নিজের ২৪তম জন্মবার্ষিকীকে ঘিরে একাধিক মানবসেবামূলক কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছেন বীরভূমের যুব আইকন দেবরাজ সাহা। সমাজের অসহায়, অবহেলিত ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার এক ইতিবাচক বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
উদ্যোক্তার তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এই সমস্ত কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা নেই। পাশাপাশি কোনো সংস্থা, প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগতভাবে কারও কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তাও গ্রহণ করা হয়নি। সম্পূর্ণ স্বাধীন উদ্যোগ হিসেবেই এই মানবসেবামূলক কার্যক্রমগুলি আয়োজিত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
জানা যায়, সম্প্রতি কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত দেবরাজ সাহার লেখা গল্পগ্রন্থ “সর্বমঙ্গলা” ইতিমধ্যেই পাঠকমহলে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। পাঠকদের আগ্রহ ও ভালোবাসার ফলে বইটির বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই বইয়ের বিক্রয়লব্ধ অর্থের একটি বড় অংশ সমাজসেবামূলক কাজে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, বইটির বিক্রয়লব্ধ অর্থের প্রায় ৮০ শতাংশই বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় করা হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে দেবরাজ সাহা জানিয়েছেন, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এমন উদ্যোগ নেওয়ার ভাবনা এসেছে। তাঁর কথায়, “সমাজ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। তাই নিজের সামর্থ্যের মধ্যেই সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি ছোট্ট চেষ্টা করছি।” ভবিষ্যতেও এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ইচ্ছার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
এছাড়াও জানা গেছে, এই কর্মসূচিগুলোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও কার্যক্রম সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও সহযোগিতায় যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে আমাদের চ্যানেল ইন্টারন্যাশনাল নিউস্টার রয়েছে। তাঁদের মাধ্যমে এই উদ্যোগগুলোর খবর আরও বৃহত্তর পরিসরে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

নিজের জন্মদিনকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই বহু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বর্তমান সময়ে যখন তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ ভোগবাদী সংস্কৃতির দিকে ঝুঁকছে, তখন এই ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে এক ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক বার্তা বহন করে।
সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বার্তা নিয়ে জন্মদিনকে মানবসেবার সঙ্গে যুক্ত করার এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে এক প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে এমনটাই মত দেবরাজের শুভাকাঙ্ক্ষীদের।



