নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঁথি: ফাল্গুনের বসন্ত বাতাসে এখন ভক্তির সুর ছড়িয়ে পড়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি মহকুমার সাবাজপুট এলাকায়। স্থানীয় ক্লাব ‘বন্দেমাতরম্’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ৯ দিন ব্যাপী ১০০ প্রহরব্যাপী হরিনাম মহাযজ্ঞানুষ্ঠান, মেলা ও প্রদর্শনী এ বছর ৫৬তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। আজ উৎসবের সপ্তম দিনেও ভক্তদের ঢল ছিল চোখে পড়ার মতো। এ বছরের মূল আকর্ষণ হলো ৩৫৬ শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর শুভ আগমন উপলক্ষ্যে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। সাবাজপুট ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অগণিত মানুষ প্রতিদিন রাধা-কৃষ্ণের নাম সংকীর্তনে শামিল হয়ে এলাকাটিকে এক খণ্ড নবদ্বীপে পরিণত করেছেন।
এই মহতী অনুষ্ঠানের নেপথ্যে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন আয়োজক কমিটির কর্ণধাররা। উৎসবের সভাপতি সুপ্রকাশ গিরির নেতৃত্বে গোটা আয়োজনটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান কারিগর হিসেবে নজর কেড়েছেন সম্পাদক রামগোবিন্দ দাস। তাঁর সুদক্ষ পরিচালনায় কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, উৎসবের আঙিনাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে সমাজসেবার এক বিশাল ক্ষেত্র। রামগোবিন্দ বাবু জানান, এই উৎসব কেবল নাম সংকীর্তন বা মেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মূল লক্ষ্য হলো উৎসবের মাধ্যমে অর্জিত শক্তি ও সহযোগিতাকে সমাজকল্যাণে কাজে লাগানো। ইতিপূর্বেও তিনি বৃদ্ধাশ্রম ও অনাথ আশ্রমের অগণিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং বর্তমানেও বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে লিপ্ত রেখেছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলতে গিয়ে সম্পাদক রামগোবিন্দ দাস আরও জানান যে, এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে এই মঞ্চকে গড়ে তোলাই তাঁর আগামী দিনের স্বপ্ন। স্থানীয় মন্দিরের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং আর্তমানবতার সেবায় ক্লাব ‘বন্দেমাতরম্’ যেন আগামী দিনে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে, সেই লক্ষ্যে তাঁরা অবিচল। প্রতিদিন সান্ধ্যকালীন সাংস্কৃতিক মঞ্চে রাঘব চট্টোপাধ্যায় ও আকুল নাইটের মতো প্রখ্যাত শিল্পীদের উপস্থিতি উৎসবের জৌলুস বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। একদিকে আধ্যাত্মিক নাম সংকীর্তন আর অন্যদিকে সমাজসেবার অঙ্গীকার— এই দুইয়ের মেলবন্ধনে সাবাজপুটের এই বসন্ত উৎসব আজ পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় ও আদর্শ উৎসবে রূপান্তরিত হয়েছে।
সাবাজপুটে ভক্তি ও সমাজসেবার মহামিলন মহাপ্রভুর আগমনে মুখরিত ৫৬তম বর্ষের বসন্ত উৎসব
Date:



