কলকাতা: সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বদলেছে গল্পের ঘরানা, বদলেছে পাঠকদের রুচি। সেই আধুনিক মনন আর ধ্রুপদী সাহিত্যের আভিজাত্যকে একই সমান্তরালে নিয়ে চলছেন বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম প্রতিভাবান লেখক মলয় হাজরা। পেশায় অর্থনীতিবিদ হয়েও নেশার টানে তিনি নিজেকে সঁপে দিয়েছেন সাহিত্যের আঙিনায়। বিশেষ করে রহস্য, রোমাঞ্চ এবং কল্পবিজ্ঞানের (Science Fiction) জগতে তাঁর পদচারণা আজ পাঠকমহলে এক চর্চিত বিষয়।
অর্থনীতি থেকে সাহিত্য: এক বৈচিত্র্যময় সফর
মলয় হাজরা পেশাগতভাবে অর্থনীতির জটিল তত্ত্ব নিয়ে কাজ করলেও, তাঁর হৃদস্পন্দন জুড়ে রয়েছে সাহিত্য। তবে তিনি কেবল গতানুগতিক ধারার লেখক নন; বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা আর কৌতূহল তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তাঁর লেখায় যেমন যুক্তির বাঁধুনি থাকে, তেমনই থাকে কল্পনার মায়াবী বিস্তার। কল্পবিজ্ঞানের গল্প দিয়ে তাঁর এই দীর্ঘ সফরের সূচনা হয়েছিল, যা আজ ডালপালা মেলে বিভিন্ন অডিও প্ল্যাটফর্ম এবং রেডিওর স্টুডিও পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। উল্লেখ্য যে, তাঁর সৃজনশীল গল্পগুলো আজ কার্টুন বা অ্যানিমেশন হিসেবেও দর্শকদের সামনে উঠে আসছে, যা তাঁর বহুমুখী প্রতিভারই প্রমাণ দেয়।
২০২৫: সাফল্যের এক মাইলফলক বছর
বিগত বছরটি লেখক মলয় হাজরার ক্যারিয়ারে এক বিশেষ মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। প্লাসেন্টা পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর প্রথম একক ভৌতিক গল্প সংকলন ‘ঘরের কোণে অন্ধকার’। অতিপ্রাকৃত রহস্য আর হাড়হিম করা বর্ণনায় সমৃদ্ধ এই বইটি পাঠকদের মধ্যে ব্যপক সাড়া ফেলেছে। ঠিক একই সময়ে, কলকাতা বইমেলায় প্রতিভা ম্যাগাজিনের বিশেষ সহযোগিতায় নভোনীল প্রকাশনী থেকে আত্মপ্রকাশ করেছে তাঁর আরও একটি অনবদ্য সৃষ্টি ‘ভিনগ্রহের আলো’। প্রেম ও বন্ধুত্বের এক মহাজাগতিক আখ্যান নিয়ে সাজানো এই বইটি কিশোর থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সের পাঠকের মন জয় করেছে।
পত্রপত্রিকা ও জনপ্রিয় মাধ্যমে বিস্তৃতি
মলয় হাজরার লেখনী আজ আর কেবল বইয়ের মলাটে সীমাবদ্ধ নেই। জনপ্রিয় ওয়েব পোর্টাল ‘গল্পকুটির’, ‘আগামীর আঙিনা’ সহ একাধিক নামী সাহিত্য পত্রিকায় তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি পাঠকদের প্রতিক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর গল্পের শব্দচয়ন যেমন আধুনিক, তেমনই বর্ণনার শৈলী অত্যন্ত সাবলীল, যা একজন পাঠককে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আচ্ছন্ন করে রাখে।
আগামী চমক: মৃণাল সেনের গোয়েন্দাগিরি
রহস্য প্রেমীদের জন্য মলয় হাজরা নিয়ে আসছেন এক নতুন রোমাঞ্চ। বর্তমানে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন তাঁর নতুন সৃষ্টি ‘মৃণাল সেনের গোয়েন্দাগিরি’ সিরিজ নিয়ে। গোয়েন্দা গল্পের সেই চিরাচরিত স্বাদকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে কীভাবে তিনি পরিবেশন করেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সাহিত্য মহলে কৌতূহল দানা বেঁধেছে। গোয়েন্দা মৃণাল সেনের তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর রহস্য সমাধানের ধরন পাঠকদের নতুন এক অভিজ্ঞতার স্বাদ দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলা সাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধ করার এই যে লড়াই, সেখানে মলয় হাজরা এক শক্তিশালী সেনানী। বিজ্ঞানমনস্কতা আর সৃজনশীলতার এই মেলবন্ধন আগামী দিনে বাংলা সাহিত্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে—এমনটাই আশা করছেন বিদগ্ধ পাঠকমহল।



