর্ণ কবিতা স্থান পেয়েছে ।
পুরস্কার ও সম্মাননা
সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য নাজনিনা সুলতানা একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন । তাঁর প্রাপ্ত পুরস্কারের তালিকায় রয়েছে:
- বঙ্গ নারী স্বর্ণমুদ্রা সম্মান (পশ্চিমবঙ্গ সাহিত্য মঞ্চ থেকে) ।
- দুই বাংলার কবি রত্ন সম্মান ।
- চাতক অনন্য নারী সম্মাননা ২০২৩ ।
- জেনারেশন আইকন এওয়ার্ড এবং বঙ্গ কৃতি সম্মান ।
সমাজসেবা ও সুযোগ্য নেতৃত্ব
শুধু কলম ধরে নয়, নাজনিনা সুলতানা সমাজ সংস্কারেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন । তিনি বর্তমানে তাঁর ভাইদের সহযোগিতায় ‘গ্রীনভিউ ইনস্টিটিউট এন্ড গার্লস মিশন’ নামে একটি বেসরকারি বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন, যা পিছিয়ে পড়া এলাকার দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার আলো দেখাচ্ছে । এছাড়া তিনি সাহিত্য পত্রিকা ‘প্রকৃতি কন্যা’-র সম্পাদনাও করছেন ।
সাফল্যের নেপথ্যে পরিবার
নাজনিনা সুলতানার এই দীর্ঘ সাহিত্য যাত্রায় তাঁর স্বামী সাইফুল ইসলাম (প্রাণী বন্ধু ও সমাজসেবী) ছায়ার মতো পাশে রয়েছেন । তাঁর সুযোগ্য কন্যা সুহানা ইসলাম এবং পুত্র সৃজন ইসলামকে নিয়ে তাঁর ভরা সংসার ।
ধর্ম ও জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে নাজনিনা সুলতানার কবিতা ও জীবন আগামী প্রজন্মের নারীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম ।



